রবীন্দ্রনাথের ছবি মুসলিনির ক্যামেরায়

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

মুসলিনির ক্যামেরায় রবীন্দ্রনাথ

ইতালীর একদা ফাসিস্ত শাসক মুসোলিনি ক্যামেরায় ছবি তুলেছিলেন রবীন্ত্রনাথের।চোখ বন্ধ করে সমাহিত ভঙ্গীতে বসে আছেন রবীন্দ্রনাথ। মিুসলিনির ছবিতে কবির মুখ একপাশে ফেরানো। ১৯২৫ থেকে ১৯২৬ সালের মধ্যেদু‘বার ইতালী ভ্রমণে গিয়েছিলেন রবীন্দ্রনাথ। তখনই তোলা হয়েছিলো এই ছবি।

১৯২৫ সালে রবীন্দ্রনাথ যখন প্রথম ইতালী যান তখন তাঁর সঙ্গে পরিচয় ঘটে ইতালীর জেনোয়ার বিখ্যাত সংস্কৃত ভাষার অধ্যাপক কার্লো ফার্মিকির। এই ঘনিষ্টতা বহুদূর গড়ায়। ফার্মিকি পরিচয়ের সূত্র ধরে এসেছিলেন শান্তিনিকেতনে। এই অধ্যাপকের হাতেই মুসোলিনি রবীন্দ্রনাথের জন্য ইতালীয় সাহিত্যের প্রচুর বই পাঠিয়েছিলেন উপহার হিসেবে। পরের বছর আবার ইতালী গেলে রবীন্দ্রনাথের সঙ্গে দেখা করেন মুসোলিনি। তিনি কবিকে জানান, ইতালীয় ভাষায় রবীন্দ্রনাথের যত বই অনুবাদ হয়েছে সবগুলোই পড়ে ফেলেছেন তিনি। মুসোলিনির আতিথিয়েতায় মুগ্ধ হয়ে গিয়েছিলেন রবীন্দ্রনাথ। সেখানে যে সেই ফাসিস্ত শাসকের কৌশল লুকিয়ে আছে তা ধরতেই পারেননি তিনি। মুসোলিনি ভেবেছিলেন এশিয়ার প্রথম নোবেলবিজয়ী কবির কাছ থেকে একটি প্রশংসাপত্র আদায় করে নিজের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করবেন।তখন নিজের ক্যামেরায় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বেশ কয়েকটি ছবি তোলেন মুসোলিনি নিজেই।

ব্যাঙ্গচিত্রে মুসলিনি

অনেক দিন এই দুর্লভ ছবিটির কোনও খোঁজ ছিলো না। সম্প্রতি জানা গেছে, ছবিটি ভারতের তিরুঅনন্তপুরমের কাছে মাধবী মন্দিরম লোকসেবা ট্রাস্ট-এর সংগ্রহশালায় আছে।

কবির মুসোলিনি-ঘনিষ্ঠতা নিয়ে এর পরেই বিতর্ক ছড়িয়ে পড়ে। ইটালি ছাড়ার পর কবিকে এই বিষয়ে সতর্ক করেন ফরাসি সাহিত্যিক রম্যাঁ রোলাঁ। ‘ফাসিস্ত’ মুসোলিনি সম্বন্ধে সবকিছু জানান তিনি কবিকে। কবি তাঁর ভুল বুঝতে পারেন। পৃথিবীজুড়ে তাঁর সমালোচনা হচ্ছিলো তখন। অনেকেই তাঁকে ফাসিস্তদের বন্ধু হিসেবেই চিহ্নিত করেছিলো। রবীন্দ্রনাথ সেই ভুল ধারণা ভাঙতে ১৯২৬-এর ৫ অগস্ট এক দীর্ঘ চিঠি লিখলেন সি এফ অ্যান্ড্রুজ়কে। সি এফ অ্যান্ড্রুজ় ছিলেন তখনকার ভারতের খ্রিস্টান মিশনারি ও শিক্ষাবিদ। চিঠিটি প্রকাশিত হয় ‘ম্যাঞ্চেস্টার গার্ডিয়ান’ পত্রিকায়। সেখানে কবি স্পষ্ট জানান, যে ফাসিস্ত আন্দোলন মানুষের স্বাধীন মত প্রকাশের অধিকার কেড়ে নেয়,  অত্যাচার দিয়ে মানুষের বিবেকের উপর জোর খাটায়, তার সমর্থন তাঁর পক্ষে কল্পনাতীত। এর পর মুসোলিনিও রবীন্দ্রনাথকে  ব্যক্তি-আক্রমণ করেন, তাঁকে ‘অসহ্য ও তৈলাক্ত লোক’ বলে আখ্যা দেন।

মুসোলিনির বিষয়ে রবীন্দ্রনাথকে উল্টোপাল্টা ধারণা দেয়ার পেছনে ফার্মিকির বড় ভূমিকা ছিলো। প্রথমবার ইতালী সফরে জেনোয়া থেকে মিলান যাওয়ার পথে ট্রেনে রবীন্দ্রনাথ তাঁকে সেখানকার রাজনৈতিক পরিস্থিতি সম্বন্ধে জিজ্ঞেস করেছিলেন। ফর্মিকি জানিয়েছিলেন, ‘প্রথম মহাযুদ্ধের পরে ইটালিতে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বিশৃঙ্খলা দেখা দিয়েছিলো। মুসোলিনির নেতৃত্বে প্রায় এক রক্তপাতহীন বিপ্লবে ও রাজকীয় সম্মতিতে তাঁর দল ক্ষমতা দখল করে। জনসাধারণের সহযোগিতায় দেশে শান্তি ও শৃঙ্খলা ফিরে আসে।’ ফর্মিকি ফাসিস্ত দলভুক্ত না হলেও, মুসোলিনির সমর্থক ছিলেন।

রবীন্দ্রনাথ ১৯৩০ সালের পর মুসোলিনির একটি ব্যাঙ্গচিত্রও এঁকেছিলেন।

প্রাণের বাংলা ডেস্ক
তথ্যসূত্রঃ আনন্দবাজার পত্রিকা
ছবিঃ গুগল 

  

প্রাণের বাংলায় প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। লেখা সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় প্রাণের বাংলা বহন করবে না। প্রাণের বাংলার কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না তবে সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করতে পারবেন । লেখা সংক্রান্ত কোনো অভিযোগ অথবা নতুন লেখা পাঠাতে যোগাযোগ করুন [email protected]