ভৌতিক বিয়ে: ভিডিও সহ

istiak

ইশতিয়াক নাসির, স্ট্যান্ডআপ কমেডিয়ান

কোন অনলাইন নিউজ পোর্টালে যদি এমন একটা হেড লাইন চোখে পড়ে, আপনি কি একবারও ক্লিক করে দেখবেন না? বুকে হাত দিয়ে (শুধু ছেলেদের জন্য বলছি) বলতে পারবেন যে একবারও আপনার মন আকুপাকু করবে না জানার জন্য কি আছে ঐ নিউজে? এমন নিউজ তো প্রায়ই চোখে পড়ে। কিন্তু আমি যে হেড লাইনের কথা বললাম মানে ভৌতিক বিয়ের ব্যাপারটা, সেটা কিন্তু রীতিমতো ভয়ের কারন হয়ে দাঁড়িয়েছে আমার জন্য। আমি জীবনে ভূতের সিনেমা দেখে ভয় পেয়েছি বলে মনে পড়েনা, বরং  হাসি পায়। কিন্তু ইদানীং এই ভৌতিক বিয়ের কোন ভিডিও অনলাইনে ছড়িয়ে  পড়বে কিনা এই ভয়ে থাকি। না, ভিডিও ফাঁস হওয়ার ভয় মানেই আবার ‘ঐসব’ ভিডিও না। আমি বলছিলাম যেসব বিয়েতে আমি আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে অংশগ্রহণ করেছিলাম, সেইসব বিয়ের অনুষ্ঠানের কোন ভিডিও। বিশেষ করে খাওয়ার টেবিলে বসার পর যখন মুরগীর ঠ্যাঙ টা মুখে নিয়ে চাবাচ্ছি অথবা একটা বেকায়দায় ফেলে দেয়া মাটনের টুকরা দাঁত দিয়ে সর্বশক্তি প্রয়োগ করে ছেঁড়ার চেষ্টা করছি ঐ মুহূর্তের ভিডিও। উফ..ফ!!! কি ভয়ংকর সে দৃশ্য!  আপনারা কি পরে কেউ দেখেছেন সেই অল্প আলোতে শ্যুট করা বিয়ের ভিডিওগুলো??  গরমে….ঘামে চকচক করা মুখ, আশেপাশে এত এত মানুষ, তার মধ্যে আপনি প্লেট ভর্তি মাংসে ঝোল নিয়ে হাতে মুখে মাংসের তেল লাগিয়ে খাচ্ছেন, আর একজন ভিডিও ক্যামেরা নিয়ে সেই দৃশ্য ভিডিও করে যাচ্ছে। আমি ভয়ে আছি আমার এমন ভিডিও আবার কবে কে অনলাইনে ছেড়ে দেয়! কারন মুরগীর ঠ্যাং চিবাতে আমার খুব ভালো লাগে (বিয়ে বাড়িতে যেয়ে নাকি হাড় চিবাতে হয়না, লোকে ‘ছোটলোক’ ভাবে)। তা সে যে যাই ভাবুক, আমার তাতে কি? আমি ঠ্যাং চিবাতে পারলেই খুশি। কিন্তু একটা জিনিষ বুঝতে পারিনা, এই খাওয়ার দৃশ্য ভিডিও হয় কার খুশির জন্য? আপনি যদি জবাব দেন যে বিয়ের পুরো অনুষ্ঠানটা স্মৃতিতে ধরে রাখার জন্য, তাহলে আমার দ্বিতীয় প্রশ্ন, বাসর রাতটাও তো বিয়ের অংশ….তার ভিডিও??? যাই হোক, আর ওদিকে না তাকাই। অবশ্য, তাকিয়ে লাভটাই বা কি? গ্রামদেশে ফুলশয্যা হলে বেড়া বা টিনের ঘরে দুই একটা ফুটো থাকে, সেখানে উকিঝুকি মারলে একটা চান্স থাকে, শহরের ফ্ল্যাট কালচারে ওসব মজা এখন একেবারেই নাই হয়ে গেছে। আর শহরের ছেলেমেয়েরা এখন অনেক উদার মন মানসিকতা নিয়ে চলে।6779-Consumer-Electronics-Tv-Video-Home-Audio-Tv-Video-Audio-... ওসব উঁকিঝুঁকি মারার কথা বাদ দিয়ে নেটে সার্চ করুন, ভাগ্য ভালো হলে হাই ডেফিনেশন ভিডিও পেয়ে যেতে পারেন। তো হ্যা…বলছিলাম বিয়ে বাড়ির কথা। প্রচলিত বিয়ের অনুষ্ঠানে ‘গিফট’ দিয়ে খাওয়াটাই নিয়ম। এসব গিফট দেয়া-নেয়া নিয়ে আয়োজক এবং অতিথি এই দুই পক্ষের মধ্যেই মনোমালিন্য দেখেছি অনেকবার। ব্যাপারটা ঘটে আসলে টাকা দিয়ে হোটেলে খাবার মতই, পার্থক্য এখানে যারা খায় তারা টাকার বদলে একটা গিফট সাথে নিয়ে যায়। এখন ঝামেলা যেটা হয়, অতিথি গিফট অনুযায়ী ভালো খাওয়া বা খাতির না পেলে মন খারাপ করে আবার যিনি আয়োজনকারী তিনি খাওয়া অনুযায়ী গিফট না পেলে মন খারাপ করেন। মানুষ হিসেবে আমরা কতটা কপটতা এবং মিথ্যার অভিনয় করতে পারি সেটা দেখা যায় একটা বিয়ের একেবারে শুরু থেকে মানে দেখাদেখির পর্যায় যখন চলে। যাই হোক, অত সিরিয়াস ব্যাপারে কথা বলার জন্য অন্যরা আছেন তারা কথা বলবেন, আমি শেষ করি প্রখ্যাত স্ট্যান্ড আপ কমেডিয়ান মোশাররফ ইয়াফি’র (ইয়াফি ভাই এর অনুমতি ছাড়াই লিখছি) একটা জোক দিয়ে। আগের দিনের বাংলা সিনেমায় একটা দৃশ্য খুব কমন ছিল। কোন ফুলশয্যার দৃশ্য থাকলেই দেখা যেত নায়িকা মাথায় ঘোমটা টেনে বসে আছে, কপালে সাদা ফুটিফুটি আঁকা। নায়ক ধীরে ধীরে ঘরে ঢুকবে, দরজা আটকাবে, আস্তে আস্তে বিছানায় এসে বসবে, বউএর ঘোমটা খুলবে, তারপর আলতো করে মুখটা উঁচু করে তুলে ধরে জিজ্ঞেস করবে, “ওগো, তুমি কি আমায় পেয়ে সুখী?”…… আর আজকালকার ফুলশয্যার রাতে বর ঘরে ঢুকে প্রথমেই বউকে জিজ্ঞেস করে, “ওগো, তুমি বিয়ের আগে যা করার করেছো, কিন্তু কোন ভিডিও টিডিও নাই তো??? “