মনে পড়ে

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

ঊর্মি রহমান

এস এম আলি

লেখক, সাংবাদিক উর্মি রহমান প্রাণের বাংলার জন্য লিখছেন দূরের হাওয়া বিভাগে জীবনস্মৃতি; ‘মনে পড়ে’। তার শৈশব, কৈশোর জীবনের বয়ে চলা পথের গল্পগুলো এই ধারাবাহিক জুড়ে থাকবে। উর্মি রহমান দীর্ঘ সময় বাংলাদেশে সাংবাদিকতা করেছেন। কাজ করেছেন বিবিসি বাংলা বিভাগেও। এখন বসবাস করেন কলকাতায়।

প্রেস ফাউন্ডেশন অব এশিয়া

আমার ইউনেস্কো ফেলোশীপের শেষভাগটা সমাপন করার জন্য আমি ফিলিপাইনের রাজধানী ম্যানিলার উদ্দেশে যাত্রা করলাম। আমাকে পথে এক রাত জাপানের নারিতায় থাকতে হলো। হোটেলটা ভালই ছিলো। বিমান বন্দর থেকে হোটেলে যাবার পথে বাসে মজার অভিজ্ঞত্ াহলো। একজন ইমিগ্রেশন অফিসার বাসে উঠলেন আমাদের পাসপোর্ট ইত্যাদি পরীক্ষা করার জন্য। তিনি প্রতিটি যাত্রীর সামনে এসে প্রায় আভূমি নত হয়ে অভিবাদন জানিয়ে অত্যন্ত বিনীতভাবে পাসপোর্ট ও অন্যান্য যাত্রা সংক্রান্ত নথি দেখতে চাইলেন। দেখা হয়ে গেলে আবার একই কায়দায় অভিবাদন জানিয়ে সেসব ফেরত দিলেন। জানতাম সেটা জাপানীদের সহবত, দেখাও হয়ে গেলো। হোটেলে সন্ধ্যায় রাতের খাবার দেওয়া হলো। গেলাম খেতে। বিশ্ববিদ্যালেয়ের ডর্মে তো মাছ খেতে পাইনি। ডাইনিং হলে গিয়ে দেখি মাছ সাজানো রয়েছে। খুশি হয়ে কাছে গিয়ে দেখি কাঁচা মাছ। শুনেছিলাম বটে জাপানীরা কাঁচা মানে সামান্য  স্টিম করে বা গরম পানিতে ধুয়ে মাছ খায়।

আমাদের কাছে সেটা কাঁচা মাছের নামান্তর। ফলে অন্য খাবার খেয়ে সন্তুষ্ট থাকতে হলো। খাবার পর দেখি দু’জন মার্কিন সহযাত্রী হোটেল থেকে বেরোচ্ছে। তাদের সঙ্গে প্লেনেই আলাপ হয়েছিলো। শুনলাম ওরা কাছাকাছি বাজারে যাচ্ছে। আমিও ওদের সঙ্গ নিলাম। সেখানে গিয়ে দেখি তারা জুয়া খেলতে বসে গেলো। আমি একটু এদিক-ওদিক ঘুরলাম। পরে ওদের সঙ্গে হোটেলে ফিরলাম। পরদিন ভোরে যাত্রা করে ম্যানিলায় পৌঁছলাম। আমাকে প্রেস ফাউন্ডেশন অব এশিয়া বা সংক্ষেপে পিএফএ’এর একজন সদস্য রিসিভ করে হোটেলে পৌছে দিলেন। যতদূর মনে পড়ে হোটলের নাম ছিলো লাস পালমাস। হোটেলটা ম্যানিলা বে থেকে খুব দূরে নয়। জমজমাট এলাকা। সামনেই হস্তশিল্পের বিশাল বাজার। পরদিন আলাপ হলো একজন অতি চমৎকার মানুষের সঙ্গে – সৈয়দ মোহাম্মদ আলি বা এসএম আলি। তিনি তখন পিএফএ প্রধান। বিখ্যাত সাহিত্যিক সৈয়দ মুজতবা আলির সম্ভবত

ম্যানিলা

ভাইপো। তিনি আমার সঙ্গে আলাদা করে আলাপ করলেন।

একদিন ম্যানিলা বে’র পাশে নেভাল ক্লাবে লাঞ্চ খাওয়ালেন। তাঁর সঙ্গে দীর্ঘদিনের একটা সুন্দর সম্পর্ক তৈরী হলো। পরে আমি যখন বিবিসি’তে কাজ করার সূত্রে লন্ডনে ছিলাম, তিনি যতবার লন্ডন গিয়েছেন, আমাকে ফোন করেছেন। আমি দেখা করেছি। পরে আমার বর্তমান স্বামী সাগরের সঙ্গেও তাঁর খুব সুন্দর সম্পর্ক গড়ে ওঠে। তিনি যখন ঢাকা গিয়ে ডেইলি স্টার পত্রিকা শুরু করলেন, তখন সাগরকে বলেছিলেন লিখতে। সাগর নিয়মিত লিখেছিলো। একবার তিনি সাগরকে একটা খুব সুন্দর চিঠিতে লিখেছিলেন, ‘ণড়ঁ ধৎব ধ াবৎু মড়ড়ফ ংড়হ-রহ-ষধি ড়ভ ইধহমষংফবংয.’ যাহোক, সে সময়ের কথায় ফিরি। আলিভাই একদিন আমাকে ডেকে বললেন, ‘তুমি হোটেলের ঘরে একাই আছো। দিল্লি থেকে একটা বাঙালি মেয়ে এসেছে, পথে তার খুব বাজে অভিজ্ঞতা হয়েছে। সে যদি তোমার সঙ্গে ঘর শেয়ার করে, তোমার তাতে আপত্তি নেই তো?’ আমি বললাম, ‘বিন্দুমাত্র না।’ আমার ঘরটা ছিলো ডাবল বেডের। একা থাকাটা আমার বিশেষ পছন্দ ছিলো না।

তাই দেবস্মিতা শ্রীধর আমার ঘরে আসাতে আমি খুশিই হলাম। দেবস্মতিা দিল্লিতে বড় হওয়া বাঙালি মেয়ে, বিয়ে করেছে দক্ষিণ ভারতীয় একজনকে। শুনলাম ওর সহযাত্রী এক পাকিস্তানী ওকে ওদের যাত্রাবিরতির সময় ব্যাঙ্ককের হোটেলে একই ঘরে থাকতে বলেছিলো। ও রাজী হয়নি এবং রাতে ঘরের দরজার সামনে ঘরের চেয়ার টেবিল ইত্যাদি টেনে এনে প্রায় না ঘুমিয়ে রাত কাটিয়েছিলো। পরে ম্যানিলা এসে আলি ভাইর সস্নেহ আশ্বাস পেয়ে আর আমার সঙ্গী হতে পেরে নিশ্চিন্ত হতে পেরেছিলো। আমাদের দু’সপ্তাহব্যাপী সেমিনার ঐ হোটেলেই ছিলো। মাঝে আমাদের ট্যূ’এ নিয়ে যাওয়া হয় ইন্টারন্যাশনাল রাইস রিসার্চ ইন্সটিটিউট বা ইরি’তে। এর মধ্যে আমরা ম্যানিলার এখানে ওখানে ঘুরলাম। হস্তশিল্প বাজারে ঘুরে টুকিটাকি কিনলাম। আমাকে প্রচুর সময় দিয়েছিলো পিএফএ’র একটি চমৎকার ফিলিপিেিনা মেয়ে। আজ এত বছর পর তার নামটা আর মনে করতে পারছি না। পিএফএ’তে আর একজন বাংলাদেশী ছিলেন, তাঁর ভাই বাংলাদেশে বামপন্থী রাজনীতি করেন। তাঁর নামটাও আজ প্রায় অর্ধশতক বছর পর মনে করতে পারছি না। কিন্তু তিনিও অত্যন্ত চমৎকার মানুষ ছিলেন। আমি আলিভাই ও তাঁর স্নেহে সিক্ত হয়েছিলাম। ম্যানিলায় সময় খুব ভাল কেটেছিলো।

ছবি: গুগল


প্রাণের বাংলায় প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। লেখা সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় প্রাণের বাংলা বহন করবে না। প্রাণের বাংলার কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না, তবে সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করতে পারবেন । লেখা সংক্রান্ত কোনো অভিযোগ অথবা নতুন লেখা পাঠাতে যোগাযোগ করুন [email protected]


https://www.facebook.com/aquagadget
Facebook Comments Box