মৃত্যুঞ্জয়…

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

পোস্টবক্স। ফেইসবুকের একটি জনপ্রিয় গ্রুপ। এবার প্রাণের বাংলার সঙ্গে তারা গাঁটছড়া বাঁধলেন। প্রাণের বাংলার নিয়মিত বিভাগের সঙ্গে এখন থাকছে  পোস্টবক্স-এর রকমারী বিভাগ। আপনারা লেখা পাঠান পোস্টবক্স-এ। ওখান থেকেই বাছাইকৃত লেখা নিয়েই হচ্ছে আমাদের এই আয়োজন। আপনারা আমাদের সঙ্গে আছেন। থাকুন পোস্টবক্স-এর সঙ্গেও।

দুই.

মেহেরাব মুন

ঝুমা আঁতকে ওঠে লাশের কথা শুনে ! বলছে কি লোকটা !
সুমন কোথাও একটা গলদ আছে ধরতে পেরে বলে – লাশ দিয়ে রেখে তুমি সামনে ভ্যান নিয়ে গিয়েছিলে কেন তবে ! এখন যে উল্টো দিকে আবার লাশওয়ালাকে খুঁজছ ! ভ্যান ওয়ালা বললো – আমি সামনের এক চিনা বাড়িত গিয়েছিলাম ভ্যানে চার্জ দিতে ! পেছন ফিরে এমন ভাবে তাকিয়ে কথাটা বললো ভ্যানওয়ালা যে – এইবার সুমন সুদ্ধু ভয় পেয়ে গেলো ! ঝুমার হাতটা শক্ত করে ধরে সুমন মনে মনে বলতে থাকলো – এই রাত-বিরেতে লাশের ভ্যান ছাড়া কি কপালে আর কিছু জুটতে পারলো না ওদের ! গাড়ি থেকে ডাইরেক্ট লাশের ভ্যানে !
সুমনের মা একটা কথা বলতেন – কপালের নাম কুপাল ! কথাটার মানে যেন বাস্তব হয়ে এসেছে ওদের জীবনে আজ !
ব্যাটারি চালিত ভ্যান গাড়ি খুব ধীরে ধীরে চলছে । খুব বেশি চার্জ দিয়ে নিয়ে আসতে পারেনি মনে হয় ! সামনেই একটা পাকুড় গাছ দেখা যাচ্ছে । ওখানে একটু থামলো ভ্যানওয়ালা ! সুমন নেমে একটু হাল্কা হয়ে আসতে সামনে এগিয়ে গেলো ! ঝুমার কেন জানি মনে হচ্ছিলো যে সুমন ফিরে আসবে সে সুমন হবে না ! ভুত টুত হবে ! আরও কি সব আজগুবি কল্পনা এসে জমা হতে আরম্ভ করে দিলো ঝুমা জানে সেসব ! এরই মাঝে একজন হাড়গিলা টাইপ লোক এসে পাকুড় গাছের নিচে দাঁড়ালো ! এলো কোত্থেকে লোকটা ! এক দমই খেয়াল করেনি ঝুমা ! সুমন কোথায় ? এত দেরী করছে কেন কে জানে ? আক্কেল নেই যে মনে রাখবে ঝুমা একলা বসে আছে এখানে ! মেজাজ টাই খারাপ হয়ে যায় রাস্তা ঘাটে একবার হলেও ওকে ছাড়তেই হবে !
সামনে ধান খেতের আইল থেকে সুমন উঠে এলো । ঝুমা পরিক্ষা করবার জন্যে স্যান্ডেলের ফাঁক দিয়ে ওর আঙ্গুল সোজা নাকি উল্টা দেখবার চেষ্টা করলো !
সুমন সামনে থাকা হাড়গিলা লোকটাকে দেখে বলে উঠলো – এ কে ? লাশওয়ালা ! ? !
ভ্যান চালক বললো – হ !
হাড়গিলা লোকটা একটা অদ্ভুত চাহনি নিক্ষেপ করলো সুমনের দিকে ! যেন কথাটা বলে সুমন খুব অন্যায় করে ফেলেছে ! এই রকম একটা চাহনি !
পেছনে পা দুলিয়ে বসলো লোকটা ! ঝুমা আর সুমন দুজনেরই মনে হলো যেন এক দলা বাতাস ভর করেছে ওদের ভ্যানে ! কিছু দূর যাবার পর আকাশে বিদ্যুৎ চমকানো শুরু হলো । সুমন পরিবেশ হাল্কা করবার জন্য বললো – তা, লাশটা কোথায় কিভাবে পেলেন আপনারা ?
পেছন থেকে হাড়গিলা লোকটা বলে উঠলো – না আমরা লাশটা পেয়েছি, আর না আমি লাশওয়ালা ! আমরা যাকে পেয়েছিলাম তিনি জীবিত ছিলেন ! পথের মধ্যে লাশ হয়েছেন !
মাথা ব্যথাটা বেড়ে গিয়েছিলো ঝুমার , মাথায় হাত দিয়ে তাই ঝুমা বললো – দেখুন , আপনাদের কথা শুনে আমাদের আগ্রহ হতেই পারে ! আমার কাছে তো জিনিসটা গল্পের মতন লাগছে ! তাই , পেঁচ খুলে একটু খুলে বলুন দয়া করে । কথা বলতে গিয়ে কেন যেন রেগে গিয়েছিলো ঝুমা । আসলে উদ্ভূত পরিস্থিতিটাই অসহ্য লাগছিলো ঝুমার । উতরে যেতে পারলেই মনে হচ্ছিলো যেন বেঁচে যাবে !
উতরে যাওয়া তো দূর – ঝুমাকে আর সুমনকে অস্থিরতার সমুদ্রে যেন নিক্ষেপ করলো পরবর্তী কথাগুলো !
লাশটি ছিলো একটা মেয়ের যে কিনা মধুপুরের এক রাস্তায় মুমুর্ষ অবস্থায় পড়েছিলো । কে বা কারা খুন করতে চেয়েছিল নির্মম ভাবে । মরে গেছে ভেবে ফেলেও গিয়েছিলো। হাড়গিলা লোকটি বললো – রাতে বনে ঘুরে বেড়ানোর সময় সে মেয়েটিকে কাতরাতে দেখে কাঁধে করে বনের বাইরে নিয়ে আসে । এবং অনেক দূর হেঁটে আসবার পর এই ব্যাটারি ভ্যান ওয়ালাকে পেয়ে যায় আর বাড়ি খুঁজতে খুঁজতে চলে আসে ! ধনবাড়ি পার হয়ে কিছু দূর যাবার পরই মেয়েটা মারা যায় ! এখানে যে হসপিটাল ছিলো ইদের ছুটিতে সেখানে কোন ডাক্তার ছিলো না । ওরা বুঝতে পেরেছিলো যে বাঁচবে না মেয়েটা ! পুলিশ কেইস হবে । বাড়ি ঘর না চিনলে বেওয়ারিশ হয়ে যাবে লাশ ! তাই , নিজের তাগিদে ওরা বাড়ি পৌছে দিয়েছে মেয়েটাকে। জীবিত পোঁছে দিতে চেয়েছিলো খুব , কিন্তু পৌঁছে দিয়েছে লাশ । এরপর যা হয় দেখা যাবে নাহয় !
ঝুমা খুব অস্বস্থি নিয়ে বললো – রেইপ কেইস নাকি ? হাড়গিলা লোকটি বললো – না । আপন চাচায় মারছে !
সুমন বললো- আপনি কেমন করে জানলেন ? হাড়গিলা লোকটি বললো – জানি আমি ! আপনের গাড়ি নষ্ট হইছে কারেন্ট পায়না বইলা যেমন জানি তেমন কইরা জানি সব !
ড্রাইভার ভাই। থামেন , আমি নামমু ! বলেই লোকটি একটি চিকন আইল ধরে অচেনা গ্রামের পথে হারিয়ে গেলো !
সুমন বললো ভ্যান ওয়ালাকে ! আজব লোক ! নিজেই বানিয়ে বলে দিলো যে চাচা মেরেছে !
ভ্যান ওয়ালা বললো – স্যার ! সে জানে ! আপনের গাড়ি নষ্ট হওনের কতা কিন্তু আমি তারে বলি নাই !
সুমন ভেবে দেখলো , গাড়ি নষ্ট হয়েছে নাহয় বলে দিলেও দিয়ে থাকতে পারে ভ্যানওয়ালা কিন্তু কারেন্ট পায়না এটা কি করে জানলো হাড়গিলা লোকটা !
সুমন আর ঝুমা বোকার মতন ঢোক গিলে চাপা ভাঙ্গা ভ্যান ওয়ালাকে বললো – আর কতক্ষণ লাগবে ধনবাড়ি যেতে ?
ভ্যানওয়ালা বললো – আট কি দশ মিনিট !(চলবে)

( একটি অতিপ্রাকৃত সত্যি গল্প )

ছবি: গুগল

প্রাণের বাংলায় প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। লেখা সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় প্রাণের বাংলা বহন করবে না। প্রাণের বাংলার কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না তবে সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করতে পারবেন । লেখা সংক্রান্ত কোনো অভিযোগ অথবা নতুন লেখা পাঠাতে যোগাযোগ করুন [email protected]