যে কোন দলই ছিটকে পড়তে পারে

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

আহসান শামীম

আষাঢ় মাস। বৃষ্টি নেই, চলছে তাপদাহ। এই তাপপ্রবাহের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে উপরে উঠছে ক্রিকেট বিশ্বকাপের উত্তেজনার পারদ। আশা আর শঙ্কা, স্বপ্ন আর বাস্তবতার হাত ধরে ক্রিকেট ভক্তদের দিন কাটছে রুদ্ধশ্বাস। বাংলাদেশ দল কি সেমিফাইনালের ঘরে পা রাখতে পারবে? দেশের মানুষের মনে প্রশ্ন এখন একটাই। ১১ জনের এই বাহিনী নিয়ে আমাদের অনেক স্বপ্ন, অনেক আশা।

 কিন্তু ক্রিকেট কাগজে কলমে চিন্তায় স্বস্তি দিলেও মাঠের খেলাটা একেবারেই অন্যরকম। অনিশ্চয়তা চিরসঙ্গী ক্রিকেটের। কেমন করবে বাংলাদেশ সামনের লড়াইয়ে? কোন দল কেমন খেললে ভাগ্যে শিঁকে ছিড়বে আমাদের? কী দরকার বাংলাদেশ দলের, রানের পাহাড় না শুধু জয় এমন সব চিন্তা নিয়ে কাগজে হিসেব কষছেন ক্রিকেট ভক্তরা।

এবার প্রাণের বাংলার প্রচ্ছদ আয়োজনে রইলো বিশ্বকাপ ক্রিকেট নিয়ে আয়োজন।

ভাগ্য বিড়ম্বনায় আর পীচ কন্ডিশন বুঝতে সমস্যা হওয়ায় ইংল্যান্ডকে আগে ব্যাটিংয়ে পাঠানো আফসোসটা করতেই পারে বাংলাদেশ। প্রধান কোচের সিদ্ধান্তে টস জয়ের পরও অধিনায়ক মাশরাফির ইচ্ছার বিরূদ্ধেই ঘটেছিলো ঘটনাটা। তারপর বৃষ্টি ভেস্তে দেয় লঙ্কানদের বিপক্ষে ম্যাচটা। বাজে বোলিং আর ফিল্ডিং এর কারনে অষ্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে পরাজয় নিয়ে মাঠ ছাড়ার কষ্টগুলোও হিসাবের খাতায়। সেমিফাইনালে ওঠার স্বপ্ন সেই সব অঙ্কের যোগ- বিয়োগের ফলাফল অস্বস্তি হয়ে গলার কাছে আটকে আছে সমর্থকদের। তাদের দীর্ঘশ্বাসের সঙ্গে জুড়ে থাকছে আফসোসও।

বাংলাদেশের সেমিতে ওঠার স্বপ্ন যখন শেষ ঠিক তখনই আশার আলোটা উসকে দিলো লঙ্কানরা ইংল্যান্ড কে হারিয়ে। অষ্ট্রেলিয়ার বিপক্ষেও হেরে ব্যাকফুটে বিশ্বকাপের ফেভারিট ইংল্যান্ড। প্রথম দল হিসাবে সেমিফাইনালে উঠে গেছে অষ্ট্রেলিয়া।ইংল্যান্ডের পরাজয়ের  সুযোগটা কাজে লাগাতে মরিয়া, বাংলাদেশ, শ্রীলংকা আর পাকিস্তান। আফগানদের বিপক্ষে জয়ের পরদিনই বাংলাদেশ, শ্রীলংকা আর পাকিস্তানের সমর্থকদের মনে নতুন রঙে স্বপ্নটাকে রাঙিয়ে দিল অষ্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ডকে হারিয়ে দিয়ে। সেমিফাইনালের দরজা যেন আরেকটু প্রশস্ত হলো।

২৬ জুন বিশ্বকাপে অপরাজিত দল নিউজিল্যান্ডর প্রথম পরাজয়ের স্বাদ নিলো পাকিস্তানের বিরুদ্ধে। এই জয়ে পাকিস্তান ৭ ম্যাচে ৭ পয়েন্ট নিয়ে উঠে এসেছে টেবিলের  ষষ্ঠ স্থানে।এই হারে শঙ্কায় নিউজিল্যান্ড। কারণ তাদের পরবর্তী দুই ম্যাচ ইংল্যান্ড আর ভারতের সঙ্গে। দুই ম্যাচের একটিতে এখন জয় মাস্ট ১১ বার বিশ্বকাপের কাছে এসেও কাপ স্পর্শ করতে না-পারা নিউজিল্যান্ডের জন্য। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে জিতলে ইংল্যান্ডের সেমির স্বপ্ন ভেস্তে যাওয়ার সম্ভাবনা। কাগজে কলমে শক্তিশালী ভারতের জন্যও অপেক্ষা করছে কঠিন চ্যালেঞ্জ। তবে বেশি ম্যাচ হাতে থাকায় সেমিতে তাদেরই সম্ভাবনা বেশি।

হট ফেভারিট হিসেবে বিশ্বকাপ শুরুর পর  ভাগ্য  সেমির আগেই ইংলিশদের বিদায়ের বার্তা দিচ্ছে। শ্রীলঙ্কা-পাকিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচে হার আর দলের সেরা ক্রিকেটারদের ইনজুরি অন্তত সেটাই বলে দিচ্ছে। রয়ের ইনজুরি সারতে-না-সারতেই এবার ভারতের বিপক্ষে বাঁচা মরার ম্যাচ থেকে ছিটকে যাওয়ার শঙ্কায় দলের সেরা পেসার জোফরা আর্চার। ইনজুরিতে পড়েছেন স্পিনার আদিল রশিদও।

লঙ্কানদের জন্য সেমিফাইনাল লড়াইয়ে জিততে হবে ২৮ জুলাই দক্ষিন আফ্রিকা, ১ জুলাই ওয়েষ্ট উইন্ডিজ আর ৬ জুলাই ভারতের বিপক্ষে।এই তিন ম্যাচের এক ম্যাচ হারলেও লঙ্কানদের সব স্বপ্ন অধরা থেকে যাবে। স্বপ্নের সাফল্যের জন্য ২ জুলাই এজবাস্টন স্টেডিয়ামে ভারতকে আর ৫ জুলাই লর্ডসে হারতেই হবে পাকিস্তানকে। শ্রীলংকা আর বাংলাদেশ দুই দলই যদি নিজেদের অবশিষ্ট ম্যাচগুলো জিততে পারে সেক্ষেত্রেও লঙ্কানদের সেমিফাইনালে খেলার সম্ভাবনা বাংলাদেশের চেয়ে বেশি। কারন তাদের পয়েন্ট হবে ১২ আর বাংলাদেশের পয়েন্ট ১১। তারপরও বাংলাদেশের স্বপ্ন একেবারে মিলিয়ে যাচেছ না। ভারত, ইংল্যান্ড নিউজিল্যান্ডর পয়েন্টের সঙ্গে স্কোর রেটের দিকে তাকিয়ে থাকতে হবে আমাদের। অন্যদিকে পাকিস্তানের সম্ভাবনটাও বেশ চাঙ্গা হয়ে উঠেছে। আফগান আর বাংলাদেশের বিপক্ষে জয় দরকার তাদের। এমন সব জটিল অঙ্কের খেলায় ইংল্যান্ড ও নিউজিল্যান্ডের বাদ পরার সম্ভাবনাও প্রবল। সেক্ষেত্রে সেমিফাইনালে তিন এশিয়ান দলের ঢুকে পড়ার সম্ভাবনাটাও কিন্তু উঁকি দিচ্ছে।

২৪ জুন সাউদাম্পটন থেকে আফগানদের হারানোর উচ্ছ্বাস আর সেমির স্বপ্ন নিয়ে বার্মিংহামে পৌঁছেছে বাংলাদেশ। বিশ্বকাপে সেমিফাইনালে ওঠার স্বপ্ন নিয়ে তারা আগামী ২ জুলাই ভারতের মুখোমুখি হবে। ভারতের চেয়েও ম্যাচে কঠিন প্রতিপক্ষের নাম হতে পারে বিতর্কিত আম্পায়ার আলিমদার। দারুন ছন্দে থাকা সাকিব বিশ্বাস করেন ভারতের বিপক্ষে নিজেদের সেরাটা খেলতে পারলে শক্তিশালী ভারতকে হারানো সম্ভব। অবশ্য ভারত – বাংলাদেশ ম্যাচে ভাগ্য বিগত দিনগুলোতে সবসময় ভারতের অনুকুলেই থেকেছে। তাছাড়া স্পিনারদের মোকাবেলা করতে ভারতীয় ব্যাটসম্যানরা যথেষ্ট পারদর্শী।সেই জায়গায় সাকিব, মিরাজের জন্য কঠিন চ্যালেঞ্জ হবে সঠিক জায়গায় বল করাটাই। সেক্ষেত্রে তখন পেসারদের শক্ত হাতে বল করতে হবে। বাংলাদেশের টিম ম্যানেজমেন্ট বিশ্বাস করেন, সব প্রতিকুলতার মাঝেও ‘ডু আর ডাই’ ম্যাচে জয়ের পাল্লা বাংলাদেশের ভারী। বিশ্বকাপ ২০০৭ সালের ভারতকে হারানোর স্মৃতিটাই এখন দলের সম্বল। ব্যাট হাতে তামিম, সৌম্য, সাকিব, মুশফিক লিটনদাশরাই পারে ব্যাটিং ঘাটতি ঘোচাতে। ২০১৫ সালের বিশ্বকাপে আলিমদারের পক্ষপাতদুষ্ট সিদ্ধান্তে ছিটকে পড়তে হয়েছিলো বাংলাদেশকে। সে ঘটনাটা আজও দুঃপ্নের মতো ভেসে ওঠে বাংলাদেশ ক্রিকেট অনুরাগীদের মনে।

সোমবার আফগানিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচে ব্যাটিংয়ে যাওয়ার কিছুক্ষণ পর থেকেই দৌড়ের সময় খোঁড়াতে থাকেন মাহমুদউল্লাহ। ব্যাটিং করলেও ইজুরির কারনে করতে পারেননি ফিল্ডিং। তার চোঁট সেরে উঠতে লাগতে পারে সাত থেকে দশ দিন। ভারতের বিপক্ষে খেলবেন কি না তা নিয়ে জেগেছিলো আশঙ্কা। কিন্তু ইনজুরি যেমনিই থাক ভারতের বিপক্ষ্যে ম্যাচে খেলার জন্য দৃঢ় প্রতিজ্ঞ মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ।

ব্যাটে-বলে সমান দক্ষতার ছাপ রেখে ১৯৯৯ বিশ্বকাপের সেরা খেলোয়াড় হয়েছিলেন ল্যান্স ক্লুজনার। ১২ বছর পর দক্ষিণ আফ্রিকান তারকার মতো একই রকম নৈপুণ্য দেখিয়ে টুর্নামেন্ট সেরার মুকুট জিতেছিলেন ভারতের যুবরাজ সিং। তাদেরও আগে এই কীর্তি গড়ে দেখিয়েছিলেন শ্রীলঙ্কার সনাথ জয়সুরিয়া, ১৯৯৬ বিশ্বকাপে। এবার দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দিয়ে এখন পর্যন্ত তাদের পথেই হাঁটার স্বাক্ষর রেখেছেন বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান।

ভারতের বিপক্ষে ২ জুলাই বাংলাদেশের জন্য জয়ে বিকল্প নেই। তাই দল ছুটিতে থাকলেও বাংলাদেশ  দলের ভারতীয় কম্পিউটার অ্যানালিস্ট শ্রীনিবাস চন্দ্রশেখরন, ভারত বধের পরিকল্পনা সাজাতে ব্যাস্ত। ভার্চুয়াল গবেষণাগার থেকে প্রতিপক্ষের শক্তি, দুর্বলতার তথ্য বের করে আনতে পটু তিনি। নিজেদের ভুল-ত্রুটি কিংবা আরও ভালো করার শাণিত উপায়ও বাতলে দেন এই প্রযুক্তি বিশারদ।

ক্রিকেটারদের মধ্যে ব্যাপক জনপ্রিয়।তার নিখুঁত  গবেষণা থেকে বেরিয়ে আসা ফর্দ মেনে খেলতে পারলে বরাবরই মিলেছে সাফল্য।

বিশ্বকাপ শুরু প্রথম দিকে যেমন মনে হচ্ছিল একতরফা রাজত্ব করবে-ইংল্যান্ড, নিউজিল্যান্ড, অষ্ট্রেলিয় আর ভারত। শেষ প্রান্তে হঠাৎ করেই ম্যাচের গতি সম্পূর্ন ইউ টার্ন করে গেলো। আশা নিরাশার, শঙ্কা ও সম্ভাবনার সমীকরণ শেষে দক্ষিন আফ্রিকা, ওয়েষ্ট উইন্ডিজ আর  আফগানারা বাদে কোন তিন দল সেমিফাইনাল উঠবে সেটা হঠাৎ করেই অনিশ্চিয়তার সাগরে হাবুডুব খাচ্ছে। বিশ্বকাপের জ্বর ছড়িয়ে পড়েছে ক্রিকেট ইংল্যান্ড, নিউজিল্যান্ড, ভারত, বাংলাদেশ, পাকিস্তান আর লঙ্কান সমর্থকদের মাঝে। এখন যে কোন দলই ছিটকে পড়তে পারে যে কোন ম্যাচে।

ছবিঃ গুগল

প্রাণের বাংলায় প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। লেখা সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় প্রাণের বাংলা বহন করবে না। প্রাণের বাংলার কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না তবে সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করতে পারবেন । লেখা সংক্রান্ত কোনো অভিযোগ অথবা নতুন লেখা পাঠাতে যোগাযোগ করুন [email protected]