মনে পড়ে তাজিন আপা…

মাসুদুল হাসান রনি

দেখতে দেখতে একবছর চলে গেল অভিনয়শিল্পী তাজিন আহমেদ নেই। ঠিক এমনই একসকালে চলে গেছেন সব কিছুর উর্ধ্বে। কি সহজে মানুষ দূরের তারা হয়ে যায়! ফেলে রেখে যায় ক্ষনিকের স্মৃতি। কেউ হয় বিস্মৃত হয়, কেউ তার কর্মে বেঁচে থাকে স্মৃতিরপাতায়। খুব মনে পড়ে তাজিন আপা। আজো কেন যেন আপনার অকাল প্রয়ান মেনে নিতে পারছি না। মন্ট্রিয়েলে এখন গভীর রাত।

তাজিন আপা, ফজলুর রহমান বাবু ভাই ও আমি ‘ বশীকরন’ নাটকের কোন একটি দৃশ্যধারনের আগে কথা বলছি আমরা।

২২মে এলো ঘুরে ফিরে শুধু আপা আপনার কথাই মনে পড়ছে। একবছর আগে এভাবে হুট করে চলে যাবেন এটা সেদিন মঙ্গলবার সকাল ন’টায় কল্পনাও করিনি। অথচ আপনি ফাঁকি দিয়ে গেলেন আমাদের সবাইকে। সেদিন পড়ন্ত দুপুরে আপনার মৃত্যু সংবাদ শুনে বিমুঢ় হয়ে অনেকক্ষন বসেছিলাম অফিসের সিড়িকোঠায়। কত স্মৃতি, টুকরো টুকরো কত কথা মনে পড়ে যাচ্ছিলো। সম্ভবত ২০০১ সালে কাজী শাহীদুল ইসলামের লেখা নাটক ‘এমন দিনে তারে বলা যায়’ একুশে টিভিতে প্রচারিত হয়।নাটকে উচ্ছল এক তরুনীর চরিত্রে তাজিন আপার অভিনয় দেখে মুগ্ধ হয়েছিলাম, সেই থেকে আমি তার ফ্যান হয়েঢ গেলাম। ২০০৫ সালে এটিএন বাংলার জন্য আমার পরিচালনায় ‘বশীকরণ’ নাটকে ফজলুর রহমান বাবু ভাইয়ের বিপরীতে অভিনয় করেছিলেন। কাজ করতে এসে আমাদের মধ্যে চমৎকার সম্পর্ক গড়ে ওঠে,যা মৃত্যুর পূর্ব মুহুর্ত পর্যন্ত অটুট ছিলো। একুশে টিভিতে আমার পরিচালনায় একুশে দুপুর,একুশে সন্ধ্যায় আপা অতিথি হয়ে বেশ ক’বার এসেছিলেন।ফোন করলেই বলতেন, রনিভাই, আমি উপস্থাপনা করতে চাই।’ বেশ কবার কথা দিয়েও আমি যখন আমার কোন অনুষ্ঠানে নিতে পারছিলাম না তখন হঠাৎ একদিন ফোন করে বললেন, ‘আমি শিলুর প্রোগ্রামে হোস্টিং করবো। আগামীকাল দুপুরে ইটিভিতে আমার রেকর্ডিং, আপনি থাকবেন কিন্তু।’ তারপর দীর্ঘ সময় একুশে টিভিতে ফাতেমা শিলুর প্রযোজনায় ‘ও বন্ধু আমার’ উপস্থাপনা করেছিলেন। প্রায় কথা হতো মেকাপরুমে কিংবা ক্যান্টিনে।তার সঙ্গে আমার ঘনিষ্ঠতা বেড়ে যায় তার কাজিন ওয়াফার কারনে।সেই সুবাদে বেশ কবার তার আদাবরের বাসায় যাওয়া হয়েছিলো। অনেক লম্বা আড্ডা হয়েছে, অনেক গাল-গল্প। এখন সবই স্মৃতি হয়ে গেলো । এ স্মৃতিগুলো কিভাবে ভুলবো আপা? যেখানেই থাকেন আপা ভাল থাকবেন।