যথাযথ কর্তৃপক্ষ ভেবে দেখবেন কি

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

শিল্পী কনকচাঁপা এবার গানের পাশাপাশি প্রাণের বাংলার পাতায় নিয়মিত লিখছেন তার জীবনের কথা। কাটাঘুড়ির মতো কিছুটা আনমনা সেসব কথা, হয়তো কিছুটা অভিমানিও। কিছুটা রৌদ্রের মতো, খানিকটা উজ্জ্বল হাসির মতো।

জীবন সবসময় এক রকম চলে না।যতই বলা হোক “মধ্যম আয়ের দেশ বাংলাদেশ” কিন্তু সত্যিকার অর্থে বাংলাদেশের বেশির ভাগ তৃণমূল পর্যায়ের মানুষই আসলে নিম্নবিত্ত।মধ্যম আয়ের পরিসংখ্যান সত্যিই একটা পরিসংখ্যান মাত্র। কত অভাব অনটন কত অত্যাচার অবিচার অশিক্ষার ভেতর দিয়ে আমাদের যেতে হয়।কৃষক তার ফসলের ন্যায্য মূল্য পায়না।কোন বছর অতিবৃষ্টি কোন বছর অনাবৃষ্টি কখনো তাপদাহে ফসল পুড়ে যাওয়া।কখনো পোকার আক্রমণ তাদের বিপর্যস্ত করে ফেলে। ছাত্রছাত্রীরাও কতো অসুবিধার মধ্যে পড়াশোনা করে। প্রশ্ন ফাঁস, অপ্রতুল শিক্ষালয় নানাবিধ কারণে কতো মেধাবী ছাত্র অকালে ঝরে যায়।চুরি ডাকাতি খুন খারাবি ঘুষ দুর্নীতির আধিপত্যের সঙ্গে আছে রাজনৈতিক ক্ষমতার অশুভ আগ্রাসন। যেগুলো নিয়ে কেউ কথা বলে না। সত্যিকার অর্থে কথা বলার স্বাধীনতাও বাংলাদেশের মানুষের নাই।তাই যার যার নিজের দুঃখ নিয়ে কোনভাবে দিন পার করাও বাংলাদেশ মানুষের অভ্যাস এ দাঁড়িয়ে গেছে। অথচ কত শক্তিশালী গন অভ্যুত্থান এর দেশ বাংলাদেশ।

বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন, একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ সফল তো সাধারণ জনগনই করেছেন। আজ তারা নানাবিধ যন্ত্রণা, না পাওয়ার বেদনা নিয়েই হাসিমুখে জীবন পার করছেন। কারণ তাদের জন্মগত স্বভাব হচ্ছে হাসিমুখে দিন পার করা, এই খুব অল্পতেই হাসতে পারা জাতি পৃথিবীতে বিরল। শুধু বাংলাদেশ নয়,গোটা পৃথিবীর সব কিছুই নষ্ট হয়ে যাচ্ছিলো, সব কিছুই চলে যাচ্ছিলো নষ্টদের দখলে। তবুও জীবন কেটে যাচ্ছিলো জীবনের প্রয়োজনে। হঠাৎ করেই গত বছরের মার্চে করোনা তার ভয়াল থাবা বসিয়ে সব ওলট পালট করে দিলো।প্রথম দিকে আমরা বুঝেই উঠতে পারিনি কি রেখে কি করলে এ থেকে পরিত্রাণ পাওয়া যেতে পারে।মানুষের কাজকর্ম কমে গেলো।কর্মহীন মানুষ দিশাহারা হয়ে গেলো।

কত স্বজন হারালাম আমরা প্রথম ধাক্কায়।তারপর ও এই মহামারিতে যা তান্ডব হওয়ার কথা ছিলো ততটা হলো না।বিস্ময়কর ভাবে বাংলাদেশ অল্পের উপরেই বেঁচে যাচ্ছিলো। আমরা ভাবলাম ভ্যাক্সিন পাওয়া গেলেই মনে হয় করোনাকে পরাস্ত করতে পারবো। একসময় তা পেয়েও গেলাম। কিন্তু বিধি বাম! এ বছরের দ্বিতীয় মাস থেকেই আবারও করোনার প্রকোপ বাড়তে থাকলো। যাদের সরকারি চাকরি আছে আর যারা শিল্পপতি বড় বড় ব্যাবসায়ী তারা ছাড়া সবাই আবারও “উপার্জন বিপাকে” পড়লো। সরকার থেকে সেভাবে সাহায্য এলেও, জনগন কতটুকু পেলো তাও দেখার বিষয়। সাধারণ আয়ের, নিম্ন আয়ের অথবা দিন এনে দিন খাওয়ার মানুষ গুলো আজ বড়ই বিপাকে। উপার্জন না করলে খাবে কি এই চিন্তা বড় নাকি করোনাক্রান্ত হয়ে মরে যাবে এই সিদ্ধান্তে তারা কোথাও থেকে কোন উত্তর পাচ্ছেনা। তার উপর খরা, রোজায় অনুচ্চস্বরে দ্রব্যমূল্যের উর্ধগতি, সব কিছু নিয়ে মানুষ দিশেহারা হয়ে পড়েছে। যেমন তাপমাত্রা দেখা যাচ্ছে এবার এমন তাপমাত্রা বাংলাদেশের ইতিহাসে খুব কমই হয়েছে। রিক্সাওয়ালা এই রোদে রিকশা বের করবে কি করবে না এমন ভাবার সুযোগই পাচ্ছেনা কারণ লকডাউন! আর এই লকডাউন আসলে যাচ্ছে শুধু রিক্সাওয়ালা আর হকারদের উপর দিয়ে।

রোডপাস নিয়ে বাকি সবাই মোটামুটি চলাফেরা করছে, করোনা রোডপাস ওয়ালা মানুষকে ধরবেনা বোধকরি! কলকারখানা ও চলছে মাল্টি ন্যাশনাল কোম্পানির অফিস অনলাইনে চলছে, চলছে বিত্তবানদের অনলাইন শপিং। শুধু এই নিম্ন আয়ের (পড়ুন নিম্নমানের)মানুষ গুলো রোদে পুড়ে অনাহারে অবিচারে ধুঁকে ধুঁকে বাঁচছে অথবা মরতে মরতে বেঁচে আছে। নিজের গায়ে কাদা মেখে রাজনীতিতে নাম লিখিয়েছি শুধু মানুষের পাশে দাঁড়ানোর অভিপ্রায়ে। রাজনৈতিক প্যাঁচগোচ এতো বুঝিনা আমি তবে এতো টুকু বুঝি আমাদের সরকারের উচিত এই খেটে খাওয়া মানুষগুলোকে এভাবে লাথি না মেরে ( একটি ভিডিওতে দেখলাম একজন হকার পুলিশকে দেখে ছাতার নীচে লুকিয়েছে,পুলিশ তাকে এমন হৃদয় বিদারক ভঙ্গিতে লাথি মারলো! আমার প্রশ্ন এভাবে লাথি মারা কি পুলিশ প্রশাসনের অধিকারের মধ্যে পড়ে? এমন লাথি তো পাক হানাদার বাহিনী মারতো যা আমরা সিনেমা নাটকে দেখেছি) তাদের দু’মুঠো ডালভাতের ব্যবস্থা করা।  যাতে তাদের রিক্সা বা ভ্রাম্যমাণ দোকান নিয়ে বাইরে বের না হতে হয়। নিশ্চয়ই একদিন এই মহামারি থাকবেনা কিন্তু ততদিনে যদি সাধারণ জনগণ সামান্য ডালভাত খেয়ে হাসিমুখে থাকা ভুলে যায় তাহলে তা পুরো বাংলাদেশের জন্য ভালো কথা নয়।কথাটা খুব সাধারণ কিন্তু অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ অর্থবহ। যথাযথ কর্তৃপক্ষ ( জানিনা তারা কোথায় থাকেন?) ভেবে দেখবেন কি?

ছবি: গুগল


প্রাণের বাংলায় প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। লেখা সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় প্রাণের বাংলা বহন করবে না। প্রাণের বাংলার কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না, তবে সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করতে পারবেন । লেখা সংক্রান্ত কোনো অভিযোগ অথবা নতুন লেখা পাঠাতে যোগাযোগ করুন [email protected]


https://www.facebook.com/aquagadget
Facebook Comments Box