মানসিক রোগ ও ডমেস্টিক ভায়োলেন্স নিয়ে ভাবুন

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

ফেইসবুক।সবার কাছেই জনপ্রিয় এই শব্দটি। তাই প্রাণের বাংলায় আমরা সংযুক্ত করলাম ফেইসবুক কথা বিভাগটি।এখানে ফেইসবুকের আলোচিত এবং জনপ্রিয় লেখাগুলোই  আমরা পোস্ট করবো।আপনার ফেইসবুকে তেমনি কোন লেখা আপনার চোখে পড়লে আপনিও পাঠিয়ে দিতে পারেন আমাদের ই-মেইলে।

ফারজানা কবির

নক দেয়া শুনে দরজা খুলে আমার এক্স কে দেখলাম । তাকে দেখে সঙ্গে সঙ্গে দরজা বন্ধ করে দিলাম । দরজা বন্ধ করেই পুলিশ কল করলাম ।

বৃটেনে ডমেস্টিক ভায়োলেন্সের কারনে নারী হত্যা বেড়েছে । বেড়েছে ফ্রান্সও ।

বৃটেনে ডমেস্টিক হত্যা বন্ধে ‘ক্লেয়ারস আইন ‘ নামে একটি আইন করা হয়েছে এই বছর । এই আইন নারীদের তার এবিউসিভ পার্টনার সম্পর্কে পুলিশের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ করার ক্ষমতা দেয়া হয়েছে । আগে এই ধরনের তথ্য ডাটা প্রটেকশন আইন দ্বারা সুরক্ষিত ছিলো ।

ক্লেয়ার নামে একজন মহিলাকে তার পার্টনার আগুনে পুড়িয়ে মেরে ফেলার পর এই আইন করা হয়েছে । মহিলাকে হত্যার পর পুলিশ হত্যাকারি সম্পর্কে খোঁজ নিয়ে জানতেন পারেন সে আগেও তার অনান্য সঙ্গীদের নির্যাতন করতো। এই ধরনের এবিউসিভ পার্টনাররা একটি ব্যবহারিক ( Behaviour pattern) নকশার মধ্যে থাকে ।

ফ্রান্সে তার প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে তিনি ডমেস্টিক ভায়োলেন্সের ক্ষেত্রে করনীয় কিছু করছেন না । জনগণের অভিযোগের উত্তরে প্রেসিডেন্ট একটি ডমেস্টিক ভায়োলেন্স সংক্রান্ত কল সেন্টারে গিয়ে তাদের কার্যক্রম প্রত্যক্ষ করেন । সেখানে উনি নিজে শুনতে পান কিভাবে একজন নির্যাতিত নারীর সাহায্যের আকুতি সংশিষ্ট কর্মকতারা শুনতে অবহেলা করেছেন ।

আমার প্রাক্তন সচরাচর ধরনের নির্যাতনকারী ( ক্লাসিক্যাল টাইপ ) । তার নির্যাতনের রেকর্ড পুলিশের কাছে থাকায় পুলিশ আসার পর তেমন কিছু বলতে হয়নি ।

ফলাফলে পুলিশ পরের দুইদিন আমার বাড়ীর পাহাড়া দিয়েছে আমার নিরপত্তা নিশ্চিত করার জন্য ।

এই সব লেখার কারন সম্প্রতি বাংলাদেশে একজন আগুনে পুড়ে মারা গেছে এই সংবাদ শুনে । এই সম্পর্কে আমি পোষ্ট দেয়ায় অনেকর আজে বাজে কথা শুনতে হয়েছে ।

যদিও আমি সন্দেহ প্রকাশ করেছি মাত্র । আত্মহত্যা আইনের ভাষায় অপমৃর্ত্যু । যে কোন অপমৃত্যু মানে রাস্ট্রের দায় । আইন অনুসারে রাস্ট্র যে কোন অপমৃর্ত্যুর ময়না তদন্ত করে নিশ্চিত হয় যে ব্যাক্তিটি কিভাবে মারা গেছে ।এ ক্ষেত্রে সন্দেহ জনক কিছু পেলে রাস্ট্র কাছের জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করে । একটি কথা বলি খুন বা অপমৃর্ত্যুতে শুধু সারকোমেন্সিয়াল এভিডেন্সকে কম প্রায়োরিটি দেয় । কারন ব্যাপারটি সাজানোও হতে পারে । তারা আসল ইতিহাস খুজে বের করে মোটিভ।

আরো শংকার বিষয় এই অপঘাতে মৃর্ত্যুর যতটা আলোচিত হয়েছে ততটা রিপোর্টে আসেনি । অর্থাৎ সাংবাদিকরা আলোচিত ঘটনার ফলো আপ করেননি । যা খুব স্বাভাবিক ছিলো ।

বলা হয়েছে , ভদ্র মহিলা আগেও আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন । যে পরিমাণের কথা বলা হয়েছে তাতে কোন চিকিৎসক তাকে আন – এটেন্ডেট রাখার পরামর্শ দিবে না । দুই তিন বার আত্মহত্যার চেষ্টা করলে রোগিকে সাংশন ( সাইকোলজির ভাষা )করা হয় । তাকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয় ।

এই খানে বলি রাখি নিয়মিত চিকিৎসা পাওয়া রোগি হুট করে আত্মহত্যা করে না । তার ট্রিগার লাগে । মানে তাকে কিছু একটি পরিস্থিতির সন্মুখীন হতে হয় যা তার আত্মহত্যায় তৎক্ষনাত প্রভাব রাখে ।

তাই কেউ আত্মহত্যা করেছে । সে মানসিক রোগি । তার মরে যাওয়াটা স্বাভাবিক এবং উচিত কাজ ভাবলে তার প্রতি অন্যায় করা হবে ।

আইনের চোখে প্রত্যেক মৃর্তু এবং অপমৃর্ত্যু ন্যায় বিচার পাওয়ার অধিকার রাখে ।

অনেকে এই বিষয় নিয়ে কটাক্ষ করেছেন তাও দেখলাম ।

মানসিক রোগ শারিরিক রোগের মত ।এই রোগ হওয়ার কারন ,উপসর্গ এবং চিকিৎসা থাকে । তাদেরও যত্নের এবং আপনজনের দরকার হয় ।

আমার লেখার উদ্দেশ্য কোন ঘটনার সরলীকরন নয় । কাউকে দোষি করা নয় ।

সবাইকে সচেতন করা । সমাজের জ্ঞান-চক্ষু উন্মোচন করা।

মানসিক রোগ এবং ডমেস্টিক ভায়োলেন্স নিয়ে ভাবাতে সহায়তা করা ।

ছবি: গুগল

প্রাণের বাংলায় প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। লেখা সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় প্রাণের বাংলা বহন করবে না। প্রাণের বাংলার কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না তবে সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করতে পারবেন । লেখা সংক্রান্ত কোনো অভিযোগ অথবা নতুন লেখা পাঠাতে যোগাযোগ করুন [email protected]