রেখার ফারজানা…

ফারজানার সঙ্গে তার সম্পর্কের মাত্রা কতদূর

এখন একরকম প্রায় নিঃশব্দ জীবন তার। বিশেষ কোনো অনুষ্ঠান ছাড়া তাকে জনসমক্ষে দেখা যায় না। বাইরে এলে অধিকাংশ সময় চোখ ঢাকা থাকে কালো চশমায়। অনেকটা যেন বাংলা চলচ্চিত্রের আরেক রহস্যময়ী অভিনেত্রী সুচিত্রা সেন। মিসেস সেনের জীবন মনে হয় রেখার চাইতেও অনেক বেশি রুদ্ধকপাট ছিলো। রেখা রহস্যের কিছুটা তার ভক্তদের জানা, বাকীটা আড়ালেই থেকে গেছে। তবুও ভারতীয় ছায়াছবির জগতে পাদপ্রদীপের আলোর কেন্দ্রে থাকেন তিনি। কোনো ধরণের জন অনুষ্ঠানে তিনি হাজির হলেই ফটোগ্রাফারদের ক্যামেরা সবাইকে ফেলে তাকেই অনুসরণ করে। তার সামান্য নড়াচড়া, তাকানো অথবা হাসি এখনো গণমাধ্যমে প্রবল সংবাদ হয়ে ওঠে। তিনি রেখা, ভানুরেখা গনেশন।       

বলিউডের এই বিশিষ্ট অভিনয় শিল্পীর জীবন রহস্যে জড়ানো। প্রেম, বিয়ে এবং গুজব এই তিনটি উপাদান এই অভিনেত্রীর জীবনজুয়ার তিন তুরুপের তাস বলা চলে। কখনো জয়ীর আসনে বসিয়েছে তাকে আবার কখনো পরাজয়ের যন্ত্রণায় ভেঙ্গে তছনছ করেছে।কিন্তু রেখা তবুও রহস্য ছড়িয়ে আজো উজ্জ্বল। সে আলো তার একান্ত নিজস্ব। 

এহেন রেখাকে নিয়ে আবারো গুজব বাতাসে ভাসছে। বিষয়টা পুরনো হলেও নতুন করে সামনে এসেছে। এবার আলোচনার কেন্দ্রে এই অভিনয় শিল্পীর একান্ত সচিব ফারজানা। রেখার চুল বাঁধার চাকরি পেয়ে এসেছিলেন এই নারী। তারপর ধীরে ধীরে হয়ে উঠলেন রেখার অনেকটুকুর অদৃশ্য নিয়ন্ত্রক শক্তি। গুজব আছে, রেখা গনেশন উভগামী, ফারজানার সঙ্গে আছে তার বিশেষ শারীরিক সম্পর্ক।কিন্তু কোথাও কি তার কোনো প্রমাণ মিলেছে? সেখানেও জমে আছে রহস্য।

এবার প্রাণের বাংলার প্রচ্ছদ আয়োজনে রইলো  রেখার জীবনের আরেকটি অজানা অধ্যায় নিয়ে ‘রেখা রহস্য’। 

রেখা কি সত্যিই উভগামী

রেখা কি সত্যিই উভগামী? ফারজানার সঙ্গে তার সম্পর্কের মাত্রা কতদূর? উত্তরটা কারুরই জানা নেই, জানার কথাও নয়। পরণের শাড়ি, সিঁথির সিঁদুর সেটাও নাকি অমিতাভ বচ্চনের দেয়া। দেহ আচ্ছাদিত গহনা, চোখের বিশেষ সাজ-তাও শোনা যায় রেখা পরিধান করেন অমিতাভ বচ্চনের ইচ্ছায়। তার জীবনে অমিতাভ বচ্চন ছাড়াও এসেছিলেন জিতেন্দ্র, কিরণকুমার, বিনোদ মেহেরা। তাদের সঙ্গে রেখার প্রেমকথা কারো অজানা নয়। এদের মধ্যে একমাত্র বিনোদ মেহেরা ছাড়া সবাই ‘রাতের বাসর’ সাজিয়েছিলেন।কিন্তু সেই ‘স্বপ্নের ঘর’ পাননি তিনি। বিনোদ মেহেরাকে বিয়ে করেছিলেন কালীঘাটের মন্দিরে গিয়ে। কিন্তু সে বিয়ে টেকেনি।  মুকেশ আগরওয়ালের আত্মহত্যায় সে ঘরও লণ্ডভণ্ড হয়ে যায়। অমিতাভ বচ্চনের সঙ্গে রেখার ভালোবাসার সূচনা হয় দিল্লীতে। সেই প্রেম অথবা অভিসারের গল্প ডালপালা মেলে পল্লবিত হয়েছে। কিন্তু এ কথা সত্য যে শাসন-ভালোবাসায় একমাত্র অমিতাভ বচ্চনই পেরেছিলেন রেখাকে অনেকটা বদলে দিতে। রেখা এই মানুষটির কাছে কৃতজ্ঞ এটুকুর জন্য। নিজের মুখে কথাটা স্বীকারও করেছেন তিনি। কিন্তু এত মানুষের এই চলাচলের মাঝে একজন মানুষ কিন্তু টিকে গেছেন রেখার জীবনে। তিনি ফারজানা। অমিতাভ বচ্চনের সঙ্গে বিচ্ছেদ, মুকেশ আগরওয়ালের আত্নহত্যার ঘটনা তিনি নিঃশব্দে হজম করে ফেলেনে। কিন্তু ফারজানা ছাড়া রেখার জীবন কিন্তু অচল।

সিঁথির সিঁদুর সেটাও নাকি অমিতাভ বচ্চনের দেয়া

ফারজানার সঙ্গে রেখার পরিচয় খুব অদ্ভুতভাবে। বেশ কিছুদিন ধরে রহস্যময়ীর হেয়ারড্রেসার খোঁজার পালা চলছিলো। শেষে

রেখার এক পরিচিত ফারজানাকে নিয়ে আসে তার কাছে। প্রসাধন পটিয়সী রেখা সেদিন রূপচর্চা বিষয়ে অনেক প্রশ্ন করেছিলেন ফারজানাকে। শোনা যায়, রেখা তাকে চুল বেঁধে দিতেও বলেছিলেন। সব পরীক্ষাতেই উৎরে গিয়েছিলেন ফারজানা। তারপর রেখা ফারজানাকে প্রশ্ন করেছিলেন, ‘আর কী জানো?’ উত্তরে ফারজানা বলেছিলেন, ‘বিশেষ বডি মাসাজ জানি। আমার হাতের গুনে আপনার ঘুমন্ত শরীর কথা বলে উঠবে।’ উত্তর শুনে রহস্যময়ী রেখা নাকি ফারজানার হাতে সঁপে দিয়েছিলেন নিজের শরীর।এমন গল্পও মুম্বাই শহরের সিনেমা পাড়ায় ভেসে বেড়িয়েছে সেদিন মাসাজ পর্ব চুকে যাবার পর রেখা নাকি প্রশ্ন করেছিলেন, ‘দরকার মতো এভাবে আমাকে পরেও জাগাতে পারবে তো?’ সেদিন থেকেই ফারজানার স্থায়ী ঠিকানা হয়ে গিয়েছিলো রেখার বাংলো।

প্রথম প্রথম ফারজানা রেখার প্রসাধন সহকারী হিসেবেই কাজ করতেন। অমিতাভ বচ্চরে সঙ্গে ছাড়াছাড়ি হবার পর প্রায়ই ফারজানার ডাক পড়তে লাগলো রেখার শোবার ঘরে। সেখানে রেখার নির্দেশে ফারজানা কি তার জাদুকরী হাতে ‘শরীর জাগানীয়া’ মাসাজ করতেন অভিনেত্রীকে সে প্রশ্নের উত্তর আজো অজানাই। কিন্তু তারপর থেকেই রেখার সঙ্গে কে দেখা করবে, অভিনেত্রী কাকে কতোটা সময় দেবেন তা ঠিক করে দিতে শুরু করেন ফারজানা।

বোঝাই যায় না ফারজানা নারী না পুরুষ

এমনি করে কাটলো কিছুটা সময়। তারপর হঠাৎ করেই রেখার সঙ্গে পরিচয় হলো মুকেশ আগরওয়ালের। দারুণ স্মার্ট, সুদর্শন ব্যবসায়ী মুকেশ। দু’জনেই দু’জনের প্রেমে মশগুল হয়ে গেলেন। তারপর এক সময় ঘর বাঁধার সিদ্ধান্ত এলো। বিয়ে করে দু’জন হানিমুনে চলে গেলেন লন্ডনে।মধুচন্দ্রিমা শেষে দু’জনে ফিরলেন আপন আলয়ে। শুরু হলো দাম্পত্য জীবন। কিন্তু কিছুদিন যেতেই মুকেশ টের পেলেন রেখা আর ফারজানার বিশেষ সম্পর্ক। বুঝতে পারলেন কীসের জোরে ফারজানার এই দাপট। মুকেশ বুঝতে পারলেন রেখার জীবনে তার চাইতেও বেশী মূল্যবান ফারজানা। আর হয়তো সে কারণেই এক ধরণের হতাশা আর অবদান এসে বাসা বাঁধলো তার মনে। একদিন রেখার ওড়না গলায় পেঁচিয়ে নিজেকেই খুন করে ফেললেন মুকেশ আগরওয়াল।

ঝড় উঠলো বলিউডে। শ্বশুরবাড়ি রেখাকে বললো ‘রাক্ষুসী’। আর বলিউড দুনিয়া আখ্যা দিলো ‘ডাইনী’ বলে। মুকেশ আগরওয়ালের এক আত্মীয়া মিসেস অনল গুপ্তা মন্তব্য করতে গিয়ে বলেছেন, ‘রেখা এবং ফারজানা স্বামী-স্ত্রী‘র মতো আচরণ করে। তাদের মধ্যে পেশাদার সম্পর্কের বাইরে অন্য একটি সম্পর্ক আছে। রেখা আসলে উভগামী নারী।’ তখন অনেকেই রেখার সঙ্গে আর কাজ করতে চাইলো না। আর তখন মুখ ফিরিয়ে নেয়া দুনিয়ার বিপরীতে দাঁড়িয়ে রেখার হাত ধরে থাকলেন ফারজানা। তাকে ধরেই যেন রেখা সামলে উঠলেন। তার বাংলোর দরজা বন্ধ হলো সাংবাদিকদের জন্য। খুব ঘনিষ্ঠ কেউ ছাড়া রেখার কাছে যাওয়ারও অনুমতি থাকলো না কারো। বাড়ির কাজের লোকেরাও বেডরুমে ঢোকার অনুমতি হারালো। সেখানে একমাত্র অবাধ গতি ফারজানার! আর তখনই রটনা রটে গেলো রেখার সঙ্গে বিশেষ ধরণের শারীরিক সম্পর্ক আছে এই নারীর।

সেইসব ঝোড়ো দিন একটা সময়ে থিতিয়ে আসে। রেখার নিন্দুকেরাও তাদের ফণা নামিয়ে নেয়। কিন্তু রেখাকে সেই থেকে আর তেমন কোথাও দেখা যায় না। সেভাবে কারো সঙ্গে কথা বলাও বন্ধ করে দেন তিনি। আর তখনও রেখার ছায়াসঙ্গী ফারজানা। সাদা অথবা কালো পোশাক পড়তে ভালোবাসেন ফারজানা। এই পোশাকেই তাকে দেখা যেতো রেখার পাশে। অনেক সময় বোঝাই যায় না ফারজানা নারী না পুরুষ। দুজনে সময় কাটাতেন রেখার বাংলোর বন্ধ দরজার আড়ালে একান্তে। সেই নিজস্ব নির্জনতায় দু’জন মানুষ কী করেন, কীভাবে সময় কাটান তার উত্তর মেলেনি, শুধু কেটে গেছে ৩০ বছর। তারা সময় পার করেছেন পারস্পারিক নির্ভরশীলতায়।

কে এই ফারজানা? কোথা থেকেই বা তার আগমন রেখার জীবনে? এসব প্রশ্নের উত্তরও রহস্য দিয়ে মোড়া। পুরুষের পোশাকে নারী ফারজানা রেখার ছায়াসঙ্গী।তাকে দেখলে যে কেউ ভাববে পুরুষের আত্মার ভেতরে আটকে থাকা একজন নারী। রেখাও পরে ফারজানাকে নিজের বোন বলে পরিচয় করিয়ে দিয়েছেন। কিন্তু সে পরিচয় কতদূর সত্যি? কারণ রেখার কাছের মানুষরাই তো ফারজানার সঙ্গে এই অভিনেত্রীর অন্যরকম সম্পর্কের উপরে নেমে থাকা রহস্যের পর্দা টেনে সরিয়ে দিয়েছেন।জানান দিয়েছেন দুজনের মাঝে বয়ে চলা এক চোরাস্রোতের অস্তিত্ত্ব।

প্রাণের বাংলা ডেস্ক

তথ্যসূত্রঃ ইন্টারনেট

ছবিঃ গুগল