ভ্যান গঘের বোন…

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

ভিনসেন্ট ভ্যান গঘের বড় বোন আনা ১৯০৯ সালে ছোট ভাই থিও‘র স্ত্রীকে একটি চিঠিতে লিখেছেন, ‘কী আশ্চর্য ভাই যখন উইলিমেইনকে ছবিটা উপহার দেয় তখন আমরা কেউ কি ভাবতে পেরেছিলাম এত দামে এই ছবি বিক্রি হবে আর সেই টাকা দিয়ে উইলের স্যানেটেরিয়ামের বিশাল খরচ মেটানো সম্ভব হবে!’

তরুণ ভ্যান গঘ

ছবি এঁকে এক জীবনে খ্যাতি আর বিত্তের দেখা পাননি। শেষ জীবন কেটেছে মানসিক হাসপাতালে। নিজের কান কেটে ভালোবাসার নিদর্শন হিসেবে উপহার দিয়েছিলেন এক পতিতাকে। আর শেষে নিজেই নিজের বুকে পিস্তল ঠেকিয়ে আত্মহত্যা করেছিলেন ভ্যান গঘ।অথচ তাঁরই সবচেয়ে ছোট বোন উইলিমেইন প্রায় ৪০ বছর মানসিক ভারসাম্য হারিয়েএক স্যানেটরিয়ামের স্থায়ী বাসিন্দা হয়েছিলেন সে খবরটা এত দিনে আলোর মুখ দেখলো।

ভ্যান গঘের পরিবারের এমনি আরও অনেক অন্তরঙ্গ কথা একজায়গায় করে একটা বই প্রকাশ করতে যাচ্ছেন ডাচ শিল্প গবেষক উইলেম জান ভেরলিনডেন। ভ্যান গঘের তিন বোন এবং পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের লেখা প্রচুর চিঠি নিয়ে তিনি গবেষণা করে বইটি লিখেছেন। এই এপ্রিলে প্রকাশিতব্য বইটির নাম দেয়া হয়েছে ‘দ্য ভ্যান গঘ সিস্টার্স’।

কতগুলো ছবি এঁকে ভ্যান গঘ উপহার দিয়েছিলেন বোনকে? ১৭টি ছবি। আর সেই  ছবিগুলো ভ্যান গঘের মৃত্যুর পর একটা একটা করে বিক্রি করা হয়েছিলো বোনের চিকিৎসার ব্যয় মেটাতে।ভ্যান গঘ বুকে রিভলবার ঠেকিয়ে ট্রিগার টেনে দেন ১৮৯০ সালের ২৭ জুলাই। এই ঘটনার দু’দিন পর ২৯ জুলাই পৃথিবীর এই অবিস্মরণীয় শিল্পী পৃথিবীকে বিদায় জানান। কিন্তু তাঁর ছোট বোন সেই স্যানেটরিয়ামে বেঁচে ছিলেন ১৯৪১ সাল পর্যন্ত। বড় বোনের চিঠির বিবরণ থেকে জানা যায়, স্যানেটরিয়ামের নার্সদের জন্য কাপড় সেলাই করে আর বারান্দায় বসে থেকে কাটতো তার পাগল হয়ে যাওয়ার দিনগুলি।

আনা ইংল্যান্ডে একজন শিক্ষকের সহকারী হিসেবে কাজ করতেন।১৯০৫ সালের পর থেকে ভ্যান গঘের আঁকা ছবিগুলো ধীরে ধীরে চিত্র সমালোচকদের মনযোগ আকর্ষণ করতে শুরু করে। সেই সময়ে অ্যামস্টারডামের একটি চিত্রশালায় ভ্যান গঘের চিত্র প্রদর্শনী দেখে চমকে ওঠে সবাই। ১৯০৯ সালে আনা চিঠিতে লিখেছেন,‘ভাই থিও সব সময় ভিম্বাস করতো এমন একটি সময় আসবে যখন ভ্যান গঘের ছবি পৃথিবীতে বিষ্ময় জাগাবে।কিন্তু সেটা যে এভাবে ঘটবে কখনো ভাবিনি!’ গবেষক উইলেম তার বইতে জানাচ্ছেন, ভ্যান গঘের উপহার দেয়া ছবি বিক্রি করে তাঁর বোনদের জীবন চলতো। তখন ভ্যান গঘ ধীরে ধীরে বিখ্যাত হয়ে উঠছেন আর ওপরে উঠছে তাঁর ছবি বিক্রির টাকার অঙ্কের পারদ। ওই সময়ে শিল্পীর বোনেরা ভাইয়ের দেয়া ছবিগুলো বিক্রি করতে শুরু করেন উপায়হীন হয়ে।ভ্যান গঘ তাঁর শিল্পকর্ম দিয়ে বোনদের এভাবে সাহায্য করে গেলেন।

এই চিঠিগুলো এখন রয়েছে অ্যামস্টারডামে ভ্যান গঘ জাদুঘরে। গবেষকরা মনে করছেন, ভ্যান গঘের বোনদের লেখা এসব চিঠি এই অনন্য চিত্রকরের জীবনের ওপর ভিন্ন কৌণিকে আলো ফেলবে। আর তাতে শিল্পীর জীবেনের অন্য আরেকটি দিক প্রকাশিত হবে।

প্রাণের বাংলা ডেস্ক
তথ্যসূত্রঃ দ্য গার্ডিয়ান
ছবিঃ গার্ডিয়ান, গুগল


প্রাণের বাংলায় প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। লেখা সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় প্রাণের বাংলা বহন করবে না। প্রাণের বাংলার কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না, তবে সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করতে পারবেন । লেখা সংক্রান্ত কোনো অভিযোগ অথবা নতুন লেখা পাঠাতে যোগাযোগ করুন [email protected]


Facebook Comments Box