রেকর্ডের ছড়াছড়ি

আহসান শামীম

ওয়েষ্ট উইন্ডিজের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে ৭ বলের ব্যাবধানে তিন উইকেট তুলে নিয়ে, বাংলাদেশের অধিনায়ক মাশরাফি ক্যারাবীয়ানদের তিন’শ রানের স্বপ্ন ভেঙ্গে দিয়েছিলেন। ম্যাচে তামিম, সৌম্য, সাকিবদের দুর্দান্ত ব্যাটিং পারফরমেন্স শেষ পর্যন্ত ৫ ওভার বাকি থাকতেই আট উইকেটে দাপুটে জয় তুলে নেয় বাংলাদেশ।আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে বৃষ্টির কারনে পয়েন্ট ভাগাভাগি করতে হয় বাংলাদেশকে।এরপর ১৩ মে আবার মুখোমুখি ওয়েষ্ট উইন্ডিজের বিপক্ষে পন্চাশ ওভারের আগেই ৫ উইকেটে জয়ের দেখা পেল বাংলাদেশ।সেই সাথে পয়েন্ট টেবিলে সবার ওপরে অবস্থান করে ফাইনালে উঠে যায় বাংলাদেশ, ওয়েষ্ট উইন্ডিজ।

এর আগে ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনাল নিশ্চিতের গুরুত্বপূর্ণ  ম্যাচে বাংলাদেশের জার্সি গায়ে ১৩১ তম সদস্য হিসেবে ওয়ানডেতে অভিষেক হয় বিশ্বকাপের স্কোয়াডে থাকা পেসার আবু জায়েদ রাহীর। অলরাউন্ডার মোহাম্মদ সাইফুদ্দিনের পরিবর্তে একাদশে সুযোগ পান তিনি।

এখানেও অধিনায়ক মাশরাফির ম্যাজিক বোলিং।প্রথম স্পেলে মাশরাফি,  ২৩ রান করা অ্যামব্রিস সাজঘরে ফেরান।মাশরাফি দ্বিতীয় স্পেলে বল করতে আসেন ইনিংসের ৪২তম ওভারে। উইকেটে জমে যাওয়া দুই ব্যাটসম্যান ওপেনার শাই হোপ ও অধিনায়ক জেসন হোল্ডার খেলছিলেন যথাক্রমে ৮৭ ও ৬২ রানে। শতরানের জুটি গড়া দ্বিতীয় স্পেলে এসেই হোপকে আশাহত করেন মাশরাফি।তার শিকার হন অধিনায়ক জেনসন হোল্ডারও। বাকি কাজটা শেষ করেন ম্যাচ সেরা মুস্তাফিজ ৪ উইকেট দখল করে। মিরাজও নিয়েছেন ১ উইকেট।

১০ ওভারে কিপটে বোলিং করে সাকিব নিলেন ১ উইকেট। সেই সাথে তিনি ভেঙ্গে দিলেন পাকিস্তানের আফ্রিদির রেকর্ড।পাকিস্তানি অলরাউন্ডার শহিদ আফ্রিদির উইকেট সংখ্যা ৫২৪ ম্যাচে ৫৪১ উইকেট। আর সাকিব মাত্র ৩২৪ ম্যাচে খেলে ছাড়িয়ে গেছেন আফ্রিদিকে ৫৪২ উইকেট নিয়ে।সাকিবের সামনে এখন  কেবল মাত্র একজন অলরাউন্ডার উইকেটের দিক দিয়ে এগিয়ে আছেন। তিনি হলেন দক্ষিণ আফ্রিকান লিজেন্ড জ্যাক ক্যালিস, তার উইকেট সংখ্যা ৫৭৮।সাকিবের এই ধারাবাহিকতা চলতে লাগলে খুব বেশি সময় লাগবেন না জ্যাক ক্যালিসের রেকর্ড ভাঙ্গতে।

এদিকে দুর্দান্ত জয়ে দারুণ এক মাইলফলক স্পর্শ করেছেন টাইগার অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা। অধিনায়ক জয়ের দিকে দিয়ে, নিউজিল্যান্ডের সাবেক অধিনায়ক ড্যানিয়েল ভেট্টরিকে ছাড়িয়ে গেছেন তিনি। নিউজিল্যান্ডকে ৮২ ম্যাচে নেতৃত্ব দিয়ে ৪১ জয় ও ৩৩ ম্যাচে হারের দেখা পেয়েছিলেন ভেট্টরি।অন্যদিকে মাশরাফি বাংলাদেশকে ৭৫ ম্যাচে নেতৃত্ব দিয়ে ৪২ জয় এনে দিয়েছেন। হারের দেখা পেয়েছেন ৩১ ম্যাচে। ৪২ ম্যাচে জয় এনে দিয়ে ভারতের সাবেক অধিনায়ক রাহুল দ্রাবিড়ের পাশে অবস্থান করছেন মাশরাফি। দ্রাবিড়ের নেতৃত্বে ৭৯ ওয়ানডেতে ৪২ জয় পেয়েছিল ভারত। আর পরাজিত হয়েছিল ৩৩ ম্যাচে।আর মাত্র তিন জয় মাশরাফিকে অধিনায়ক হিসাবে পৌঁছে দেবে, সর্ব্বোচ্চ ওয়ানডে উইকেটের টপ চার্টে ওয়াসিম আকরাম, শন পোলক, ইমরান খান, ওয়াকার ইউনুসের পাশে।

রেকর্ডের ঘটনা এখানেই শেষ না, সোমবার ত্রিদেশীয় সিরিজের ম্যাচে উইন্ডিজের বিপক্ষে ২১ রান করে অ্যাশলে নার্সের বলে বোল্ড হয়ে  ফেরার আগে তামিম, বিশ্বের সেরা শীর্ষ পাঁচ ওপেনারের তালিকায় জায়গা করে নিয়েছেন। তালিকার শীর্ষে ভারতে অধিনায়ক কোহেলী, কিউই মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যান রস টেইলর।ভারতীয় সহ অধিনায়ক রোহিত শর্মা,  চতুর্থ স্থানে আছেন প্রোটিয়া অধিনায়ক ফাফ ডু প্লেসিস।আর পন্চম স্থানে বাংলাদেশের তামিম ইকবাল।

এত রেকর্ডের কোন কৃতিত্বই না নিয়ে মাশরাফি ম্যাচ শেষে সতীর্থদের সতর্ক করলেন। আজ পর্যন্ত কোন ত্রিদেশীয় সিরিজ জেতা হয়নি মাশরাফিদের।যে কারনে আরও সতর্ক হয়ে ১৫ তারিখে আ্যায়ারল্যান্ড ও ১৭ মে ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনালে ওয়েষ্ট উইন্ডিজের বিপক্ষে জিতে প্রথমবারের মত কোন ত্রিদেশীয় সিরিজ জয় করার ব্যাপারে সবাইকে সতর্ক হতে উপদেশ দিলেন মাশরাফি।

ছবিঃ ইএসপিএন