রেসিপি -পিনা- কোলাডা

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

ইভা ভুঁইয়া

পোস্টবক্স। ফেইসবুকের একটি জনপ্রিয় গ্রুপ। এবার প্রাণের বাংলার সঙ্গে তারা গাঁটছড়া বাঁধলেন। প্রাণের বাংলার নিয়মিত বিভাগের সঙ্গে এখন থাকছে  পোস্টবক্স-এর রকমারী বিভাগ। আপনারা লেখা পাঠান পোস্টবক্স-এ। ওখান থেকেই বাছাইকৃত লেখা নিয়েই হচ্ছে আমাদের এই আয়োজন। আপনারা আমাদের সঙ্গে আছেন। থাকুন পোস্টবক্স-এর সঙ্গেও।

বিকেলে হঠাৎ আজ বলা নেই কওয়া নেই এক পশলা বৃষ্টি। সকাল থেকে রোগী দেখে দেখে ক্লান্ত লাগছে ত্রপার। ভেবেছে আজ একটু তাড়াতাড়ি বের হবে। ডাউনটাউন আলবেনীর এগ থিয়েটারের পাশে বসে একটু জিরোবে। আজকাল দিনের এক ঝলক দেখার সময় হয়না।রেসিডেন্সি শেষ করে ছোট্ট শহরেই রয়ে গেল সে। বেশ ঠান্ডা চেহারার শহরটার প্রতি এক ধরনের ভালবাসা কাজ করে। এখানে যদিও কেউ নেই। কাজ আর রোগী এরাই জীবন এখন।মাঝে মধ্যে ফয়সাল খোঁজ খবর করে।মাস দুয়েক হলো সেও গায়েব। রাগা রাগি করে দুই বন্ধু কাটটি। এরকম সময়ে ত্রপার ফয়সাল এর কথাই মনে হয়। কথা বলার মতো, বকা বকি করার মতো ওই গাধাটাই আছে। মাঝে মধ্যে ভাব নেয় তার পর আবার নিজেই ফেরত আসে। কিন্তু বেশ অনেকদিনই হয়েছে গায়েব সে। ত্রপা ফোনটা উঠিয়ে ডায়াল করে ফয়সাল কে। দুই রিং এর মধ্যেই ধরে।

– কিরে তোর ব্রেক শেষ হয়নাই? মহিলাদের মত এরকম লেনদি ব্রেক নিচছিস ক্যান।

– কি বলতে ফোন দিলি সেটা বল। আজাইরা প্যচাল দিস না ত্রপা।

-বাপরে এখনো হট আছিস। থাক তাইলে ছাড়ি। আগুন নিভানোর জন্য ফায়ার সার্ভিস ডাকা লাগবে মনে হয়। তোর বউরে ফোন দিয়ে বলি। নির্বাসনের মেয়াদটা কমানো যায় না কি তোর। বন্ধু হিসেবে একটু দায়িত্ব আছেনা।

ফয়সাল একটু রোবোটের মত করে বলে আমি বাফেলোতে আসছি এক স্টুপিড এর সঙ্গে তার ড্রাইভারি করতে। এখন আমি ডান এনাফ উইথ ইট। তোর বাড়িতে এসে একটু ঘুমাবো অনুমতি যদি দিস।

-কি কস এগুলা। পাবলিক শুনলে কি বলবে। অশিল কথা বার্তা।

অশিল শুনে দুজনেই হো হো করে হেসে ওঠে। আরে আমাদের অনুপ কুমার শীল একজন অশিল(অশ্লিল) ডাকতার মিস করি অনেক।

ত্রপা জিজ্ঞেস করে হারামজাদা তুই সত্যি বাফলোতে, আমার উপর দিয়া গেলি, ফোন ও দিলিনা।

– তুই আগে দিলি, চান্সই দিলিনা আমারে।

-কখন আসবি?টরেন্টো যামু কইরা বাইর হইসি এখন ঘুরাইতেসি আলবেনীর দিকে। আড়াই ঘনটা দেখাইতেসে। ত্রপা পরের দিনের রোগীর লিস্ট প্রিনট করে ব্যগ কাধে ফেলে বরিয়ে যায়। ঘড়িতে সাড়ে তিনটা বাজে। আজ তার প্রকসি ছিলো আধা দিনের কাজ। কাল পরশু ছুটি। বাইরে এসে দেখে রোদ। ফয়সাল পিনা কোলাডা খেতে চেয়েছিলো। গ্রোসারিতে ঢুঁ দিতে হবে।এর জন্য খাবার এর চিন্তা করাও একটা জুলুম, এত বাছে উফফ অসহ্য। গ্রোসারিতে ঢুকে। কিছু চিংড়ি নেয়। একটা আনারস, এক ক্যানড নারকেলের দুধ, আর একটা পাইন এপল জুস। হঠাৎ মনে হলো এর আগে ফয়সাল এর সঙ্গে একা আড্ডা হয়নি কোন দিন। ফয়সাল মাঝে মাঝে খুব বিরক্তিকর। এত নেগেটিভ এত ডিপ্রেসড। ত্রপার খারাপ লাগে। কিন্তু ফয়সাল কেন যেন সারা জীবন আছে। সঙ্গে থাকে। গ্রোসারী তুলে সোজা বাড়ির পথে।বাড়ি ফিরে।

বাইরে আঁধার নেমে আসছে। ত্রপা মোম জালায়। ফয়সাল খুব সৌখিন। খুব সুন্দর ঘরবাড়ি সাজিয়ে রাখে। ত্রপার এলোমেলো সব। গাছগুলিতে পানি দেয়। মাছ গুলিকে খেতে দেয় ত্রপা। চিংড়িগুলি মেরিনেট করে। ফয়সাল এর প্রিয় চিংড়ি ভাজা। ফয়সাল ছেলেটার জন্য কেন একটা মায়া কাজ করে ত্রপার।

মনে পড়ে মেডিক্যাল কলেজের প্রথম দিকের কথা। ফয়সাল একদিন ক্লাস সাসপেন্ড হলে ত্রপাকে কি একটা বলবে বলে বোটানিক্যাল গার্ডেন নিয়ে গেল। অনেক সময় ধরে অনেক বকবক কিন্তু কি কথা সেটাই আর বললো না।মাসুমের সঙ্গে বিয়ের দিন ইচ্ছে করেই আসেনি বিয়েতে। ত্রপা বুঝতো ফয়সাল কি বলতে চায় কিনতু সেটা যেন কোনদিন না বলে ফয়সাল তার জন্য খুব দোয়া করতো। ঘরে বেশ সুন্দর চেরির গন্ধ ছড়িয়েছে। ফয়সাল এসেছে।

ঘরে ঢুকেই বলছে খেতে দে।
-কি খাবি?
-যা আছে তাই, রাজ্যের খিদে পেয়েছে।
-ফ্রিজে সালাদ আছে, কাবাব আছে।
চলবে?
-ডাক্তার শয়তান এই জন্যই তোর জামাই তোকে ফেলে ভাগসে। আমি ভাত খাবো। আলু ভর্তা দিয়ে।
-সিরিয়াসলি?
-হ্যাঁ তুই না পারলে বল আমি নিজে রানবো। ডাল আলুভর্তা আর ভাত। গত ৩৭ দিন আমি অন দ্যা রোড।
-কি বলিস?
-হ্যাঁ সংসার ত্যগ করলে কেমন ফিল হতে পারে একটু দেখতেসি যেহেতু মনি নিজেই সুযোগ করে দিসে।
-তোর রাজ কপাল। এরকম একটা বউ পাইসিস।
-হুম,এবার কথা কম আর কাজ বেশী।এগুলা কি করসিস?
-চিংড়ি।
-চিংড়ি খাইনা এখন বেশি। নিষেধ। কোলেসটরল বেশী।
-তাই তাহলে উঠায়ে রাখি।
-না কষ্ট করে বের করসিস একটু খাই, ভাজ। কাজ কর্ম তো কিছু পারিসনা একটু শেখ।
ত্রপা চিংড়ি তেলে ভেজে উঠায়। ভাত ডাল, আলুভর্তা বানায়।
ফয়সাল রান্না ঘরের সঙ্গের ডেকে বাইরে যেয়ে বসে।
এখানে সন্ধ্যা হলে জোনাকিতে ভরে যায়। ত্রপার বাড়ির ডেকটা ফয়সাল এর খুব প্রিয়। আগের বার এসে একটা বিচ চেয়ার কিনে দিয়ে গেছে কারন একটা মাত্র চেয়ার ছিলো।
বাইরে এসে ত্রপা দাঁড়ায়- তুই ড্রিংকস নিবি?
ফয়সাল অনেক কথা বলে সেই তুলনায় আজকে একটু চুপচাপ। ত্রপার দিকে না তাকিয়ে বলল,- হুম দে।
জানিস কি বানাবো আজকে?
বল
-পিনা কোলাডা
-আচ্ছা বানা
-কি রে কি হইসে এরকম বিমর্ষ কেন?
-কিছুনা তুই বানা
-তোর না রেসিপি শেখার কথা?

– বল আমাকে দিয়ে কাজ করাবি।

– চল আনারস কেটে দে, তিন কোনা পিস বানাবি। আর ক‘টা পাতা যেগুলি কচি ওগুলি খুলে দে।

 বাকার্ডি রাম এর বোতলটা নামায় ত্রপা। একটা সট এর কাপ এলকোহোল মাপার। পাইনএপল জুস। কোকেনাট ক্রিম। একটা ব্লেন্ডারে দুই শট মানে ৯৫ এম এল এর রাম ঢেলে দেয়। ছোট কিউব করা আনারসের ৮/১০ টুকরো ছেড়ে দেয়। ৯০/৯৫ এম এল কোকোনাট মিল্ক দিয়ে দেয়।
১৮০ মিলি পাইনএপল জুস
আর সাথে দেড় কাপ আইস।
-দেখেছিস তো?এবার এটাকে ব্লেনড করতে হবে ১ মিনিট।ব্যাস।
গ্লাস পাড় উপর থেকে ফয়সাল  নামায়।
ড্রিংকস গুলি গ্লাসে ঢেলে একটা তিন কোনা আনারসের টুকরোতে আনারসের পাতা গেঁথে গ্লাস সাজায় ত্রপা। ফয়সালের হাতে একটা গ্লাস দিয়ে আালতো গ্লাস ঠুকে ত্রোপা বলে,- নে চিয়ার্স, এবার একটু মুডে আয়।
ফয়সাল হেসে দেয়।
-তুই যে আমাকে খালি পেটে এটা দিলি কিসু হলে ট্রিটমেনট করিস।
-তুই একটু আগে কম করেও ১০ পিস চিংড়ি সাবাড় করেছিস।না খেতেই দেখি ধরে গেসে তোর ফয়সাল।
-হুম তোর মত এত খাই নাকি আমি। আানাড়িখোর আমি।
ফয়সাল দ্রুত গ্লাস খালি করে ফেলে।

-তুই কি রেসে নেমেছিস। রয়ে সয়ে খা।

-ধুর খাবই যখন রোয়ে সোয়ে কি?
পচা হইসে ড্রিংকস ধরে নাই একবারই জুস হইসে।
-তাই?
-হ্যা আমি র খাবো।
-আচ্ছা।
-খেয়ে নে কিছু।
ফয়সাল ভাতের প্লেট নিয়ে দু‘একবার খেলো শুধু নাড়াচাড়া করে গেলো।
ওর আজকে কিছু একটা হয়েছে।
প্লেট সরিয়ে সিংক এ রেখে বাকার্ডির বোতলটা আর গ্লাস নিয়ে ডেকে যেতে যেতে বললো- ডেকে আয়।
হাতের কাজ সেরে ডেকে টুলটা টেনে বসে ত্রপা। ফয়সাল পা লম্বা করে বিচ চেয়ারে বসে। এক হাতে সিগারেট আর এক হাতে গ্লাস।

-বাহ তোর ব্যাপক উন্নতি দেখি।

-সবই তোদের কৃপা। ভাল ছেলেটারে হাতে ধইরা নষ্ট করসিস!
-তোর মনে হয় অনেক কষ্ট তার জন্য?

-তুই আমাকে সিগারেট শেখালি ত্রপা।
তুই মেয়ে হয়ে সিগারেট খাস আমি খাইনা কি প্রেসটিজিয়াস ব্যপার। আমাকে এমনিতেই ক্লাসে হাফ লেডিস ডাকতো।তোদের দোজখেও যায়গা হবেনা।
-তোকে দেখলে কে বলবে এক কালে কি ছিলি৷ তোর ঠোঁট গুলা দেখি এখন গোলাপি হয়ে গেসে। সিগারট খাবি?

-একটা আস্ত খেতে পারবোনা। অভ্যাস নাই। তোরটা দে আগের মত শেয়ার করি।
ফয়সাল সিগারেট বাড়িয়ে দেয় ত্রপাকে।
ত্রপা টেনে কাশতে থাকে।-আচ্ছা ছাড়, আর খাইসনা।
-না খাই আর একটু।

-তবে তুই যে এইযে চোখ মুখ খিচে র গিলছিস আর খাইস না নিতে পারবিনা।আচ্ছা ত্রপা মাসুম ভাইকে মিস করিস?
-না করিনা।
-তোর একা লাগেনা?
-লাগে, লাগবেনা কেন?
-অনেক দিন হয়ে গেল কি ভাবছিস?
-কি ভাববো? ভাল আছি।
-তোর এখানে আসবোনা ভেবেছিলাম।
এলি কেনো?
-পারলাম না, না এসে।
-বেশ তো এখন কি খারাপ লাগছে? তোকে একটা কথা আমার বলা হয়নি।
-ফয়সাল আর খাইসনা তোর কথা জড়িয়ে যাচছে।
-তুই এরকম ক্যান? তোর কাছে ফ্রি হওয়া যায়না। বলা যায়না।
-বাপরে তোর আরো ফ্রি কি লাগবে?
-তোকে বোটানিক্যাল গার্ডেন নিয়ে গিয়েছিলাম একদিন কিছু বলতে, মনে আছে? বলা হয়নি সেটা।
-কি বলিস সারা দিন বকবক করলি আর কি বলার ছিলো।আসল কথাই বলিনি।ফয়সাল তুই পানি খা, নে।
ত্রপা পানি এগিয়ে দেয়। ফয়সাল আরো এক পেগ নিতে চায় ত্রপা বোতল সরিয়ে রাখে।
-দেখ জোনাকি দেখ।
-আকাশটা দেখ কি কালো।
বৃষ্টি হবে।
-হোক। তুই শোন।
-তোকে আমি ভীষণ চাইতাম তুই কোনদিন বুঝলিনা? —

-সত্যি বুঝলিনা? কিছুতেই বুঝলিনা?
-মানে কি?
-তাকা আামার দিকে। তুই মানে জানিস না?
-তুই ঢুলছিস। তাকাতেই তো পারছিস না। আর সব হারমজাদাগুলাই বেটা মানুষ। একলা মেয়ে পেলেই প্রেম জাগে না?ঘুমাইতে যা। মাতাল।আমার হাতটা ধরবি একটু?

-ঘরে যাবি? উঠতে পারতেছিস না?
-না যাবোনা এখানেই থাকবো। তুই হাতটা ধর আামার।
-কি যন্ত্রনা মনিকে ফোন দেই।
-দে, দিয়ে বল তোকে ভালবাসি আমি। আর অভিনয় করতে পারবোনা। এবার তোরা দুইজন আমাকে ক্ষান্ত দে। আমি একটু বাঁচি।
-সব কথা জড়ায়ে যাইতেসে তোর। ঘুমা যেয়ে।
-হাতটা দে ত্রপা। হাতটাই ধরতে চাইসি আর কিছু না।
ত্রপা উঠে ভেতরে এসে লেবু পানি বানায়। ফয়সাল সোজা হয়ে বসতে পারছেনা। অ্যালকোহল কাটাতে হবে। সব চেয়ে খারাপ অবস্থা এবার সে বমি করবে।
-নে এটা খা। কথা শুনলিনা তো একটাও।
-তুই শুনলি আামারটা?
লেবু পানি ফয়সালের হাতে দেয়া মাত্রই গ্লাসটা পড়ে ভেঙে গেল। ফয়সাল পুরোই ব্যালানস হারিয়েছে। কাচগুলি সরিয়ে আবার লেবু পানি নিয়ে এসে ফয়সালকে উঠিয়ে খাইয়ে দেয় ত্রপা। চলে আসার মুহুর্তে ফয়সাল ত্রপাকে জড়িয়ে ধরে। বাচ্চাদের মত কান্না শুরু করে। –

-ত্রপা, তেকে ভালবাসি আমি। তুই একবারো বুঝলিনা। ত্রপা বলে,- ফয়সাল তোর এই মুহুর্তটা যেন মনে না থাকে সেই দোয়া করছি।
ত্রপার খুব কান্না পায়। ফয়সালকে এরকম করে কোনদিন সে ভাবেনি। ফয়সাল খুব কাছের একটা মানুষ, ফয়সালকে সব বলা যায়। কিন্তু ফয়সাল সে নয়। ফয়সালের জন্য খারাপ লাগে। ফয়সাল আমি তো তোর সঙ্গেই আছিরে। বন্ধুর চেয়ে বেশি কাছের আর কি থাকে। বাকি সব ছিঁড়ে যায়, নষ্ট হয়ে যায়।

-তুই চুপ কর।
ফয়সাল হরহর করে বমি করে দেয়। ত্রপার গায়ে লেগে যায়, ফয়সাল এর গায়ে লেগে যায়। ত্রপা এসে ওর জামা চেঞ্জ করে দেয়। ফয়সাল একদম নেতিয়ে পড়েছে।
-পানি খা ফয়সাল।চল আমাকে ধর এবার আমি তোকে রুমে নিয়ে যাই ঘুমা। ঠিক হয়ে যাবে।
আবার উঠে ফয়সাল হাউমাউ করে কাঁদে।

– তুই বুঝিসনা যে তোর আমার জন্য এত মায়া এটা ভালবাসা না?ফয়সাল তুই ঘুমানোর চেষটা কর।

-কেন রে? কেন আামাকে ভালবাসতে পারিসনা? বলবি? আমার জানতে ইচ্ছে করে। বলতে বলতে আবার বমি।

-তুই চুপ করে বোস ফয়সাল। কথা বলিস না। ত্রপা এসে ধরে ফয়সালকে। ও বার বার ঝাকিয়ে উঠে বমি করছে। জিনিসটা খুব কষ্টের।
ত্রপার খারাপ লাগতে থাকে। ফয়সালকে সে এভাবে কোনদিন দেখেনি। বুঝেছে ফয়সাল তাকে এভাবে দেখে কিন্তু সেটা ফয়সালকে বুঝতে দেয়নি কখনো। ফয়সালকে হারানো যায়না। ও সেই বন্ধুটা। ফয়সালের পাশে ত্রপা দাঁড়িয়ে আর ফয়সাল ত্রপাকে জড়িয়ে ধরে কাঁদছে।
আচচা আজ কাঁদ তুই এগুলি কিছু হয়নি। সকালে এসব ভুলে যাস তুই ফয়সাল। মনে মনে ত্রপা বলতে থাকে।
এর মধ্যে ঝমঝমিয়ে বৃষ্টি নামে।
ত্রপা ফয়সালকে বলে,- ঘরে চল ধরে নিয়ে যাই আমি।
ফয়সাল বলে‘- ভিজি, সব ভিজুক, সব কাঁদুক শুধু তুই গলিস না।
ফয়সালকে দুহাতে ধরে রাখতে রাখতে ত্রোপার কান্না চলে আসে।

– এভাবে তো দেখিনি তেকে আমি। পারবোও না। তুই একটু বোঝ ফয়সাল।
ফয়সাল সেটা শুনতে পারেনা।
বৃষ্টি ভালই নেমেছে। ভিজে একসা।
ফয়সাল চুপ। ওর ঘুম আসছে।
ফয়সালকে ত্রপা বলে,- ওঠ এবার ধর আমাকে। কাঁপছিস ঠান্ডায় এর পর মরবি।
ফয়সাল উঠে আসে। ফয়সালকে তার রুমে ঢুকিয়ে এসে ত্রপার মনে হয় জীবনের সব চাইতে খারাপ ড্রিংকসটার অভিজ্ঞতা হলো আজ সব চেয়ে ভাল বন্ধুর সঙ্গে।
পরদিন সকালে ফয়সাল জানতে চায় কাল রাতে খুব বাড়াবাড়ি করেছে কিনা সে। জিজ্ঞেস করে- বেয়ারাপনা করেছে কিনা সে।
ত্রপা বলে,- হারামজাদা কুত্তার পেটে ঘি হজম হয়না আসছে র খাইতে। এর পর মদের নাম মুখে নিস! বমি পরিষ্কার করাইসিস আমাকে দিয়ে।

-তোকে উল্টো পাল্টা বলসি?

-হ্যাঁ বলসিস মারিয়া তোকে ভালবাসেনি।ফয়সাল ত্রপার দিকে তাকায়।
ত্রপা বলে‘- তুই আজকে বিদায় হ। আমার গলফ খেলার দাওয়াত আছে।ফয়সাল বলে,- যা তুই। আমি আর একটু ঘুমিয়ে উঠে ২ টার দিকে বেরিয়ে যাবো। খাবার কিছু দিয়া যাইস।

ছবি: গুগল

 

প্রাণের বাংলায় প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। লেখা সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় প্রাণের বাংলা বহন করবে না। প্রাণের বাংলার কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না তবে সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করতে পারবেন । লেখা সংক্রান্ত কোনো অভিযোগ অথবা নতুন লেখা পাঠাতে যোগাযোগ করুন [email protected]