মেঘ, বৃষ্টি , বিজলী এবং আমি

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সা’দ জগলুল আববাস।একজন মুক্তিযোদ্ধা। অবসরপ্রাপ্ত ব্যাঙ্কার।সাহিত্য এবং সংগীতানুরাগী। খেলাধুলা ভালবাসেন। সৌখিন আলকচিত্রী। মাঝে মাঝে আঁকাবুকি করেন।লেখালেখিও শখের বশেই করেন।

সা’দ জগলুল আববাস

একটা গল্প দিয়ে শুরু করি…এটা ২০১৭ এর ১৭ই জুলাই মাসের ঘটনা-তখন বর্ষাকাল।সন্ধ্যায়, মানে এই যখন প্রায় সাড়ে আট’টা বাজে, মেঘের দু’বান্ধবী…বর্ষা আর বিজলী হুট করে প্ল্যান করলো,ওরা তিনজন আকাশের বাড়ীতে সারপ্রাইজ ভিজিট দেবে, আকাশের আঙ্গিনায় চোর পলান্তি খেলবে। আমি ওদের পিছনেই ছিলাম, প্ল্যানটা শুনে বললাম আমিও খেলবো! শুনে তিনজনের মুখ চেপে খিল খিল হাঁসি! বিজলী চোখ নাচিয়ে বললো, ইহা নবীনদের খেলা, তুমি বুড়ো হয়ে গেছো,পারবে না ” ! তাইতো, বেশ বেলা হলো! আমিও নাছোড় বান্দা ” ঠিক আছে আমি ছাদে বসে তোমাদের খেলা দেখবো , টিকিট তো লাগবে না! ওরা রাজি হলো! শুরু হলো চোর পলান্তি…দারুন মজার খেলা… বিজলিকে খুঁজে পাওয়া ভীষণ কঠিন ! কিছুক্ষন খেলার পর বর্ষা ” রাত হয়েছে, মা বকবে” অজুহাত দিয়ে বিদায় নিলো। আকাশ, মেঘ আর বিজলির খেলা অনেকক্ষণ চললো ,বিজলী মাঝে মাঝে উঁকি মারে, সামনে তো আসে না! আমিও ধৈর্য হারিয়ে উঠে পড়বো , ঠিক তখনি বিজলী ধুম করে সামনে এসে কোমর নাচিয়ে বললো “এই বুড়ো, কই যাও? বসো”! কি, গল্পটা  বিশ্বাস হোল না তো? ঠিক হ্যায়…আপনারাই বলুন আমি কি চাপা মারলাম?

কলেজ জীবন থেকেই আমার ছবি তোলার আগ্রহ জন্মায় কিন্তু তখন সামর্থ্য না থাকায় নিজের কোন ক্যামেরা ছিলো না। বন্ধুদের ক্যামেরা দিয়েই মাঝে মাঝে শখ পূরণ করতে হতো। আমি আমার প্রথম ক্যামেরার মালিক হই অনেক পরে, তখন বাংলাদেশে মাত্র ক্যানন ইওএস ক্যামেরাCanon EOS এসেছে। তারপর আমি একটা সেমি অটোম্যাটিক নাইকন  কিনি-তখন ফিল্ম ক্যামেরার যুগ।

এরপর এলো যুগান্তকারী ডিজিটাল ক্যামেরা , যা ছবি তোলাটা অনেকখানি সহজ করে দিয়েছে ।

ফটোগ্রাফিতে আমার কোন ফর্মাল বা প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা নেই , প্রথম দিকে বই ছাড়া কোন উপায় ছিলো না। বই ঘেঁটে, এবং পরীক্ষা নিরীক্ষার মাধ্যমে যে টুকু পারি শেখার চেষ্টা করেছি! এখনতো ইউটিউব এ ছবি তোলার সমস্ত কায়দা কানুন জানা এবং শেখা যায়। আমার ডিজিটাল ক্যামেরার ব্যবহার আমি সেখান হতেই রপ্ত করেছি।

এই ইউটিউব ঘাঁটতে গিয়ে আমি একদিন বিজলীর ছবি তোলার কিছু ভিডিও পাই এবং আমার খুব আগ্রহ জন্মায় বিজলীর ছবি তোলার। আমার প্রাথমিক ধারনা ছিলো এরকম যে, ওই ছবি তোলা হয়তো খুব একটা কঠিন কাজ হবে না ; কিন্তু কয়েকবার ব্যর্থ হবার পর বুঝলাম, এ কাজটা কঠিন তো বটেই, একই সঙ্গে খুব বিপজ্জনক ও। কারণ বিজলীর ছবি নিতে হলে ছবিয়ালকে মোটামুটি  খোলা জায়গায় আসতেই হবে, সঙ্গে থাকতে পারে ঝড় বৃষ্টি। আমি যে ক’বার চেষ্টা করেছি, সেটা দশ তলা দালানের ছাদ হতে।

ভিতরে একটা জিদ কাজ করছিলো–অন্যরা পারলে আমি কেন পারব না। তক্কে তক্কে ছিলাম, একদিন সন্ধ্যার একটু আগে দেখি আকাশ মেঘে ছেয়ে গেছে টুক টাক বিজলী চমকাচ্ছে ; ক্যামেরাটা আর ট্রাইপড নিয়ে ছাদে চলে গেলাম। ইউ টিউবে শেখা পদ্ধতি অনুযায়ী ক্যামেরা সেটিংস ঠিক করে  ট্রাইপডে বসালাম। ততক্ষণে বিদ্যুত চমকানো বেশ ভালো ভাবেই হচ্ছিলো, কিন্তু ওই যে সেকেন্ডের ভগ্নাংশ পরিমান সময় ধরা কঠিন হয়ে গেলো, উনি কখন দেখা দিবেন, সেটা উনি ছাড়া আর কারো অনুমান করা আমি বলবো অসাধ্য। ছাদের দরজার উপর  ফুট দুই বাড়ানো  একটা শেডের মতো আছে, আমার অবস্থান ছিলো সেটার নিচে; এরই মাঝে শুরু হলও ঝড় – বৃষ্টির ঝাপটায় আমি ক্যামেরা নিয়ে বেসামাল। বিজলী চমকাচ্ছে কিন্তু ধরতে পারছিলাম না কিছুতেই। প্রায় ত্রিশ মিনিটের মতো পার হয়ে গিয়েছিলো আমি অনবরত চেষ্টা করে যাচ্ছি। আচমকা একটা বাজ পড়লো খুব কাছেই, আমি ভয়ই পেয়েছিলাম। ততক্ষনে বৃষ্টি কিছুটা ধরে এলো,বিজলীর চমকানো কমে এসেছে- আমিও মন খারাপ করে ট্রাইপড হতে ক্যামেরা খুলে হাতে নিলাম। মনে মনে ভাবছিলাম, এবারো হলও না। কি মনে করে ক্যামেরাটা হাতে নিয়ে  আরেকবার উত্তুরের আকাশের দিকে তাক করলাম…ওয়াও…বিজলী দেবী ঠিক তক্ষুনি আমাকে অবাক করে সারা আকাশ জুড়ে ঝলমল করে উঠলো; আমিও তাকে ধরে ফেললাম অনেক সাধনার পর।  কষ্ট করলে যে কেষ্ট মিলে, ছবি দুটো সেটাই প্রমাণ করে।

সতর্কীকরণঃ লাইট্যানিং এর ছবি তোলা যেমন কষ্টকর, তেমনি বিপদজনক;পুরো ব্যাপারটা ভালো ভাবে না জেনে দয়া করে কেউ চেষ্টা করবেন না-লেখক।

প্রাণের বাংলায় প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। লেখা সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় প্রাণের বাংলা বহন করবে না। প্রাণের বাংলার কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না তবে সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করতে পারবেন । লেখা সংক্রান্ত কোনো অভিযোগ অথবা নতুন লেখা পাঠাতে যোগাযোগ করুন [email protected]