মনের ট্রেনটা শুধু পিছনে চলে যেতে চায়

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সুলতানা শিরীন সাজি

(অটোয়া থেকে): মনটাকে যদি বলি পাখি। বলি,উড়ে বেড়াও নিরবধি।মাঝে মাঝে মন কথা শোনেনা। মিসেস গুজ সেই কবে বলে গেলেন,ওয়ান ডে এট এ টাইম! গেলেন তো গেলেন। বাসার সামনের বরফের স্তুপ এ বসে ছবি তুললেন যেদিন, মন চাইছিলো যাই। কিন্তু ইচ্ছেগুলো এত নিথর হয়ে থাকে। যাওয়া হলোনা।
সমান্তরাল বয়ে চলে কি শুধু ট্রেনের লাইন?মনের ও সমান্তরাল অনুভব থাকে। এক মন চায় ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে চলে যাই অনেক দিন আগে। এক মন চায়,বাড়ির ডাকবাক্সে জমা হোক এক আশ্চর্য্য চিঠি।
সব কিছু পলকেই বদলে যাক!
কবি গুরু বলেছিলেন,” দিনেকের দেখা, তিলেকের সুখ,
ক্ষণেকের তরে শুধু হাসিমুখ–
পলকের পরে থাকে বুক ভ’রে চিরজনমের বেদনা।”

এই তিলেকের সুখটা বড় নাকি,পলকের বেদনা বড়? পলকের পরে চিরজনমের বেদনা কি করে রয়ে যায়?
মেঘের মত করে? সেই ছোট্ট মেঘ!
আজ শুধু মেঘের কথা মনেহয়। কত বড় হলো মেঘ ? কত বড় হয়ে যাবে বাবামায়ের শোক বুকে রেখে? নিজের মনের মেঘ সরে যায় ওকে ভাবলে। সাগর,রুনীর হত্যার বিচার কবে হবে ?

গাড়িতে বসলে মনেহয় চলতে থাকি। না থা্মি। চলতে চলতে অনেকদূরে চলে যাই। যেখানে কোন মন খারাপ নেই। কোন অসুখ নেই।
সারাজীবনের আশাবাদী মানুষ আমি, আমার লেখা পড়ে কবে কোন তরুণের মনে হয়েছিলো,আসলেই তো বেঁচে থাকা দারুণ ব্যাপার। মনের ভিতরের সব হতাশাকে জলাঞ্জলী দিয়ে জীবনে বড় বেশি সুখি হয়েছিলো।
এমন টুকরো টুকরো কত কথা জমা পড়ে থাকে,ইমেইলে,ইনবক্সে। আমাকে বলে,শক্ত হতে। আমি তো শক্ত মনের মানুষ। নাহলে প্রীম্যাচুউর হয়ে জন্মাবার পরে তুলার মধ্যে কি করে বড় হলাম তিলে তিলে?

আমার বই “রানুর আকাশ” যারা পড়েছেন,তারা জানেন কেনো লিখেছি,বেঁচে থাকা কেনো দারুণ ব্যাপার?

খুব ইচ্ছে করে লালমনিরহাটে যাই। আমাদের রেলওয়ের সাহেবপাড়ার বাসার সিঁড়িতে বসে রেলের ওভারব্রীজে হেঁটে যাওয়া মানুষ দেখি………সেই অচেনা মানুষের ভীড় থেকে কিছু চেনামুখ এসে সামনে দাঁড়াক।
মায়ের হাতের সেই সজনে গাছ,যেখানে পাতার চেয়ে বেশি সজনে থাকতো…………অবাক হয়ে তাকিয়ে থাকি। মনেহয় বাতাসে মায়ের শরীরের গন্ধ ঘুরে বেড়াচ্ছে।মা অফ হোয়াইট এর উপর ম্যাজেন্টা ফুলের শাড়িটা পড়ে পিছনে এসে দাঁড়ান। আমি মায়ের গলা জড়িয়ে ধরি।
আব্বার সঙ্গে দূরে সেই চাঁপার হাটে যেতে ইচ্ছে করে। আব্বার পেট জড়িয়ে হোন্ডাতে বসে থাকতাম। আব্বার সেই ছোঁয়া সারাজীবন বুকের ভিতর আনন্দ দেয়। সেই আনন্দর কোন সীমা নেই।
আব্বা রুগীর বাড়ি পৌছে রুগী দেখতেন। আর আমি গ্রামের নানান বয়সী মানুষের কৌতূহলের উত্তর দিতাম। একটা লাল মেঝেওয়ালা বাড়ির বারান্দায় বসে সমবয়সী মেয়েদের সঙ্গে পাঁচ গুটি খেলতাম ছড়া বলে বলে। এখানে আমাদের মধ্যে আনন্দ ভাগাভাগির কোন দেয়াল ছিলোনা !

তখন আমার বুকের ভিতর কোন দলা পাকানো কষ্ট থাকেনা। কোন অনিশ্চয়তা থাকেনা। আমার পাশের মানুষের অভিমান ভরা কথা থাকেনা।
আমরা জীবনের ছলছল নৌকায় চড়ে ঘুরে বেড়াই।
কোন সে নদী? কতদূরে যাই ?

আমি চোখ মেলে সামনে তাকাই। মনের ভিতরের ট্রেনটা শুধু পিছনে চলে যেতে চায়…………নির্ভার হতে ইচ্ছে করে !

ছবি: লেখকের ফেইসবুক থেকে

প্রাণের বাংলায় প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। লেখা সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় প্রাণের বাংলা বহন করবে না। প্রাণের বাংলার কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না তবে সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করতে পারবেন । লেখা সংক্রান্ত কোনো অভিযোগ অথবা নতুন লেখা পাঠাতে যোগাযোগ করুন [email protected]