মাশরাফির উজ্জ্বল ফিরে আসা

আহসান শামীম

টস ভাগ্য না দলে মাশরাফির উপস্থিতি-কোনটা জেতালো বাংলাদেশকে? তবে বলতেই হবে ভাগ্যের চাইতেও মাশরাফির উপস্থিতির ম্যাজিকটা শেষ পর্যন্ত কাজ করেছে। জয়ী বাংলাদেশ।অধিনায়ক মাশরাফির অভিজ্ঞতার সাঁকো বেয়ে এলো কাঙ্ক্ষিত জয়।বল হাতে তিনি একাই নিয়েছেন ৪ উইকেট। রিভিউ নেওয়ার ব্যাপারে দোদূল্যমনতা আর ওয়েষ্ট উইন্ডিজের  শেষ উইকেটে বাংলাদেশ দলে ফিল্ডিং অলসতার কারনে ৪৮ রানে জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে বাংলাদেশ। শৈথিল্য না থাকলে জয়ের ব্যাবধানটা হয়তোবা আরও একটু বড় হতো।

ক্যারিবিয়ান ওপেনার ক্রিস গেইলের ৪০ আর শিমরন হ্যাটমিয়ারের ৫২ রান ছাড়া আর কেউই দাঁড়াতে পারেননি টাইগার বোলারদের সামনে। দশম উইকেট জুটিতে ৫৯ রান যোগ করে শেষ পর্যন্ত অবিচ্ছিন্ন থাকেন দেবেন্দ্র বিশু ও আলজারি জোসেফ। দুইজনেই করেন ২৯ রান।এই জুটির রান, ওয়েষ্ট ইন্ডিজের সর্বকালের সেরা দশম উইকেটে রানের রেকর্ড । এই রেকর্ড গড়ার কাজে বাংলাদেশ দলের ফিল্ডিং আর বোলিং দুই বিভাগের গা-ছাড়া ভাবটা বেশ অবদান রাখে।

মাশরাফি দলে থাকা মানেই দলের স্পিরিটই অন্যরকম। আর সেটা আরো একবার প্রমানিত হল। ওয়েস্ট ইন্ডিজে দুই টেস্টে নাকানিচুবানি খেয়েছে বাংলাদেশ। আর সেই বাংলাদেশকেই প্রথম ওয়ানডেতে একদম অন্য চেহারায় দেখা গেল। মাশরাফির ৪ উইকেট ছাড়াও ২ উইকেট নিয়েছেন মুস্তাফিজুর রহমান। ১ টা করে উইকেট দখল করেছেন মেহেদী হাসান ও রুবেল হোসেন।টসে জিতে ব্যাটিংয়ে নেমে মাত্র দলীয় ১ রানেই ওপেনার এনামুল হকের উইকেট হারায় বাংলাদেশ। এরপর দ্বিতীয় উইকেটে ২০৭ রান যোগ করেন সাকিব আল হাসান ও তামিম ইকবাল।সাকিব ৯৭ রানে আউট হলেও তামিম ১৬০ বলে ১৩০ রানে অপরাজিত থাকেন আর ১১ বলে মুশফিকের ঝড়ো ব্যাটিংএ ৩০ রানের সুবাদে ২৭৯ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে শেষ করে বাংলাদেশ তাদের ইনিংস। জবাবে ৯ উইকেটে ২৩১ রানে থেমে যায় ওয়েষ্ট উইন্ডিজের জয়ের স্বপ্ন।

টি-টোয়েন্টিতে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ওয়েষ্ট উইন্ডিজ ওয়ানডে ম্যাচে খুব একটা ভাল অবস্থানে নেই । ওয়ানডে র‍্যাংকিয়ে বাংলাদেশ থেকে দুই ধাপ পিছিয়ে আছে ক্রিস গেইলদের দল। ওয়ানডে র‍্যাংকিংয়ে ৯৩ পয়েন্ট নিয়ে বাংলাদেশের অবস্থান ৭ নম্বরে। আর ৬৯ পয়েন্ট নিয়ে ৯ নম্বরে আছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ।২০১৪ সালের পর থেকে আজ পর্যন্ত দলটা বাংলাদেশের বিপক্ষে কোন ওয়ানডে সিরিজ জিততে পারেনি।

ছবিঃ ক্রিক ইনফো