মনরোর লাল নোট বই, প্রেম এবং…

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

মেরিলিন মনরোর অস্বাভাবিক মৃত্যু নিয়ে গবেষণার শেষ নেই পৃথিবীতে। ১৯৬২ সালের ৫ আগস্ট ভোরবেলা মেরিলিন মনরোর প্রাণহীন দেহটি পড়েছিলো নিজের শোবার ঘরের বিছানায়। তাঁর এক হাতে ধরা ছিলো টেলিফোনের রিসিভার। বিছানায় পাওয়া গিয়েছিলো ঘুমের অষুধের শিশি। মনরোর একান্ত পরিচারিকা ইউন্সি মুরি মালকিনের সাড়াশব্দ না পেয়ে সেদিন উদ্বিগ্ন হয়ে ফোন করেছিলেন অভিনেত্রীর একান্ত চিকিৎসক ডা. রালফ গ্রিনসনকে। ডাক্তার এসে দরজা ভেঙে ঘরে ঢুকেছিলেন। কিন্তু ততক্ষণে সব শেষ।

মনরোর দেহের ময়নাতদন্ত শেষে চিকিৎসকরা জানিয়ে দিয়েছিলেন তিনি ঘুমের অষুধ খেয়ে আত্মহত্যা করেছেন। কিন্তু তাতেই যৌনআবেদনময়ী এই অভিনেত্রীর মৃত্যুকে ঘিরে ঘনিয়ে ওঠা রহস্য শেষ হয়ে যায়নি। তখন থেকেই মনরোর মৃত্যু নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যম আর মানুষের মাঝে গবেষণা আর বিশ্লেষণের শুরু বলা যায়। এই বিষয়টি নিয়ে ময়নাতদন্ত আজো চলছে এবং সম্প্রতি অন্তর্জালে খোলা আলোচনায় নতুন নতুন তথ্য উঠে এসেছে।

মেরিলিন মনরোর আত্মহত্যার ঘটনার পরেই সবার প্রশ্নের আঙুল উঠেছিলো তাঁর হাতে ধরা টেলিফোনের রিসিভারের দিকে। কাকে ফোন করতে চেয়েছিলেন তিনি?কারো সঙ্গে কথা বলেছিলেন কি? পৃথিবী, নিজের চারপাশে মায়াবী জগতের উজ্জ্বল আলো, ভক্তদের উচ্ছ্বাস, প্রেমিকদের ভালোবাসা ছেড়ে চলে যাবার সময় কার সঙ্গে কথা বলতে চেয়েছিলেন তিনি? প্রশ্নটি আজো তদন্তকারীদের মনে একটি বিশাল প্রশ্নবোধক চিহ্ন হয়ে ঝুলে আছে। প্রশ্ন যেমন আছে সে প্রশ্নের উত্তরও আছে। অনেকেই বলেছেন মনরো ফোন করতে চেয়েছিলেন তার সবচাইতে বিখ্যাত এবং ক্ষমতাবান প্রেমিক, আমেরিকার তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জন.এফ কেনেডীকে। এই প্রেম ছিলো ভীষণ গোপন। বলা যাবে না তার নাম,ছোঁয়া যাবে না তাকে, কিন্তু প্রেম রয়ে গিয়েছিলো তাদের দু‘জনের মাঝে। রাষ্ট্রের সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ মানুষটি ভালোবেসেছিলেন মনরোকে। তাদের গোপন সাক্ষাতের কথাও সময়ের পালাবদলে প্রকাশিত হয়েছে অনুসন্ধানী আলোর নিচে।এখন প্রশ্ন উত্থাপিত হয়েছে, সবকিছু বুঝেই মনরোর ভালোর জন্যই তাকে চিরকালের জন্য মৃত্যুর জাদুরকাঠি ছুঁইয়ে পাথর করে দিতে চেয়েছিলেন স্বয়ং কেনেডী-ই?কারণ মনরো তাঁর ছোট্ট লাল রঙের নোট

কেনেডীর সঙ্গে একান্তে মনরো

বইটাতে সব কথা লিখে রাখতেন। নোট করে রাখতেন রাষ্ট্রের ভীষণ সব গোপন কথা। তাই তাকে সরিয়ে দেয়ার আয়োজন চলেছিলো?

এই লাল নোটবই আরো একজনের দিকে অভিযোগের আঙুল তোলে। তিনি কেনেডীর অনুজ তৎকালীন অ্যাটর্নি জেনারেল রবার্ট এফ. কেনেডী। মনরোর প্রেমে অ্যাটর্নি জেনারেলও মজেছিলেন। মনরোর মৃত্যুকে ঘিরে যারা ষড়যন্ত্র তত্ত্বের জাল তৈরি করেছেন তারা বলছেন, কেনেডীর কনিষ্ঠ ভ্রাতাও মনরোকে চিরকালের জন্য সরিয়ে দিতে আগ্রহী হতে পারেন। কারণ মনরো অনেক বেশি জেনে ফেলেছিলেন। তাই মনরোর একান্ত পরিচারিকা আর বাড়ির কর্মচারীদের হাত করে তাদের মাধ্যমে ওষুধের বদলে বিষ সরবরাহের ব্যবস্থা করেছিলেন তিনি।

পৃথিবীতে আলোচিত ও রহস্যময় মৃত্যুর ঘটনার মধ্যে মেরিলিন মনরোরটি অন্যতম। বিশ্লেষকরা বলছেন, এই ঘটনার পেছনে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ অথবা এফবিআই-এর হাত থাকতে পারে। কেনেডী পরিবারের দুই সদস্য বিশেষ করে প্রেসিডেন্টের সঙ্গে তার প্রণয়কে ভালো ভাবে নেয়নি গোয়েন্দা সংন্থাগুলো। হয়তো তারা মনে করেছিলো এতে পৃথিবীজুড়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট স্ক্যান্ডালের শিকার হবেন, আমেরিকার ইমেজ হবে ক্ষতিগ্রস্ত।তাই তারা জাল পেতেছিলো এই অভিনেত্রীকে চিরতরে পৃথিবী থেকে সরিয়ে দিতে।এই সন্দেহের আওতায় রয়ে গেছে শিকাগোর এক মাফিয়া নেতা স্যাম জিয়ানকাননা। শোনা যায়, মনরোর কাছে আমেরিকার মাফিয়াদের গোপন কাজকর্মের অনেক তথ্য ছিলো। এগুলো তিনি উঁচু মহলে যোগাযোগের কারণেই পেয়েছিলেন। আর সেজন্যই মাফিয়াদের প্রতিহিংসার শিকার হন তিনি। কেউ কেউ আবার এক পা এগিয়ে এখানেও জুড়ে দিয়েছেন কেনেডীর নাম। তারা বলছেন, কেনেডী নিজেই মাফিয়া নেতাকে দিয়ে খুন করিয়েছিলেন মনরোকে।

সবটাই অনুমান, সবটাই ষড়যন্ত্র তত্ত্বের উপর ভর করে ডালপালা মেলে দিয়েছে। আর এই ডালপালা মনরোর মৃত্যুর ৫৭ বছর পরেও ক্রমেই বেড়ে উঠছে। সন্দেহের অবকাশ তৈরি করছে। অন্তর্জালে যারা পডকাস্টে এই রহস্যের কিনারা করতে চান তারা বলছেন,পুরো বিষয়টার ওপর আলো ফেলে ফেলে তারা এই রহস্যের সমাধান করবেন।

প্রাণের বাংলা ডেস্ক

তথ্যসূত্র : নিউ আইডিয়া

ছবি: গুগল।    

প্রাণের বাংলায় প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। লেখা সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় প্রাণের বাংলা বহন করবে না। প্রাণের বাংলার কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না তবে সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করতে পারবেন । লেখা সংক্রান্ত কোনো অভিযোগ অথবা নতুন লেখা পাঠাতে যোগাযোগ করুন [email protected]