মৃতের গ্রাম !

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

ফেইসবুক।সবার কাছেই জনপ্রিয় এই শব্দটি। তাই প্রাণের বাংলায় আমরা সংযুক্ত করলাম ফেইসবুক কথা বিভাগটি।এখানে ফেইসবুকের আলোচিত এবং জনপ্রিয় লেখাগুলোই  আমরা পোস্ট করবো।আপনার ফেইসবুকে তেমনি কোন লেখা আপনার চোখে পড়লে আপনিও পাঠিয়ে দিতে পারেন আমাদের ই-মেইলে।

পরিমল মজুমদার

একটা সুন্দর গ্রাম। অনেকগুলো ছোট ছোট রুম নিয়ে খড়ের চালের বড় ঘর।ঘরের সঙ্গে একটা কদম গাছ। সময়টা বর্ষাকাল কিনা তা বোঝা যাচ্ছে না। তবে গাছটাতে কদম ফুল ফুটেছে। গ্রামটাতে বিদ্যুত নাই। ওই গ্রামে থাকে আমার বাবা, মা বড়’দা আর ছোড়’দা।।

খড়ের ঘরের যে কক্ষটার বিছানায় আমি শুয়ে আছি, তার জানালা খুললেই সামনে একটা বড় পুকুর। সেই পুকুরপারে একটা বট গাছ আছে। গাছটা আমার খুব চেনা চেনা লাগছে।

আমার হাতে অদ্ভুত ধরনের একটা ট্যাব। সেটা রোল করে রাখা যায়। ট্যাবটা রোল করে রেখে, ঘর থেকে বের হলাম। ছোট্ট একটা বাজার। সে বাজারের ধূলিময় রাস্তা দিয়ে গরুরগাড়ি আর বাই সাইকেলে লোকজন চলাফেরা করছে।

ওই বাজারে আমার সঙ্গে দেখা হলো এক মাড়োয়াড়ি ব্যবসায়ীর। তিনি পরিচয় দিলেন, তার নাম মাঙ্গিলাল আগড়ওয়াল। মানুষটাকে চেনা চেনা মনে হলো। তিনি আমার পরিচিত- এমনভাবেই কথা বলতে লাগলেন। আমার মাথায় তীব্র যন্ত্রণা হচ্ছে, বুঝতে পারছি না কিছু।

আমার বড়’দা, একটা সিটের নিচে তেলের ট্যাংকওয়ালা ফিফটি হোন্ডা মটরসাইকেল নিয়ে এলো। আমাকে দেখে, খবরের কাগজ দিয়ে মোড়ানো প্যাকেট থেকে, হালকা গোলাপী রংয়ের ক্যারোলিন কাপড়ের শার্ট বের করলো। বললো- তোর পুজোর শার্ট। আমি ভ্যাবাচ্যাকা খেলাম। ঘামছি। এভাবে দুপুর হয়ে এলো।

পুকুরপার দিয়ে হেঁটে আরেক খড়ের ঘরের কাছে থামলাম। এ ঘরটা খুব চেনা চেনা লাগছে। এটা একটা রান্নাঘর। ভিতর থেকে সর্ষেবাটা আর কাঁচা মরিচ দিয়ে দিয়ে কিছু একটা রান্না করার গন্ধ ভেসে আসছে । উঁকি দিলাম ভেতরে। দেখি, উঁনুনের পাশে মা বসে রান্না করছেন। মা আমাকে দেখে পরম আদরে কাছে ডেকে নিয়ে, পিঁড়ি পেতে বসালেন। বললেন, বাবা কতদিন তোকে হাতে তুলে খাওয়াইনা ..।

আমি ঘামতে শুরু করলাম। আমি আবার কুঁড়ে ঘরটাতে ফিরলাম। রোলকরা ট্যাবটা চালু করলাম। গুগল ম্যাপে সার্চ দিলাম। এটা কোন জায়গা তা ম্যাপে দেখাচ্ছে না। স্ক্রিণটা কেঁপে কেঁপে উঠছে।

আমার মনে পড়ে যায়, মাঙ্গিলাল আগড়ওয়াল একজন পাট ব্যবসায়ী ছিলেন। অনেক বছর আগে, মধূপুরের টিলায় তার মরদেহ পেয়েছিল পুলিশ। আমার মা-বাবা প্রয়াত হয়েছেন অনেক বছর আগে। বড় দাদা ও ছোড়’দাও মারা গেছেন অনেক দিন। আর ক্যারোলিনের হালকা গোলাপী রঙের শার্টটা, আমাকে ছোট বেলায় কোনো পুজোয় বড়’দা বানিয়ে দিয়েছিলেন।

ছবি: লেখক

প্রাণের বাংলায় প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। লেখা সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় প্রাণের বাংলা বহন করবে না। প্রাণের বাংলার কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না তবে সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করতে পারবেন । লেখা সংক্রান্ত কোনো অভিযোগ অথবা নতুন লেখা পাঠাতে যোগাযোগ করুন [email protected]