রহস্যময় গহ্বর

পৃথিবীর বুকে এক বিশাল রহস্যময় গহ্বর। খুব সম্ভবত হঠাৎ করেই গজিয়ে উঠেছে। এতোদিন কারো চোখে পড়েনি। কিছুদিন আগে সাইবেরিয়ার ইয়ামাল পেনিনসুলার ওপর দিয়ে হেলিকপ্টারে উড়ে যাবার সময় একদল গবেষকের এই বিশাল গহ্বর বা গর্তটি চোখে পড়ে। ব্যাস, শুরু হয় গবেষণা। সাইবেরিয়ার বিরান প্রান্তরে প্রায় একশ ফুট ব্যাসের এবং ছয়শ ফুট গভীরতার এই গহ্বর তৈরী হলো কীভাবে? তবে এখনও পর্যন্ত সঠিক কোন উত্তর তারা বের করতে পারেন নি।রহস্যময় গহ্বর 2
সাইবেরিয়ার ‘স্টেট সাইন্টিফিক সেন্টার অফ আর্কটিক রিসার্চ’ সংস্থার বিজ্ঞানীরা বলছেন, এই গহ্বরটিকে ভূ-বিজ্ঞানের ভাষায় বলা যায় ‘পিঙ্গো’। পৃথিবীর মাটির তলায় আরও যে মাটির স্তর আছে সেখানে জমাট বাঁধা বরফকে বলা হয় পিঙ্গো। দেখতে অনেকটা ছোট পাহাড় বা চূড়ার মতো। মাটির তলায় তাপমাত্রার পরিবর্তনে যদি এই বরফচূড়া একবার গলতে শুরু করে তাহলে সেই বরফের চাপ ভূপৃষ্ঠের মাটি ফাটিয়ে দিয়ে বের হয়ে যায়। আর পেছনে রেখে যায় এ ধরণের বিশাল গহ্বর। ব্যাপারটা অনেকটা বাষ্প ভর্তি বোতলের কর্ক খোলার মতো। ভেতরের চাপে কর্কটা যেমন উড়ে যায় এখানেও সম্ভবত সেরকম কিছু একটা ঘটেছে বলে তারা মনে করছে। এ সবই কিন্তু অনুমান। এই বিশাল গহ্বরের আসল প্রকৃতি তারা আবিষ্কার করতে পারে নি। কারণ এরকম গভীরতায় তাদের পক্ষে নামাই সম্ভব হচ্ছে না।
তবে এখানে বিপদের কথা হচ্ছে, পৃথিবীজুড়ে তাপমাত্রা যেভাবে ক্রমশ বেড়ে যাচ্ছে তাতে সেখানকার বিজ্ঞানীরা ধারণা করছে, সাইবেরিয়ার পুরো আবহাওয়াই ধীরে ধীরে বদলে যাচ্ছে। আর তারই চিহ্ন হচ্ছে এই গহ্বর। কিন্তু তারপরেও এই গহ্বর কেন তৈরী হলো সে ব্যাপারে বিজ্ঞানীরা খুব দৃঢ়ভাবে কিছু বলতে পারছেন না। উল্টো তারা বলছেন, এ ধরণের বিশাল গহ্বর তারা আগে কোনদিন চোখেই দেখেন নি। পরীক্ষার কাজ চলছে গহ্বরের একেবারে মুখের কাছে। বিজ্ঞানীরা খুঁজে দেখছেন এই গহ্বরের সঙ্গে মাটির ভেতরের আগুনের কোন সম্পর্ক আছে কি না। যদি বিষয়টা সুপ্ত কোন আগ্নেয়গিরি হয়? কিন্তু এই গহ্বরের মুখে তারা আগুনে পোড়ার কোন চিহ্নও খুঁজে পান নি। তাতে করে আগ্নেগিরির ধারণাটিও বাদ পড়ছে। বিজ্ঞানীরা ভাবছেন মাটির তলায় জমাট বরফ গলতে শুরু করেছে না, প্রকৃতির অন্য কোন রহস্যময় আচরণে তৈরী হয়েছে এই বিশাল, গভীর গহ্বর।

নিশাত আফরোজ
তথ্যসূত্র ও ছবিঃ ইন্টারনেট