যে কোন মূল্যবোধ থেকে অন্যকে শারীরিক ও মানসিক আঘাত অপরাধ

রুখসানা আক্তার

কিছুদিনধরে ১৯৬৯ এর ঢাকা ভার্সিটির পাঁচজন ছাত্রীর একটা সম্মিলিত ছবি ফেইসবুকে ভাইরাল হয় । এনিয়ে অনেক কথাবার্তা শুরু হয় বিভিন্ন জনের স্ট্যাটাস এবং কমেন্টে। কিছু কিছু কমেন্ট বেশ আপত্তিকর এবং দুঃখজনক যা অন্যকে ছোট করে দেখানোর অপচেষ্টা ছিলো ।তাই নিয়ে লিখছি। ব্যক্তিগতভাবে আমার এখন কে পর্দা করলো কে করলো না এ নিয়ে কোন মাথা ব্যথা বা এলার্জি নেই। কারণ আমার কনসার্ন হলো মগজ তথা চিন্তা ভাবনায় কে কতটুকু রক্ষনশীল, উদার, হীনমন্যতায় ভোগে অথবা হীনমন্যতা বর্জিত এবং চেতনায় কতটুকু নিজের সততা ,মনুষত্ব ,নিজস্বকৃষ্টি এবং সংস্কৃতিকে ধারণ করেন এবং নিজ দেশের ইতিহাসকে কতটুকু জানেন এবং শ্রদ্ধা করেন নাকি অন্যদেশের সংস্কৃতি অনুসরণ করেন। কারণ এই বিষয়গুলো দিয়ে একটা মানুষের মানসিকতার মান পরিমাপ করা যায়। একজন মানুষের শারীরিক আকৃতি , শারীরিক অসামঞ্জস্যতা ,গায়ের রং ,গোত্র , হিজাব ,টুপি, পৈতা ,জোব্বা , গেরুয়া বসন ,সিঁদুর ইত্যাদি দিয়ে তার মানদণ্ড বিচার করা উচিৎ নয়, কারণ এই বিষয়গুলো অন্যের জন্য ক্ষতিকারক নয়।এ বিষয়গুলো একান্তই ব্যক্তিগত। ক্ষতিকারক এবং হানিকর হলো কট্টর এবং রক্ষণশীল মানসিকতা , ধর্মীয় উন্মাদনা ,হীনমন্যতা -যা অন্যকে আঘাত করতে বা ছোট দেখাতে ব্যবহার করা হয় । ক্ষতিকারক হলো, রাজনৈতিক স্বার্থ, লোভ এবং ক্ষমতার দাপট দেখাতে বা হাসিল করতে যে কোন ধর্মীয় ইস্যুকে ব্যবহার করা । ক্ষতিকারক হলো নিজেকে, মানবতাবাদী, নারীবাদী ,সেক্যুলার ইত্যাদি প্রমানে সেমিনার ,কলামে এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় সরব থাকা কিন্তু কোন সামাজিক স্পর্শকাতর বিষয়ে প্রকাশ্য অংশ গ্রহন থেকে বিরত থাকা ,এমন কী নিজ ব্যক্তি জীবনে উপরোক্ত বিষয়গুলির প্রতিফলনের বাস্তবায়ন না থাকা । এটা ক্ষতিকারক, কারণ এরা মানুষের মনে কনফিউশন তৈরি করে। আবার পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়েন, কথায় কথায় হাদিস বলেন ,পর্দা করেন ,হজ্ব করেন অথবা নিয়মিত পূজা অর্চনা করেন ,তীর্থে যান অথবা নিয়মিত ধর্মীয় উপাসনালয়ে যাতায়াত করেন এমন অনেক মানুষের মধ্যেও কিন্তু মানবতা , মনুষত্ব ,নিরপেক্ষতা , সামাজিক দায় দায়িত্ব ইত্যাদি অনুপস্থিত থাকে। তাকে আমরা কি বলবো? ক্ষতিকারক নয় কি? আমি অনেককে দেখেছি নিজেকে সেক্যুলার দাবি করে পুজোয় যান, বড়দিন পালন করেন , বুদ্ধের মার্গ নিয়ে বলতে বলতে মুখে ফেনা তুলে ফেলেন কিন্তু কাউকে নামাজ পড়তে দেখলে সামনাসামনি কটাক্ষ করতে পিছপা হননা ।এ আসলে মানুষকে অন্যের সামনে ছোট করার চেষ্টা করে এক ধরণের বিকৃত আনন্দ পাওয়া এবং নিজেই সে জানেননা সেকুলার শব্দের অর্থ। আবার একজন প্র্যাকটিস মুসলিম অন্য ধর্মের একজনকে কাফির এবং তার সঙ্গে মেলামেশা ঠিক না বলে বয়ান  দেয়া । গরু বা শুকুর যে খায় তার কাছে সেটা খাদ্য কিন্তু অন্য জনের কাছে সেটা হারাম বা হালাল এবং এই ইস্যুতে মানুষ পর্যন্ত খুন হওয়ার নজির ও আছে । আসলে পুরোটাই একধরনের মানসিক হীনমন্যতা এবং মানসিক অসুস্থতা। একজন সুস্থ ,বিবেকবান ,দায়িত্বশীল, মানবিক মানসিকতা সম্পন্ন মানুষ ( যিনি সেকুলার হতে পারেন ,প্র্যাকটিস মুসলিম- হিন্দু- বৌদ্ধ -খ্রিস্টান হতে পারেন) কি কখনো এই উপরোক্ত ঋনার্থক বিষয় গুলোর চর্চা করবেন?নাকি বাঁধা দিবেন? তাই হিজাব টুপি বা মাথায় কাপড় দেয়া না দেয়া অথবা ধর্মীয় অনুশাসন মেনে চলা না চলা অথবা নাস্তিকতা যার যার ব্যক্তিগত ব্যাপার। আর এ নিয়ে কথা বলা দৃষ্টতা কিন্তু যদি কেউ ( যেই হউক) আস্তিক বা নাস্তিক তার চিন্তা ,চেতনা বা কোন মূল্যবোধ থেকে কাউকে আঘাত করে শারীরিক বা মানসিকভাবে তবে সেটা দৃষ্টতা তো অবশ্যই ,সেই সঙ্গে অপরাধও।

ছবি: গুগল ও লেখকের ফেইসবুক থেকে