মুনিরা চৌধুরীঃ আমিও ঘড়ির দোকানে যাই নি কোনোদিন

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

‘‘সে আর ফিরে আসে নি

আমিও ঘড়ির দোকানে যাই নি কোনোদিন।’’

মৃত্যুচেতনা হয়তো ঘড়ির দোকানের সব ঘড়িকে থামিয়ে দিতে পারে।

দিয়েছিলোও হয়তো। তা না-হলে  কার্ডিফের সেই আলোকিত অথবা কুয়াশায় ঢেকে থাকা অস্পষ্ট হইটমোর-বে সমুদ্র সৈকত অোজো পৃথিবীকে কেন কবিদের মৃত্যু সংবাদ পাঠায়? কেন পৃথিবীর আগুন সইতে না পেরে নিজেকে একদিন জীবন থেকেই প্রত্যাহার করে নেন কবি মুনিরা চৌধুরী!

প্রবাস জীবনে লেখালেখি করেছেন। লিখেছেন, সংগঠনের কাজে ব্যস্ত হয়েছেন। কিন্তু তাঁর লেখায় সর্বদাই পাল তুলে অপেক্ষায় দাঁড়িয়েছিলো এক বেদনার জাহাজ। সে জাহাজই হয়তো তাকে আবার নিয়ে গেছে অজানায়।কবিরা হয়তো কোনোদিন বন্দরের হন না।

গত বছর ইংল্যান্ডের ছোট্ট শহর কার্ডিফে আত্মহত্যা করেন মুনিরা।১৬ নভেম্বর ঘর থেকে বের হয়ে যান পরদিন কার্ডিফের সমুদ্র সৈকতে পাওয়া যায় তার প্রাণহীন দেহ। ১৭ নভেম্বর তাঁর প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী গেলো । কবির কবিতার স্বজনরা সেই দিনটি সামনে রেখে প্রাণের বাংলার পাতায় লিখেছেন মুনিরা চৌধুরীকে নিয়ে।এবার দ্বিতীয় ও শেষ কিস্তি গেলো।

জাহানারা পারভীন

মুনিরা চৌধুরী; বিষাদের বোন

সিলভিয়া প্লাথ পড়তে গিয়ে মনে পড়ে তার আত্মহত্যার কথা। দীর্ঘ মনস্তাস্তিক সংকট, আত্মহত্যাপ্রবন মানসিকতার কথা। এরিয়েলের কবিতা, মাকে লেখা চিঠিপত্র অথবা আত্মজৈবনিক উপন্যস বেলজার পড়তে গিয়েও খুজেছি বিষন্নতার সূত্র। কেন তিনি মনের মতো একটা পদ্ধতি খুজতে চেয়েছেন বারবার। আত্মহত্যা করতে। স্লিপিং পিল, ব্লেড, সবশেষে সাফল্য আসে গ্যাসের চুলায়। অথচ তখন বাড়িতে দুই শিশু সন্তান। মনে পড়ে জীবনানন্দ দাশের সেই কবিতার অসহায়ত্ব, বধূ ছিলো শিশুটিও ছিলো, তবু মরিবার হলো তার স্বাধ। এই মরবার স্বাধ নিয়েই জীবন কাটিয়েছেন সিলভিয়া। তার জীবন তাই বলে। আত্মঘাতি লেখা পড়তে গিয়ে, তাদের জীবনীর সঙ্গে সংযোগ খুজেছি, কিছু একটা বোঝার ইচ্ছে, কোনও একটা সূত্র খোজার চেষ্টা। রিভলভারের গুলিতে আত্মহত্যা করা মায়কোভস্কি, হেমিংওয়ে, ওভারকোটে ভারী পাথর নিয়ে নদীতে ডুবে যাওয়া ভার্জিনিয়া উলফ, মানসিক বিষন্নতা থেকে আত্মহত্যা করা এডগার অ্যালান পো, গলায় দড়ি দিয়ে আত্মহত্যা করা কথাসাহিত্যিক ফোস্টার ওয়ালেস। এই তালিকা অনেক দীর্ঘ। এই তালিকার আরেক নাম মুনীরা চৌধুরী। বাংলা ভাষার কবি। এই মৃতু্ আকস্মিক। দু:খজনক। কার্ডিফের সমুদ্র উপকূলে পাওয়া গেছে তাকে। মৃত। সমুদ্রের ধারে পাওয়া মৃতদেহ, রহস্যজনক মৃত্যুর অভিঘাত আমাদের মনে তৈরি করেছে নানা অভিঘাত। তিনি নিজেই মৃত্যু নিয়ে বলেছেন।

কষ্ট, একজন মৃত মুনিরা চৌধুরীর গোপন নাম!  

এই কষ্টই তার অবলম্বন। আশ্রয়। অথচ এই কষ্ট থেকে বাচতেই কি বেছে নিয়েছেন স্বেচ্ছামৃত্যু? প্রশ্ন ওঠে। কেন তার কবিতায় বারবার এসেছে মৃতু্র প্রসঙ্গ। পৃথিবীর আর সব আত্মঘাতি কবিদের মতো তিনিও কি মৃতু্র কথা ভেবেছেন বারবার? অথচ জীবনের সকল বিষাদ, অবসাদ, কষ্ট ভুলতে কবিতাতেই আশ্রয় নিয়েছিলেন। তুমুল বাঁচার মাঝে নিজের মৃতু্র নির্দেশনাও দিয়ে গেছেন। প্রিয় বন্ধুর সঙ্গেই মৃত্যু হবে তার। এরকম প্রস্থানের ইঙ্গিত দিয়ে গেছেন বেঁচে থাকতেই। তাই তার মৃত্যু প্রস্তুতি নিয়ে বিস্মিত হওয়ার সুযোগ নেই।

কেন যে বার বার মৃত্যুর কথা বলো?
হঠাৎ মরে গিয়ে আমায় দুঃখ দিয়ো না..
ঈশ্বর দুঃখ পাবেন

হঠাৎ মরে গিয়ে আমায় দুঃখ দিয়ো না..
আমরা তো একসঙ্গেই মারা যাবো

পৃথিবীর প্রাচীন কবরে যখন, দু’চোখের পাথর ছিদ্র করে গড়িয়ে পড়ে জল, আর কবি মুনিরা চৌধুরী জেনে যান বর্ষা এসেছে। বর্ষা তার কাছে বিষাদে সমার্থক। নিজে কষ্টের প্রতিনিধি। তিনি দেখতে পান আকাশ ভেঙে বৃষ্টি নামছে, বৃষ্টির মধ্যে ঘুড়ি উড়ছে, আর চায়ের পেয়ালায় চুমুক দিচ্ছে তার প্রিয়জন। সেই প্রিয়জনকে তিনি তুমি বলে সম্বোধন করেছেন। তখন পৃথিবীর সব চায়ের পেয়ালা ভেঙ্গে যাচ্ছে, ভেঙ্গে যাচ্ছে। এরপরই কবির কল্পনাশক্তির পরিচয় পাওয়া যায়। কবি দেখেন, পৃথিবীতে নতুন এক পরিবর্তন। এখানেই তার কবিতার শক্তি। তার চিন্তার নতুনত্ব।

মুনিরা চৌধুরীর সঙ্গে আমার কখনও পরিচয় হয়নি। তার কথা জেনেছি তার মৃত্যুর পর। এ এক নতুন আবিস্কার। তার কবিতার আধুনিকতা, নতুন চিন্তা, ভাষা পড়ে মনেই হয়নি তার জন্ম লন্ডনে। বড় হয়েছেন সেখানে। জন্মসূত্রে ব্রিটিশ বাঙালি কবি মুনিরা। জন্ম ও বেড়ে ওঠা বাংলাদেশের বাইরে। বাংলাভাষাকে জানতে তিনি দীর্ঘ দিনের জন্যে বাংলাদেশে এসে থেকেছেন। শিখেছেন বাংলা ভাষা ও সাহিত্য। বাংলা কবিতা ও গদ্য রচনার কলাকৌশল। লন্ডনে ফিরে ও পড়ে থেকেছেন বাংলা ভাষা নিয়ে। লন্ডনের কার্ডিফে বাংলাভাষা,সাহিত্য ও সংস্কৃতি চর্চা কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেছেন বাংলা একাডেমি ইন্টারন্যাশনাল। অনেক পরে বাংলা শেখা  এই কবির ভাষা, শব্দ ব্যবহার, পরিমিতিবোধে অদ্ভুত এক ঘোর। মনে শুধুই জন্ম নেয় মুগ্ধতা। তার নি:সঙ্গতার স্বরূপ পাওয়া যায় তার কবিতায়।

একদা জানতাম
কার্ডিফের ঐ একটা মাত্র ডানা-ভাঙ্গা কালো কবুতরই আত্নীয় আমার
আত্নীয়টি উড়ে গেছে দূরে, তারপর পুড়ে গেছে

তারপর থেকে
একা বসে আছি
এক শত বছর ধরে

কবি মুনীরা চৌধুরীর সঙ্গে কখনও পরিচয় না থাকার আফসোস কাটাতো তার কবিতার কাছে আসি। তার মনোজগৎ বোঝার চেষ্টা করি। আর বিস্মিত হই। আমাদের চারপাশের সাহিত্যের কোলাহলের বাইরে দূরদেশে থেকে কবিতার কি এক আশ্বর্য, বিস্ময়কর জগৎ তৈরি করে নিয়েছিলের তিনি। যে জগতে বাস করলে আর সব কিছু তুচ্ছ করা যায়। এমনকি চারপাশের সমাজ বাস্তবতা, ঘর সংসার সন্তানকেও পেছনে ফেলে নিজের সব বিষাদ, বিষন্নতা নিয়ে চলে যাওয় যায় রহস্যজনক এক জগতে। যেখানে জেগে থাকা যায় সারারাত। নিজের সব বেদনা নিয়ে। ঘুমের ঘোরেও যেখানে জেগে থাকা যায়।

আমি জেগে থাকি
কাটা হাতখানা অন্য হাতে নিয়ে সারারাত জাগি
অনন্ত ভোরের দিকে হাতের গহীনে জ্বলে ওঠে হাতের চিতা
হাড়-গলা গরম ঘন হয়ে এলে কেবল শীত শীত লাগে…ঘুম লাগে
এইসব মুনিরা ঘুমের ঘোরে কোথাও কোনো জানালা নেই;সই নয় দরজার বাতাস।

কবি মুনিরা চৌধুরী পুরুষতান্ত্রিকতার বলী

আঞ্জুমান রোজী

মৃত্যু অবধারিত। তারপরেও কিছু কিছু মৃত্যু ভুলতে না পারার যন্ত্রণায় থেকে যায় চিরকাল। ঠিক তেমনই কবি মুনিরা চৌধুরীর অকাল প্রয়াণ আমাদের বুকে পাথরকষ্ট হয়ে আছে। দেখতে দেখতে একবছর হয়ে এলো কবি আমাদের ছেড়ে চলে গেছেন। এই একবছরের একটি দিনও কি আছে, যারা কবি মুনিরাকে ভালোবেসেছেন তারা ভুলেছিলেন? নাহ, তাদের কেউই ভুলেননি। ভোলা  সম্ভবও হয়নি। যারা তাকে খুব কাছ থেকে দেখেছেন, দূর থেকে তার কণ্ঠ শুনেছেন কিম্বা তার কবিতা পড়েছেন; তাদের কারোর পক্ষে সম্ভব হয়নি কবি মুনিরাকে ভুলে যাওয়া। বিশেষ করে কবি মুনিরার সৃষ্টিশীল, মননশীল কাজের প্রতি কিছু পাঠক আসক্ত হয়ে আছে। তার অকস্মাৎ দেহাবসানে শোক বিহ্বল আমরা এখনো স্তব্ধ । মৃত্যু মানুষের অনেককিছু কেড়ে নেয়। কিছু কিছু মৃত্যু দিয়ে যায় অসীম শূন্যতা, রেখে যায় রহাস্যাবৃত ভাবনার জাল।

সর্বকালের চিরন্তন সত্য, কবি প্রকৃতির, কবি মানুষের, কবি এই পৃথিবীর। কবি কখনো কারোর ব্যক্তিগত সম্পদ নয়। কেউ যখন কবিতা লেখেন সেই কবিতা হয়ে যায় প্রকৃতির এবং মানুষের। কারণ, কবিতা প্রকৃতি প্রদত্ত, যা প্রকৃতির সহজাত বিষয় তা কবির উপর ভর করে প্রকাশ পায়। এমন অবস্থায় কবিকে যদি নির্মম বাস্তবতার মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দেয়, তবে কবির প্রতি অবিচারই হবে। কবি মুনিরা চৌধুরী এখন বাস্তবের কষাঘাতে কোণঠাসা। তার কবিস্বত্বা সমাজ-সংসারে গৌণ করে দেখা হচ্ছে। পুরুষতান্ত্রিক মানসিকতার বলী হচ্ছেন কবি। এমনকি তাকে অস্তিত্বহীন করে ফেলার অপচেষ্টাও চলছে। কবি বলে কথা! কবি যেহেতু প্রকৃতির অংশ সেহেতু প্রকৃতি তার ধূলোবালির আস্তরণে ঢেকে দিয়ে কালের গর্ভে বিলীন না করে দিলে মানুষের কি সাধ্য আছে কবির অস্তিত্বকে অস্তিত্বহীন করে দেয়ার! ইতোমধ্যে কবি মুনিরা চৌধুরী তার অন্যধারার লেখনী শক্তি দিয়ে  বিলেতের বুক ছাপিয়ে বিশ্বের মাঝে অনেকের হৃদয়ে ঠাঁই করে নিয়েছেন, ঠাঁই করে নিয়েছেন মগজে ও মননে। আছে কি এমন শক্তি তা মুছে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে?

আমার সঙ্গে কবি মুনিরা চৌধুরীর ব্যক্তিগত পরিচয় নেই। তবে তার লেখার সঙ্গে পরিচিত ছিলাম। আমাদের মাঝে সামান্য ভুল বোঝাবুঝির কারণে দূরত্ব তৈরি হয়েছিলো। যেটা কয়েকজন জানতে পেরে এখন আমাকে বিব্রতকর প্রশ্ন করে। বলে, আমাদের মাঝে ভুল বোঝাবুঝি থাকা স্বত্বেও আমি কেন কবি মুনিরার জন্য এতো মরিয়া হয়ে উঠেছি। কেন আমি তাকে নিয়ে এভাবে লিখে যাচ্ছি! তার কারণ একটাই। তা হলো, আমার ভেতর মানবিক নারীস্বত্বা জেগে উঠেছিলো। কবি মুনিরার মৃত্যুসংবাদ হঠাৎ শোনার পর পরেই বুকের ভেতর প্রচণ্ড আঘাতের ঝড় বয়ে যায়। নারীর মানবিক হৃদয় দিয়ে কবিকে বোঝার চেষ্টা করে যাচ্ছি। কবির হৃদয়ের অনুভূতি কতটা তীব্র হলে পার্থিব জীবনের ঊর্ধ্বে চলে যেতে পারেন, কতটা সহজে মৃতুকে আলিঙ্গন করতে পারেন ;  সেই অনুভূতির তীব্রতা এবং গভীরতা আমাকে এখনো আলোড়িত করে যাচ্ছে।

নারীর অনুভূতি বোঝার ক্ষমতা পুরুষতান্ত্রিক চিন্তা-চেতনার নারীপুরুষের পক্ষে সম্ভব নয়। পুরুষতান্ত্রিক চিন্তা-চেতনাই হলো পুরুষের আধিপত্য আর কর্তৃত্বের অধিকারী হয়ে আছেন যেসব নারীপুরুষ, যেখানে নারীকে সমাজের চোখে শুধু খেলার পুতুলই করে রাখা হয়, যা যুগযুগ ধরে প্রথা হয়ে গেঁথে আছে সমাজ-সংসার-রাষ্ট্রে, যার কতকটা ধর্মীয় অনুশাসন, কতকটা সামাজিক এবং আইনের নিয়মকানুন। এই গণ্ডির মধ্যে যেসব নারীপুরুষের জীবনযাপন ও মানসিকতা ঘোরাফেরা করে এবং তাতে অভ্যস্ত হয়ে উঠে তাদের পক্ষে সম্ভব না কোনো মানুষের হৃদয়ের অনুভূতি অনুধাবন করা। হৃদয়ের অনুভূতি বোঝার ক্ষমতা তাদেরই আছে যাদের চিন্তা-ভাবনায় কোনো সীমারেখা নেই; আছে উদার, অসীম মহানুভবতা। যুগযুগ ধরে এমন অনুভূতি কালের সাক্ষী হয়ে থেকেছে এবং হৃদয়কে করেছে আলোড়িত। আর সেই হৃদয়ের অনুভূতি যদি সৃষ্টিশীল ক্ষমতার অধিকারী হয়ে থাকে, তবে তাকে আটকে রাখে কে! যে হৃদয় সৃষ্টির কথা বলে সে যে প্রকৃতির অংশ হয়ে যায়। প্রথা মেনে চলা মানুষ তা বুঝবে কেমন করে!

নারীর হৃদয় সূক্ষ্ম অনুভূতিসম্পন্ন, স্পর্শকাতর এবং সংবেদনশীল । প্রেম, ভালোবাসায় নারী হৃদয় যুগযুগ ধরে নিবেদিত ও উদার বৈশিষ্ট্যের অধিকারী হয়ে আসছে। এমন হৃদয় বুঝতে হলে ঠিক ততটাই হৃদয়ের গভীরে গিয়ে ডুব দিতে হয়। যেখানে মানবতা এবং মনুষ্যত্ব এক হয়ে কথা বলে। পুরুষতান্ত্রিক মানসিকতার কারণে নারীর হৃদয়ের মূল্যায়ন এই সমাজ কখনই করতে পারেনি। এখনো কিছু নারীপুরুষের মুখে শুনতে হয়, প্রেম করলে মরতে হবে কেন! ‘যত্তসব’ বলে বিরক্ত প্রকাশ করে। আমি অবাক হয়ে ভাবি তাদের বুকে কি হৃদয় বলে কিছু আছে? সবার সবকিছু সহ্য করার ক্ষমতা থাকলে তো এই সমাজে এতো বৈপরীত্য থাকতো না। অথচ হেলাফেলা করে তিলেতিলে এমন অনুভূতিসম্পন্ন মানুষগুলোকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেয়। যার মূল্য দিতে হয় বেশিরভাগই নারীকে। নারী মরেই যেনো প্রমাণ করে সে একসময় বেঁচেছিলো।

কবি মুনিরা চৌধুরী তেমনই আজ পুরুষতান্ত্রিক সমাজের আক্রমণের শিকার হয়েছেন। তার মৃত্যু রহস্য যাইই থাকুক না কেন, উনি একজন কবি; তার সৃষ্টির ছোঁয়া এই পৃথিবী পেয়েছে, মানুষ পেয়েছে। আমরা তার সৃষ্টি নিয়ে কাজ করতে চাই, কথা বলতে চাই। কিন্তু তার কবিস্বত্বাকে পুরুষতান্ত্রিক সমাজের কাছে প্রশ্নবিদ্ধ করে তোলা হচ্ছে। এমনকি কবির হৃদয়ের আকুতি তথাকথিত মানুষের হৃদয়েও ঘা দিচ্ছে না। কবি মুনিরা চৌধুরী মরেও বাঁচতে পারছেন না। তাকে নিশ্চিহ্ন করে ফেলার ষড়যন্ত্র করছে পুরুষতান্ত্রিক মানসিকতার মানুষ। এরাও কালের পাটাতনে চিহ্নিত হয়ে থাকবে। ভার্জিনিয়া উলফ, সিলভিয়া প্লাথ যদি বেঁচে থাকেন পাঠকের হৃদয়ে, তবে কে দিব্যি দিয়ে বলতে পারেন যে কবি মুনিরা চৌধুরীও বেঁচে থাকবেন না ! পুরুষতান্ত্রিক প্রতিরোধ যতই আসুক না কেন, সময় এবং সৃষ্টি তা কিন্তু বলে দিবে। আমার বিশ্বাস কবি মুনিরা   বেঁচে থাকবেন পাঠকের হৃদয়ে।

একদা জানতাম
কার্ডিফের ঐ একটা মাত্র ডানা-ভাঙ্গা কালো কবুতরই আত্নীয় আমার
আত্নীয়টি উড়ে গেছে দূরে, তারপর পুড়ে গেছে

তারপর থেকে
একা বসে আছি
এক শত বছর ধরে

রৌদ্রোজ্জ্বলএইদিনে
আপনছায়াকেটেদিচ্ছি
প্রতি অঙ্গে মেখে নিচ্ছি ছায়ার রক্ত।

প্রাণের বাংলায় প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। লেখা সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় প্রাণের বাংলা বহন করবে না। প্রাণের বাংলার কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না তবে সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করতে পারবেন । লেখা সংক্রান্ত কোনো অভিযোগ অথবা নতুন লেখা পাঠাতে যোগাযোগ করুন [email protected]