যত দেখি তত আমার দেখার ইচ্ছে জাগে

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

শিল্পী কনকনকচাঁপা কচাঁপা এবার গানের পাশাপাশি প্রাণের বাংলার পাতায় নিয়মিত লিখছেন তার জীবনের কথা। কাটাঘুড়ির মতো কিছুটা আনমনা সেসব কথা, হয়তো কিছুটা অভিমানিও। কিছুটা রৌদ্রের মতো, খানিকটা উজ্জ্বল হাসির মতো।

যতদুর গিয়েছিলাম আবার যতদূর ফিরে এসে দেখি পাসপোর্ট টিকিট ফাইলপত্র গুলো ওখানেই আছে।ঘাম দিয়ে জ্বর ছাড়লো। তারপর প্রায় ঘন্টাখানেক পথ গিয়ে থামলাম আমাদের জন্য রাখা ইকোনো লজ।কেমন একটা ঘোর কাজ করছিলো। আমেরিকা এসেছি! আমার গান শোনার জন্য মানুষ ভিসা ফি,পছন্দসই এয়ারক্রাফট এর প্লেন দিয়ে আমার অভিভাবক সহ আমাকে আমেরিকা এনেছে ।অথচ আজ থেকে দশ বছর আগে বিচক্ষণ একজন অভিশাপ এর মতো ভবিষ্যৎ বানী করেছিলেন যে অভিভাবক সহ এতো “প্যাখনা” করলে জীবনে কখনো বিদেশে যাওয়া যাবে না।কিন্তু কি আশ্চর্য, তা আজ মিথ্যা প্রমানিত হয়েছে। যাইহোক। প্রথম অনুষ্ঠানেই মানুষ আমাকে খুব পছন্দ করলো। নিজের তেমন গান নাই।গান গাচ্ছি নিয়মিত কিন্তু সেই গান তেমন হিট হয়নি।যা জনপ্রিয় হচ্ছে সেগুলো আমেরিকা পৌঁছায়নি। প্রথম অনুষ্ঠানে প্রথম গাইলাম এক নদী রক্ত পেরিয়ে। মানুষের মগ্নতা আমাকে অনেক সাহস দিলো।আমি একে একে নজরুল সংগীত গাইলাম লালনের, গান হাসনের গান‘ পুরনো দিনের গান গাইলাম। হল ভর্তি দর্শক এর মুগ্ধতা আমাকে মুগ্ধ করে দিলো।আমি মঞ্চেই গানের ইন্টারল্যুডেই চোখ বুঁজে বলছিলাম আলহামদুলিল্লাহ আলহামদুলিল্লাহ আলহামদুলিল্লাহ।

 অনুষ্ঠান শেষে অনেক মানুষের সঙ্গে পরিচয় হলো। রাতে তাদের ফর্মাল ডিনারে অংশ নিয়ে আবার ইকোনো লজে ফেরত এলাম।পরদিন লস এঞ্জেলস এর খুব নামকরা দু‘জন বিশিষ্ট সমাজসেবক মোমিনুল হক বাচ্চু ভাই এবং ভয়েজ অফ আমেরিকার সাংবাদিক জনাব সাইফুর রহমান ওসমানী জিতু ভাই আমাদের কাছে এলেন।বললেন এতো ভালো অনুষ্ঠান হয়েছে, আমরা উনার আরও অনুষ্ঠান করবো। আপনারা এখন যাবেন না।আমরাও খুশী। এতো লম্বা জার্নি করে এতো দূরের দেশে এসে একটা অনুষ্ঠান করে মনেও শান্তি আসেনা, আর্থিক ভাবেও পোষায় না।আমরা তাদের কথায় সায় দিলাম। কিন্তু অনেক দিন তো হোটেল মোটেল এ থাকা যায়না।ওনারা বললেন আপনাদের থাকার ব্যবস্থা করবো আমরা। আমার জীবনসঙ্গী বললেন উনার বন্ধুর বাসা আছে সেখানে উনি কিছুদিন থাকবেন। আমরা সেই বন্ধুর বাসায় গেলাম।

উনাদের বাসায় থাকি, আদর আপ্যায়ন এর কোন কমতি নাই।খুবই আনন্দিত সময় পার করা উচিৎ কিন্তু বাচ্চাদের জন্য মোটেও সময় আনন্দের হচ্ছিলো না।ফোনকার্ড কিনে ঘরের ফোনেই কথা হয় কিন্তু তাতে কষ্ট আরও বাড়ে।

 আমি দেখেছি আমার জীবনে দুঃখ সুখ সমানতালে আসে। দুঃখ সুখের দুইটি ধারায় আমার জীবন সব সময় ডোরাকাটা হয়ে থাকে। শান্তির স্বাদ পেতেই অশ্রু আসে,অশ্রু মুছতেই রোদ ওঠে, রোদ থাকতেই বৃষ্টি নামে। এইসব টানাপোড়েনের মাঝেও আমি জীবনের স্বাদ নিতে থাকি,যেমন করে অনিচ্ছুক ঠোঁট আমার অশ্রু চেটে চেটে নোনা দুঃখের স্বাদ নেয়।

 আমরা একমাস আঠাশ দিন সেবার আমেরিকা থাকলাম

ছবি: লেখকের ফেইসবুক থেকে

প্রাণের বাংলায় প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। লেখা সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় প্রাণের বাংলা বহন করবে না। প্রাণের বাংলার কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না তবে সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করতে পারবেন । লেখা সংক্রান্ত কোনো অভিযোগ অথবা নতুন লেখা পাঠাতে যোগাযোগ করুন [email protected]