যত ভয় রাজনীতিকে

 

ফারহাদ টিটো

মাশরাফি সামনের নির্বাচনে অংশ নেবেন হয়তো , নিতে পারেন সাকিবও.. সাবেক আইসিসি ও বিসিবি প্রধান, বর্তমান সরকারের পরিকল্পনামন্ত্রী আ-হ-ম মুস্তাফা কামালের এই ধরণের উচ্চারণ মিডিয়ায় আসতেই দেশে-বিদেশে কোটি বাংলাদেশির মনে আতংক ছড়িয়ে পড়েছিলো। এই আতংকের কারন স্পষ্ট । কেউ তাদের জাতীয় আর স্বপ্নের নায়কদের দেশি রাজনীতির নোংরা মাঠে দেখতে চায় না । পরে যদিও খবর এসেছে বক্তব্য অস্বীকার করেছেন সাবেক বিসিবি প্রধান । অথবা বলতে চেয়েছেন ঠিক সেভাবে বলেন নি মিডিয়ায় আসা তার বক্তব্য ।
কিন্তু তাতেও কি সন্দেহ কাটছে মানুষের মন থেকে ! নিউজে পড়লাম, মাশরাফি নিজেও বলেছেন এ ব্যাপারে তিনি কিছুই জানেন না। কিন্তু পরিকল্পনা মন্ত্রী আর তার সরকার যদি পরিকল্পনা করেই থাকে মাশরাফি-সাকিবদের রাজনীতিতে নিয়ে আসার তাহলে তা আজ নয়তো কাল হবেই !
দেশের জনপ্রিয় নাগরিক হিসেবে মাশরাফিরা রাজনীতিতে যোগ দিতেই পারেন তবে এখনই কেন ? খেলার মাঠে দেশকে তো আরও কিছু দেওয়ার বাকি তাদের ! খেলা ছাড়ার পর, অবসরে যাওয়ার পর তারা যদি রাজনীতিতে এসে সুস্থ রাজনীতির উদাহরণ রাখতে পারেন.. তাহলে তো স্বাগতই জানাবে তাদের সমর্থকরা এবং আপামর জনতা ।
তারকা খেলোয়াড়দের রাজনীতিতে যোগ দেয়ার ঘটনা অনেক আছে বাইরের দুনিয়ায়(আছে বাংলাদেশেও)। পাশের দেশ ভারতে তো এমন উদাহরণ অনেক। পাকিস্তানে ইমরান খানের রাজনীতিতে যোগ দেয়ার ঘটনা তো ক্রিকেট এমন কি ক্রীড়া বিশ্বেরই সবচে’ বড় খবর ছিলো । ইমরান কিন্তু অধিনায়ক হিসেবে জাতিকে বিশ্বকাপ উপহার দেয়ার পরই কাজটা করেছিলেন । তার এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেনি ক্রিকেট আর ইমরান-পাগল সব স্তরের পাকিস্তানীরাও ।

তাদের ক্যারিয়ারের শেষ অথবা সেরা সময়ে দেশের দুই ক্রিকেট মহানায়ককে নিয়ে এমন আত্মঘাতী পরিকল্পনা করবেন না প্লিজ..আপনি নিজেও তো রাজনীতিতে ঢোকার আগে ক্রিকেটারদের আগলে রাখতেন সংগঠক হিসেবে, তারা খেলা ছাড়া অন্য কিছুতে জড়াক তা আপনি চাইতেন না মনেপ্রাণে । আমি আপনার ক্রিকেট সাংগঠনিক ক্যারিয়ারের অনেকটা খুব কাছ থেকে দেখেছি বলেই বলছি কামাল ভাই…
আপাতত স্রেফ ‘কল্পনামন্ত্রী’ হয়ে যান মাশরাফি-সাকিবের ব্যাপারে। পরিকল্পনাটা তুলে রাখুন দেশের অন্যান্য উন্নয়নে।

ছবি:গুগল