ভ্যালেনটাইন’স ডে

istiak

ইশতিয়াক নাসির, স্ট্যান্ডআপ কমেডিয়ান

প্রথমে ‘রোজ ডে’ মানে গোলাপ দিতে হবে…… দিলাম!

তারপর ‘প্রপোজ ডে’ মানে প্রস্তাব দিতে হবে………দিলাম!

তারপর ‘চকোলেট ডে’ মানে চকোলেট দিতে হবে……দিলাম!

তারপর ‘টেডি ডে’ মানে টেডি বিয়ার দিতে হবে……দিলাম!

তারপর ‘প্রমিজ ডে’ মানে প্রতিজ্ঞা করতে হবে……করলাম!

তারপর ‘হাগ ডে’ মানে ………ধরলাম!

তারপর ‘কিস্‌ ডে’…… ইয়ে মানে……তাও করলাম!

তারপর ‘ভ্যালেনটাইনস ডে’ মানে………এত কিছু করার পর বাকীটা আপনার ইচ্ছা!

দুঃখের বিষয় হলো ইচ্ছা থাকলে অন্য সময় উপায় হলেও, শুধু এই দিন উপলক্ষ্যে যদি মনে কোন শখ জাগেও তা পূরন হবার সম্ভবনা খুব কম। বেশীরভাগ ক্ষেত্রেই লাভ ক্যান্ডি খাওয়ার বদলে ছ্যাঁক খাওয়ার ঘটনা বেশী ঘটে। মন জোড়া লাগার বদলে জোড়া মন ভাঙ্গে বেশী। কারনটা কি?

প্রথমেই গোলাপ দিতে হবে? কেন পৃথিবীতে আর কোন ফুল নাই? গোলাপ তো বাজারের সবচেয়ে সস্তা ফুল!৫/১০ টাকায় ফুলের দোকানে পাওয়া যায়।তাও কষ্ট করে যোগাড় করার কোন ব্যাপার নেই।এত সস্তা ফুল দিয়ে কিভাবে আশা করেন একটা মানুষের মন জয় করার।

তারপর আপনি প্রপোজ করবেন। কাউকে কিছু সস্তা গোলাপ দিলেন, তারপরেই তাকে প্রপোজ করবেন আর সে রাজী হয়ে যাবে?ব্যস্‌……এত সস্তা??!!আর যাদের আগে থেকেই রিলেশন আছে, তারা কি করবে? একটা ছেলে একটা মেয়েকে কিসের প্রপোজাল দেবে? বন্ধুর ফাঁকা ফ্ল্যাটে যাওয়ার?

তারপর আপনাকে দিতে হবে চকোলেট! বাহ, খুব ভালো কথা। তা, এটা কি শুধুই চকোলেট না চকোলেট ফ্লেভারের অন্য কিছু হলেও হবে?

এরপর টেডি ডে। বুঝলাম, কিন্তু প্রপোজ ডে’তেই যদি না করে দেয় তাহলে ছ্যাবলার মত পকেটের পয়সা খরচ করে চকোলেট আর টেডি কেনার কি দরকার বুঝলাম না।

এর পর প্রমিজ ডে। কিসের প্রমিজ? ‘আমাদের মধ্যে যাই হোক প্লিজ বাইরের কেউ যেন না জানে!এই তো, নাকি? অবশ্য এটা মেয়েদের কথা। তারা প্রেমের ক্ষেত্রে গোপনীয়তা পছন্দ করে। আর ছেলেদের মধ্যে যারা প্রপোজ করার পরও ছ্যাকা খায়, তারা এমনিতেই সব কিছু চেপে যায়।‘বুঝলি দোস্ত, আসলে ঐ মাইয়ারে আমি কিছু বলিই নাই, দেখলাম আরেক পোলারে লইয়া রিকশায় ঘুরতাসে……যা বুঝার বুজছি!’

এর পর হাগ ডে! কি সুন্দর একটা নাম। এই দিবস পালন করবো এবং রাস্তায় যাকে পাবো তাকেই একটা করে হাগ দিয়ে দেবো নাকি? পরে পাবলিক  গনধোলাই দিয়ে আমার হাগু বের করে ফেলুক আর কি!

এরপর ‘কিস্‌ ডে’। হুম…ম, বুঝলাম। কেউ যদি হাগ দিলে মাইন্ড না করে, কিস্‌ তো করাই যায়।

এরপর ‘ভ্যালেনটাইন’স ডে’। ফুল দিয়ে, কিছু চকোলেট কিনে আর একটা টেডি বিয়ার গিফট্‌ করলেই প্রমিজ করে বসবে, তারপর হাগ, কিস্‌, তারপর…….ভালবাসার জন্য আলাদা করে যখন দিবস আছেই তখন কোন লেভেলের ভালবাসা করবেন সেটা পরিবেশ, পরিস্থিতি অনুযায়ী ঠিক করতে পারেন!

বাহ, কি চমৎকার করে হিসেব মিলানো। বলি, পৃথিবীতে প্রেম ভালবাসা এত সস্তা হলো কবে থেকে? কত চেষ্টা করে, সাধনা করে মানুষের মন পাওয়া যায়না, আর এই ফর্মূলা কার মাথা থেকে আবিষ্কার হয়েছে? সাত দিনেই ফুল কোর্স! এই প্যাকেজ প্রোগ্রাম আগের দিনে চালু থাকলে তো আর দেবদাস বলে কোন চরিত্রই তৈরি হতোনা। কিন্তু রাস্তার ধারের ‘৩০ দিনে ইংলিশ শিখুন’ বইয়ের চ্যালেঞ্জ আর ‘৭ দিনে প্রেম করুন’ এর ভ্যালেনটাইন কোর্স একই হয়ে গেল না? কথায় বলে প্রেমে পড়লে নাকি মানুষের বুদ্ধি লোপ পায়। তো, এসব ক্রাশ কোর্সের ভিকটিম যেসব ছেলে-মেয়ে তাদের কিছু হোক বা না হোক, কার্ড, ফুল, চকোলেট, টেডি বিয়ার বেচে ব্যবসায়ীদের পকেটে মালপানি ভালোই ঢুকছে। বিরক্তির মাত্রা আরো বাড়ে যখন প্রতিদিন ফেসবুক আর হোয়াটসঅ্যাপে লোকজন এইসব দিবসের শুভেচ্ছা জানানো শুরু করে।ছেলেরা নাহয় বুঝলাম এমনি পাঠায়, তাই বলে মেয়েরাও? পরে যদি জিজ্ঞেস করা হয় ১৪ই ফেব্রুয়ারির প্ল্যান কি? বলে বয়ফ্রেন্ডের সঙ্গে ঘুরতে যাবো। আরে, চুলকানির মলম নেই তো চুলকে দিচ্ছিস কেন?

যাই হোক, এত কথার শেষ কথা আমি এখনো সিঙ্গেল আছি। কারো যদি ……মানে ইয়ে……মানে ঐ আর কি……যদি ইচ্ছে হয়, ভ্যালেনটাইনের উইশ করতেই পারো। তবে একটাই অনুরোধ, নিজের হাতে টাইপ করে কিছু লিখে পাঠিও। অন্যের ফরোয়ার্ড করা মেসেজ পড়তে না সত্যিই খুব কষ্ট লাগে! আমি খুব ভালো করেই জানি তুমি রবীন্দ্রনাথের নাতিও না, শেক্সপীয়ারের ভূতও তোমার মাথায় চাপেনি যে অত সুন্দর করে কাব্য করে মেসেজ লিখে পাঠাবে, তাও বানান ভূল ছাড়া!

ছবি: গুগল