যেখানে নিজের দেশ নেই, সেখানে আমিও নেই

মেহেরুন নেসা

ফেইসবুক এর গরম আড্ডা চালাতে পারেন প্রাণের বাংলার পাতায়। আমারা তো চাই আপনারা সকাল সন্ধ্যা তুমুল তর্কে ভরিয়ে তুলুন আমাদের ফেইসবুক বিভাগ । আমারা এই বিভাগে ফেইসবুক এ প্রকাশিত বিভিন্ন আলোচিত পোস্ট শেয়ার করবো । আপানারাও সরাসরি লিখতে পারেন এই বিভাগে। প্রকাশ করতে পারেন আপনাদের তীব্র প্রতিক্রিয়া।

ব্রাজিল! ব্রাজিল আর ব্রাজিল! কাঁহাতক ভালো লাগে এই অত্যাচার? ঘরময় পোস্টারের ছড়াছড়ি! তারপর আবার পত্রিকাগুলোর ক্রীড়া সংক্রান্ত ম্যাগাজিন। এরপর জার্সি কেনার হিড়িক। যাক ঘরে যদিও পুংলিঙ্গের তারা তিনজন কিন্তু বয়সে সবার বড়জন আবার জার্সি কেনা থেকে বিরত থাকলেন।

এরপর শুরু হলো খেলার সময়-সূচী কসটেপ দিয়ে দেয়ালে সাঁটানো! এবারতো আমার মেজাজ আরো বিগড়ে গেলো। স্বয়ং ঘরের কর্তা কিনা ছেলেদের সুবিধার্থে ঘরের দেয়ালে এই কম্ম করছেন।

রেগে গিয়ে বললাম, ” অনর্থক কেনো ঘরের দেয়ালের সৌন্দর্য নষ্ট করছো?”

তিনি তার দস্যি দুই ছেলেকে ডেকে বললেন, “শুনছো নি অর্ক, তোমার আম্মু বলতেছে খেলার পোস্টার লাগানো নাকি অনর্থক!”

সঙ্গে সঙ্গে ছেলের প্রতিক্রিয়া, ” আরে আব্বু, তুমি লাগাও তো পোস্টার! আম্মু খেলার কি বুঝে?”

আমার আবার ধান না দিতেই খই ফুটে যায়। তড়িঘড়ি আমিও প্রতিউত্তরে বললাম, ” আমি খেলা বুঝিনা, তাইনা? দুত্তুরি ব্রাজিল! তারাতো খালি খেলে আর গোল খায়! তাদেরতো গোল দিতে দেখিনা।”

হায়! হায়! আমার ঘরের তিন পুরুষের তিন জোড়া চোখ যেনো আমাকে ভষ্ম করে ফেলবে। তাদের ভাবখানা এমন যে, আমি খেলার কিছুই বুঝিনা; সুতরাং ব্রাজিল নিয়ে আমি যে কথা বলেছি তাতে আমি নিজেকে এ ব্যাপারে আরো মূর্খ হিসেবে পরিগণিত করলাম।

যাক! আমি আর ব্রাজিল নিয়ে উচ্চ-বাচ্য করলাম না। পরদিন শুরু হলো আবার ব্রাজিলের অত্যাচার। বাপ-বেটা তিনজন মিলে ছাদে ব্রাজিলের পতাকা লাগাবে।

উহ! আবার ব্রাজিল! পড়ালেখা বাদ দিয়ে ঘরে এসব কি পোদ্দারী শুরু হলো!

কর্তাকে বললাম, “ছেলেদের সঙ্গে তুমিও কি ছেলেমানুষী শুরু করলে?”

এবার ছোট ছেলে বাবার পক্ষ হয়ে আমাকে জ্ঞান দিলো,” খেলা-ধূলার আবার বয়স আছে নাকি?
আম্মু তুমি যে কি! তুমি খালি তোমার লেখালেখি আর সাজগোজ নিয়ে আছো! “

আমি তো অবাক। এই পুঁচকে ছেলে বাপের আশকারায় কিনা আমার সাজগোজ নিয়ে কথা বলে!
আমি একদম জোর গলায় বললাম, ” আমি তোদের মত অর্থহীন কাজ নিয়ে কখনো ব্যস্ত থাকি না! যত্তসব!”

এবার বড় ছেলে ধ্রুব রাগ হয়ে বললো, ” আম্মু, ব্রাজিল সাপোর্ট করা কি অর্থহীন কাজ?”

আমি বললাম, ” হ্যাঁ রে হ্যাঁ! অর্থহীনতো বটেই!”
ছেলে এবার সুধোয়,”আচ্ছা আম্মু, তুমি কি মেসীর সাপোর্টার মানে আর্জেন্টিনা? “

আমি জোর গলায় বলে উঠলাম, ” না রে না! আমি ব্রাজিলও না, আর্জেন্টিনাও না, জার্মানীও না! যেখানে বাংলাদেশ নেই, মানে আমার নিজের দেশ নেই, সেখানে আমিও নেই!”

অবশেষে তারা বাপ-বেটা তিনজনে একদম চুপ মেরে গেলো!

ছবি: গুগল