রবীন্দ্রনাথের হারানো পদকের খোঁজে…

কলকাতার রবীন্দ্রভবনের সংগ্রহশালা থেকে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কবির নোবেল পদক চুরি হয়েছিলো ২০০৪ সালের ২৫ মার্চ। তারপর শুরু হয় খোঁজ আর খোঁজ।১০ লক্ষ টাকা পুরস্কার ঘোষণা করা হয়, খবর দেয়া হয় ইন্টারপোলকে। কিন্তু সত্যিই পদকটা কলকাতার বুক থেকে হারিয়েই গেলো। আঠারো বছর পরেও এই পদক চুরির ঘটনার কোনো কিনারা করতে পারেনি ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা সিবিআই।

১৯১৩ সালে সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার পেয়েছিলেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। কবির ১৬১তম জন্মদিনের আগে নোবেল কমিটি বিশেষ ভাবে শ্রদ্ধা জানিয়েছে বিশ্বকবিকে। ‘দ্য নোবেল প্রাইজ’ ওয়েবসাইটে তাঁর নিজের হাতে লেখা ‘জনগণমন’এর ইংরেজি অনুবাদের পাণ্ডুলিপিটি প্রকাশ করেছে কমিটি। সঙ্গে রয়েছে তাঁর একগুচ্ছ ছবি। মহাত্মা গান্ধী, আইনস্টাইনের সঙ্গে সাক্ষাতের ছবিও রয়েছে সেখানে। কিন্তু শ্রদ্ধা জানানোর এই ভিড়ে ছিলো না শুধু নোবেল পদকটি। বিশ্বের রবীন্দ্র-অনুরাগীরা বিশ্বভারতীতে যে পদক গত আঠারো বছর ধরে দেখছেন সেটা মূল পদকের রেপ্লিকা।

সম্প্রতি হারিয়ে যাওয়া পদক নিয়ে পশ্চিমবঙ্গের সরকার নড়েচড়ে বসেছেন। এ বছর রবীন্দ্রজয়ন্তীতে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকার দাবি তুলেছে সিবিআইকে দ্রুত তদন্ত শেষ করতে অথবা নিজেদের অপরাগতার কথা আদালতের মাধ্যমে জানাতে। সিবিআই নিজেদের ব্যর্থতার কথা জানালে এবারে পদক চুরির তদন্ত পশ্চিমবঙ্গ সরকার নিজের কাঁধে নিতে আগ্রহী।

রাজ্য সরকারের ধারণা, এভাবে কার্যত ধামাচাপা দিয়ে দেওয়া হয়েছে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের নোবেল চুরি কাণ্ডে। তদন্ত আর এগিয়ে নিয়ে যাওয়া সিবিআইয়ের পক্ষে সম্ভব নয় বলে ব্যর্থতার দায় স্বীকার না-করেই তারা দীর্ঘসূত্রতার পথ ধরেছে। কাটিয়ে দিচ্ছে বছরের পর বছর। বেশ কয়েক বছর আগে বিশ্বভারতীতে গিয়ে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছিলেন, নোবেল চুরির তদন্তে সিবিআই কী করেছে তা তাঁর জানা নেই। তবে তদন্তের সুযোগ পেলে রাজ্যের গোয়েন্দারা আর একবার চেষ্টা করবেন। কিন্তু সেই সুযোগও দেওয়া হচ্ছে না।এসব বক্তব্যের সূত্র ধরে এক ধরণের রাজনৈতিক টাপোড়েনের মাঝে ক্রমশ সেখানকার রাজ্য ও কেন্দ্রীয় সরকারের মাঝে একটা টানাপোড়েনের ছবি স্পষ্ট হচ্ছে।

নোবেল পদক চুরি হওয়ার পাশাপাশি সেই দিন আরও ৫০টি মূল্যবান জিনিস চুরি হয়। ছ’দিন পরেই ঘটনার তদন্তভার নেয় সিবিআই। প্রথম পর্যায়ের তদন্ত চলে ২০০৪ সাল থেকে ২০০৭ সালের আগস্ট মাস পর্যন্ত। তিন বছর ধরে তদন্তের পর আর কোনও সূত্র না মেলায় প্রায় এক বছর তদন্তের কোনও কাজই হয়নি। ফের নতুন সূত্র পাওয়া গিয়েছে বলে দাবি করে ২০০৮ সালের সেপ্টেম্বর মাসে আদালতে ফের তদন্ত শুরু করার আবেদন করে সিবিআই। কিন্তু একইরকমভাবে ২০০৯ সালে আগস্টে আবার সিবিআই আদালতকে জানায়, তদন্ত এগোচ্ছে না। ফলে তা বন্ধ করার অনুমতি দেওয়া হোক। ২০১০-এর ৫ আগস্ট আদালত অনুমতি দেয়। ব্যস, এরপর থেকে নোবেল নিয়ে গোয়েন্দা সংস্থাটি আর কোনো কথা বলেনি। কেউ জানে না রবীন্দ্রনাথের পদককে গলিয়ে কেউ সোনা করে নিয়েছে কি না? কেউ জানে না পদকটা পৃথিবীর কোনো সংগ্রাহকের গোপন ঘরে রক্ষিত আছে কি না!

প্রাণের বাংলা ডেস্ক

তথ্যসূত্রঃ প্রতিদিন, কলকাতা

ছবিঃ গুগল 


প্রাণের বাংলায় প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। লেখা সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় প্রাণের বাংলা বহন করবে না। প্রাণের বাংলার কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না, তবে সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করতে পারবেন । লেখা সংক্রান্ত কোনো অভিযোগ অথবা নতুন লেখা পাঠাতে যোগাযোগ করুন [email protected]


https://www.facebook.com/aquagadget
Facebook Comments Box