মধুবালা কেবল দিলীপ কুমারকেই ভালোবেসেছিলেন

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

রুদ্রাক্ষ রহমান
(লেখক, সাংবাদিক)

মধুবালা দিলীপ কুমার

৯৮ বছরের একটা জীবন পেয়েছিলেন দিলীপ কুমার। ৬৫টার মতো সিনেমা, ‘অফিসিয়ালি’ একজন স্ত্রী আর সন্তানহীন প্রায় পাঁচ দশকের দাম্পত্যজীবন। হিন্দি সিনেমায় প্রথম সুপার স্টার। ট্র্যাজেডি কিং। জেন্টলম্যান। পুরস্কারপ্রাপ্তিতেও রেকর্ডের মালা। এসব ছাপিয়ে আমার কেবলি মনে হচ্ছে- দিলীপ কুমার এতোদিন বেঁচে ছিলেন মধুবালার ভালোবাসায়। এবং মধুবালা আর কাউকে নয়, ভালোবেসেছিলেন কেবল দিলীপ কুমারকে।

দুনিয়ার চলচ্চিত্রের বয়স শতক ছাড়িয়েছে অনেক আগেই। ভারতীয় চলচ্চিত্রের বয়সও অনেকটা তেমন। সেই সাদাকালোর যুগে চলচ্চিত্রে কাজ করে কল্কে পাওয়া আর সুপার স্টার হওয়া মোটেও সহজ ছিলো না। দিলীপ কুমার তার অভিনয়, এটিচ্যুড, শ্রম আর নিষ্ঠা দিয়ে সেই জায়গাটা অর্জন করেছিলেন। তিনি কোন ঘরে জন্মেছেন, কী হতে চেয়েছিলেন, কী দিয়ে শুরু করেছিলেন এসব ঘটনা আলগোছে পাশে সরিয়ে রেখে যদি, কেবল তার অভিনয় নিয়েই কথা বলা যায়, সেখানেও তিনি রাজাধিরাজ। যদি বলি, এখনো পর্যন্ত হিন্দি সিনেমার ধারাপাতে মুঘল-ই-আজম সবচেয়ে প্রভাবশালী। সেখানে দিলীপ কুমার এখনো আলোচিত হন উজ্জ্বল হয়ে। সেই সিনেমার একটি গান-পেয়ার কীয়া তো ডার না কীয়া- এখনো পর্যন্ত সেরাতম প্রেমের গীত। অমন সুন্দর সেট, অমন ভঙ্গিতে উপস্থাপন আর কখনো কোনো সিনেমায় দেখা যায়নি, যাবেও না। সেই সিনেমায় দিলীপ কুমারের সঙ্গে মধুবালা। দিলীপ কুমারের পিতার ভূমিকায় ‘কাপুর সাম্রাজ্যের’ প্রতিষ্ঠাতা পৃ্থ্বি রাজকাপুর। মধুবালার সঙ্গে সেই সিনেমায় রচিত হয়ে গেলো অমর এক প্রেমকাব্য; মিলন নয় বিয়োগের। সেই থেকে দিলীপ কুমার হিন্দি সিনেমার ‘ট্র্যাজেডি কিং’।

মধুবালার সঙ্গে

কেবল মধুবালার সঙ্গে কেনো চিরকালীন বাঙলা উপন্যাস-শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের দেবদাসের হিন্দি চলচ্চিত্র রূপে আরেক বাঙালি কিংবদন্তি সুচিত্রা সেনের সঙ্গে জুটি বাঁধলেন। সেখানেও বিয়োগরস। পার্বতী মানে দেবদাস চক্রবর্তী‘র পারুর সঙ্গে মিলন হয়নি। উপন্যাসে, সিনেমায় দেবদাসকে একটু একটু করে মৃত্যু যাত্রায় ক্ষয় হতে হয়েছে! এসব

বেদনার ক্ষেত্রে আরো গল্প আছে দিলীপ কুমারকে ঘিরে। সিনেমার নাম ’মধুমতি’। হিন্দি। পরিচালক বিমল রায়। এর স্ক্রিপ্ট লেখক আরেক মহান বাঙালি স্রষ্টা ঋত্বিক ঘটক। আর সঙ্গীত পরিচালক সলিল চৌধুরী। এই সিনেমায়ও দিলীপ- বৈজন্তিমালা ট্র্যাজেডির শিকার। ১৯৫৮ সালের সিনেমা। সাদাকালোয়। এখনো কি ঝকমকে। গানের দৃশ্যায়ন আর সুরের জাদু। দিলীপ কুমার আর বৈজন্তিমালাকে অমরত্ব দিয়েছে মধুমতি।

১৯৪৪ সালে বোম্বে টকিজের ‘জোয়ার ভাটা’ দিয়ে শুরু সিনেমা দিলীপ কুমারের। তার আগে দিলীপ কুমারের পারিবারিক নাম ছিলো ইউসুফ খান। এসবে কিছুই আসে যায় না। এই ২০২১ সালেও, দুনিয়া যখন করোনা নামে এক নাছোড় বদবাতাসের কাছে জিম্মি, চারিদিকে বারিত দেয়াল; ৯৮ বছর বয়সে যখন চলে গেলেন তিনি, তখনো তিনি এক ভীষণ প্রভাবশালী এক নাম। বিশ্ব মিডিয়া তার চলে যাওয়ার সংবাদ দিতে লাগলো আকাশসম গুরুত্বে। দিনে দিনেই পরিপূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তাকে বিদায় জানানো হলো। তিনি চলে গেলেন। অনেক আগেই চলে গেছেন, অতি হ্রস্ব এক জীবন নিয়ে মধুবালা। দিলীপ কুমারের নায়িকাদের মধ্যে মিনা কুমারি, নার্গিস, সুচিত্রা সেনও চলে গেছেন।

স্বপ্রাণ আছেন কেবল একজন-বৈজন্তিমালা। আর থাকলেন এক সময়ের গ্ল্যামার গার্ল- নায়িকা, অর্ধেক বয়সী স্ত্রী- সায়রা বানু। দিলীপ কুমারের চলে যাওয়ায় তিনি ভীষণ একা হয়ে গেলেন। দিলীপ কুমারের মনের খবর আমরা রাখি না, রাখা সম্ভবও ছিলো না। তবে ৯৮ বছরের শরীর, রোগ বালাই বাসা বেঁধেছিলো। তাতেই পরিণতি প্রয়াণ। এই চলে যাওয়া, এই বিদায়, মৃত্যুর পরও তিনি সিনেমায় থেকে গেলেন অ

স্ত্রীর সঙ্গে

নন্য এক চরিত্র হয়ে। অবিবাদী, ভদ্র, শান্ত এক প্রেমিক হয়ে। আর তার সঙ্গে মধুবালার বোঝাপড়া পর্দা এবং পর্দার বাইরে অবিমিশ্র এক মহাকাব্য। প্রেম ছিলো। নির্ভরতা ছিলো। ভালোবাসা অপার। তারপরও বিয়েটা হয়নি দিলীপ-মধুর। তবে, সায়রা বানুর সঙ্গে দিলীপ কুমারের বিয়ের খবরে মন খারাপ হয়েছিলো মধুবালার। সেই মন খারাপ নিয়ে ঘটনার তিন বছর পর দুনিয়া ছেড়ে চলে গেছেন মধুবালা!

ছবি: গুগল


প্রাণের বাংলায় প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। লেখা সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় প্রাণের বাংলা বহন করবে না। প্রাণের বাংলার কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না, তবে সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করতে পারবেন । লেখা সংক্রান্ত কোনো অভিযোগ অথবা নতুন লেখা পাঠাতে যোগাযোগ করুন [email protected]


https://www.facebook.com/aquagadget
Facebook Comments Box