যৌন নিপীড়ন বিরোধী সেল তৈরির দাবি

প্রতিটি গণমাধ্যমসহ সকল পেশা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যৌন নিপীড়ন বিরোধী সেল তৈরির দাবি জানিয়েছেন সমাজের সর্বস্তরের মানুষ। দুপুরে প্রেসক্লাবের সামনে #মিটু, বাংলাদেশের ব্যানারে আয়োজিত মানববন্ধনে এ দাবি জানান তারা। একই সঙ্গে নারীদের জন্য নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করতে গণমাধ্যমসহ দেশের সরকারি-বেসরকারি সব প্রতিষ্ঠানের যৌন নিপীড়কদের প্রশ্রয় না দেয়ার আহ্বান জানান তারা। #মিটু, বাংলাদেশের ব্যানারে আয়োজিত মানববন্ধনে সাংবাদিক সাজেদা হক জানান, সব ধরনের নিপীড়ন বন্ধে আমাদের একতাবদ্ধতার বিকল্প নেই। যৌন নিপীড়ক এবং তাদের মদদ দাতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে পারলে এমন ধরণের অপরাধ কমে আসবে। এজন্য আমাদের সকলকে এগিয়ে আসতে হবে। প্রতিষ্ঠান যৌন নিপীড়নকে সমর্থন না করলে কত দ্রুত এ নিয়ে ব্যবস্থা নেয়া সম্ভব তার উদাহরণ সৃষ্টি করেছে একুশে টেলিভিশন কর্তৃপক্ষ। তার প্রমাণ অভিযোগ আমলে নিয়ে মামলা এবং অভিযুক্তকে দ্রুত আটক করায় একুশে টেলিভিশন কর্তৃপক্ষ এবং আইন-শৃংখলা বাহিনীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান তিনি। সেই সঙ্গে যে দ্রুততার সাথে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, একই দ্রুততায় অভিযুক্তকে মদদদাতাদেরও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান তিনি। মানববন্ধনে আনন্দ টেলিভিশনের রিপোর্টার নুসরাত জাহান বলেন, চাকরি রক্ষা ও নিজের পারিশ্রমিকের জন্য আমাকে কর্মস্থলে অনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনের আহ্বান জানিয়েছিলেন ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা। এ প্রস্তাবে একজন নারী হিসেবে আমি চরমভাবে অসম্মানিত বোধ করছি। আমি চাই না, এমন ব্যবহার আর কারো সঙ্গে না হোক। অর্থের চেয়ে মান বড় জানিয়ে নুসরাত বলেন, আমি চাই আর কোনো মেয়ে যৌন হয়রানির শিকার না হন। অন্য নারীদের সচেতন করতেই #মিটু তে সবাই নিজের অভিজ্ঞতা শেয়ার করছেন। দেশে এমন একটা প্লাটফর্ম নারীদের জন্য অত্যন্ত জরুরি। মানববন্ধনে #মিটু তে নিজের অভিজ্ঞতা শেয়ার করা তাসনুভা জানান, ঘরে-বাইরে, অফিসে-আদালতে নিপীড়নের শিকার হচ্ছেন নারীরা। এই নিপীড়ন বন্ধে আমাদের একতাবদ্ধতার কোনো বিকল্প নেই। মানববন্ধনে অন্যান্যর মধ্যে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, মানবাধিকারকর্মী, সংগঠক, আইনজীবী, এনজিওকর্মী ও সাংবাদিকসহ দেশি-বিদেশি বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন।