ভূড়ি সমাচার

istiak

ইশতিয়াক নাসির, স্ট্যান্ডআপ কমেডিয়ান

দুপুরে খেয়ে আয়েস করে বিছানায় শুয়ে ভুঁড়িতে হাত বোলাতে বোলাতে একটু ফেসবুকে ঢুকেছিলাম। তখনই খবরটা নজরে পড়ল। কলকাতার এক লোক নাকি আদালতে মামলা করে দিয়েছে, পুলিশের কেন ভুঁড়ি থাকবে এই নিয়ে।পুলিশের ভুঁড়ি নিয়ে আমাদের দেশেও বিস্তর অভিযোগ আছে। তা মামলা করা খারাপ কিছু না, উকিলের পকেটে কিছু টাকা ঢুকবে, তার ভুঁড়িটাও আরেকটু বড় হবে সমস্যা কি? কিন্তু ভুঁড়ি কি শুধু পুলিশেরই থাকে নাকি? ভুঁড়ি তো দেখি আমলা থেকে কেরানী, মুদি দোকানদার থেকে মহাজন সবারই থাকে। আগের দিনে রাজা বাদশাদেরও থাকত। তাহলে শুধু পুলিশকে নিয়ে কথা হবে কেন? একটা কারন হতে পারে লোকের নজরে পড়া! নজরে পড়বেই না কেন, কথায়ই তো বলে মাছের রাজা ইলিশ, আর জামাইয়ের রাজা পুলিশ। এখন কারো জামাই যদি পুলিশে চাকরী করে, সেতো পাড়া প্রতিবেশীর নজরে পড়বেই।ভুঁড়ি আমারও আছে, এই নিয়ে নানা লোকের নানা রকম কথাও আছে।আমার ভুঁড়ি নিয়ে ভাই তোমাদের এত মাথাব্যাথা কিসের? ভুঁড়ি সৃষ্টিকর্তার দান, তিনি মহান! ভুঁড়ি দেখেই বোঝা যায় কে কত সুখে আছে। ভুঁড়ি সবার হয়না, সবার কপালে সুখ সয়না। যারা নিন্দুক তারা বলবে, আমি জিমে যাওয়ার ভয়ে ভুঁড়ির পক্ষে সাফাই গাইছি। কিন্তু না, আমার জিমে যাওয়ার দরকার পড়েনা। এমনিতেই আমার  সিক্স প্যাক আছে পেটে, জাস্ট দামী জিনিস বলে একটা মোটা ভুঁড়ির আবরণে ঢেকে রেখেছি। আর ভুঁড়ি থাকলেই কি? এমনতো না যে, ভুঁড়ির জন্য কোন মেয়ে আমার সাথে কথা বলেনা! বরং, মেয়েরা খুশী হয়, সিকিউরড ফিল করে যে আমি অন্তত ‘জিরো’ ফিগার নিয়ে তাদেরকে কথা শোনাবো না।বরং, ওদের প্লেটে আরো একটা কেকের টুকরা বেশি তুলে দিয়ে বলি, ‘মেয়েরা একটু নাদুস নুদুস না হলে ভালো দেখায়? শুকনা তো পাটকাঠিও হয়!’ মেয়েরাও খুশি, আমিও খুশি! তবে অবিবাহিত মেয়েদের চেয়ে বিবাহিত মেয়েদের খুশি করতে ছেলেদের ‘টেকনিক্যাল কষ্ট’ একটু বেশি হয়। যেমন; এক ভদ্রলোক সেদিন জানালেন, ‘আমি বলছিনা যে আমার বউ মোটা, তবে পৃথিবীর সবচেয়ে মোটা মহিলাদের তালিকায় তার নাম প্রথম তিন জনের মধ্যে থাকবে’! তাও ভালো, জিজ্ঞেস করে জানলাম ভদ্রলোক বারো বছর ধরে সংসার করছেন। আজকালকার রিলেশনগুলোও ভূড়িওয়ালা লোকেদের মত, বেশিরভাগই কোন কাজ করে না!দুদিনেই প্রেম, আবার দুদিনেই ব্রেক আপ। তবে, আমার পরিচিত এক লোকের কিন্তু সংসার ভেংগে যায় যায় অবস্থা ছিল। উনি বলছিলেন, ‘আমাদের ৫ বছরের দ্যাম্পত্য জীবনে প্রায় ভেঙ্গে যেতে বসেছিল’

‘তাই নাকি? তারপর কি করলেন?inside chobi-jan-4

‘ঠিক করলাম আমরা দুজন মিলেই খুঁজে বের করবো কার কি সমস্যা আর সেটার সমাধানও করবো। তারপর ও আমার জন্য কিনে আনল ভায়াগ্রা আর আমি ওর জন্য দৌড়ানোর ট্রেডমিল’

এবার আমার কথা বলি।একদিন বাস স্ট্যান্ডে দাঁড়িয়ে আছি। ছোটবেলার এক বন্ধুর সাথে দেখা। আমাকে দেখে বলল, কিরে এত মোটা হয়ে যাচ্ছিস, তাও ডাক্তার দেখাচ্ছিস না? বললাম,

  • দূর! আমি এমন কি মোটা হলাম?
  • ঐ দ্যাখ, তোর ছায়ায় বসে চারজন তাস খেলছে!

শুধু তাই না, আমার ড্রাইভিং লাইসেন্সের ছবির নিচে লেখা ছিল, বাকী ছবি পরের পাতায়!

তো এই ভুঁড়ি নিয়ে একবার ডাক্তারের কাছে গিয়েছিলাম। বললাম,

  • স্যার, আমি রোগা হতে চাই, কি করবো?
  • সকাল বেলা উঠে জগিং করুন
  • না ডাক্তার সাহেব, এর আগে অনেক ট্রাই করেছি। আমি পারবো না।
  • তাহলে আপনি খাওয়া কমিয়ে দিন
  • না না তাও সম্ভব নয়
  • তাহলে এই নিন তিনটি বড়ি
  • আচ্ছা, তা কখন কখন খাবো?
  • খাওয়া লাগবেনা। প্রতিদিন সকাল বিকাল এগুলা মাটিতে ফেলবেন, আর নিচু হয়ে তুলবেন।

তবে অনেক বছর ধরে ডায়েটিং করার পর মনে হলো স্বাস্থ্য কমানোর একটাই উপায় আছে। মোটা লোকেদের সাথে চলাফেরা। কিন্তু বললেই কি আর হয়? মিডিয়াতে যেহেতু কাজ করি, সব রকম কাজের জন্যই নিজেকে প্রস্তুত রাখতে হবে। এই যেমন সেদিন ফেসবুকে একটা বিজ্ঞাপন দেখে চোখ আটকে গেল।

“একটা নতুন সিনেমার জন্য নায়ক নায়িকা প্রয়োজন

যোগ্যতাঃ দুজনকেই ভীষণ মোটা হতে হবে

সিনেমার নামঃ “মিশনারি ইম্পসিবল”

ভাবছি অডিশন দিতে যাব কিনা! ডিকশনারিতে অসম্ভব বলে কোন শব্দ রাখা যাবেনা।

ছবি: গুগল