রোকসানা শাহ্‌নাজ এর গুচ্ছকবিতা

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

রোকসানা শাহনাজ

পোস্টবক্স। ফেইসবুকের একটি জনপ্রিয় গ্রুপ। এবার প্রাণের বাংলার সঙ্গে তারা গাঁটছড়া বাঁধলেন। প্রাণের বাংলার নিয়মিত বিভাগের সঙ্গে এখন থাকছে  পোস্টবক্স-এর রকমারী বিভাগ। আপনারা লেখা পাঠান পোস্টবক্স-এ। ওখান থেকেই বাছাইকৃত লেখা নিয়েই হচ্ছে আমাদের এই আয়োজন। আপনারা আমাদের সঙ্গে আছেন। থাকুন পোস্টবক্স-এর সঙ্গেও।

 

 কথোপকথন- ১ 

 

অনিকেতঃ কাশ ফুলের পোড়া গন্ধ টের পাচ্ছ দিঠি?

 

দিঠিঃ গতকাল এক বকুলগন্ধী বিকেলের খামে, নীল পদ্মের পাতায়; তোমায় পাঠিয়েছি চিঠি—

 

অনিকেতঃ বৈরী বাতাস জানে,

কতটা চৈতালী হাওয়া এলে পুড়ে যায় বন,

কতটা নগ্ন হয় মুগ্ধ জীবন!

 

দিঠিঃ আবার পোড়া গন্ধ কেন অনিকেত!

এখনও শোননি তুমি?

আমার বুকের প’রে হেমন্ত বাতাস—

সমৃদ্ধির সোনালি উদ্ভাস?

 

অনিকেতঃ পেছনে দৌড়ে আসে দুরন্ত শৈশব,

ঐখানে ফেলে গেছি অচেনা ভুবন—-

ঐখানে ফেলে গেছি কিছুটা জীবন!

 

দিঠিঃ জীবন কী শঙ্খিনী নদী?

নীল পদ্মের পাতায় কবিতার নীল—

উন্মুক্ত আকাশ খোঁজে ভুল শঙ্খচিল?

 

অনিকেতঃ ইন্দ্র মেঘে ডুবেছিল তমস্বিনী তট–

আদ্র চৈতন্য জেনেছিলো,

কাশবনেও জন্ম নেয় অনিন্দ্য গোলাপ এক!

 

দিঠিঃ মুদে থাক চোখ, মুদে থাক চোখ

মন বলে, শুধু ভালোবাসা হোক!

—-ভালোবাসা হোক!!

 

কথোপকথন-২

 

অনিকেতঃ ল্যান্ডস্কেপ বিকেলের আলিঙ্গনে আনত তুমি

তোমার শাড়ির ভাঁজে বিভা ছড়ানো

বিপ্রতীপ ক্যানভাস,

আঁচলে বেঁধেছ জাফরানি আকাশ —–

 

দিঠিঃ সে তো তোমারই জন্যে অনিকেত!

রৌদ্রের পেছনে ছুটে ছুটে ক্লান্ত তুমি —–

উত্তাপে উত্তাপে উৎসব তোমার

কখনও বসবে এসো, অপরাজিতার আসরে।

 

অনিকেতঃ সবুজ হেটে চলে যায়—–

হলুদ হেসে ওঠে করুণ কটাক্ষে!

বাস্প জমে জমে কখন বজ্র হয়

দেখেছ তুমি?

 

দিঠিঃ তোমার কণ্ঠে কেবলই বজ্রের হুংকার!

জাননা কী? চকিত আলোর নিশানা খোঁজে অমিত আঁধার?

ভৃত্য নীতি আগেও ছিলো, আজও তেমনি আছে—-

তুমি চাইলেই বদলাতে পারবেনা বৃত্ত।

 

অনিকেতঃ মিথ্যের নির্লজ্জ আলিঙ্গনের ভয়—-

সত্য সহজেই মুখ লুকায়!

 

 

কথোপকথন-৩

 

অনিকেতঃ বাইরে বৃষ্টি হচ্ছে দিঠি,

পত্র-পল্লবে তবুও কী ভীষণ খরা

পারবে কী ধুয়ে দিতে

সামাজিক জরা?

 

দিঠিঃ তুমি চাইলেই, বৃষ্টির পাখনা জুড়ে মৃত নগরী

তুমি চাইলেই, বিমর্ষ শালিকের ডানায় কালপুরুষ

অজন্তা- ইলোরায় শতাব্দীর মৌন অন্ধকার

তুমি চাইলেই —-

 

অনিকেতঃ নগ্ন নিশিথে দুঃস্বপ্ন আলিঙ্গন।

 

দিঠিঃ স্বপ্নকে একবার আলিঙ্গন করেই দেখ অনিকেত!

 

অনিকেতঃ শব্দহীন স্রোতের বুকে কখনও কান পেতেছ দিঠি?

ঢেউ এর উন্মত্ততা নেই, জলতরঙ্গ নেই

শুধু বয়ে চলা বিস্তার —-

স্বপ্নকে দিয়েছি বিদায়।

 

 

কথোপকথন-৪

 

অনিকেতঃ নির্ঘুম কবিতার কাছে জানতে চেয়েছি ঠিকানা আমার,

সে বলে দিয়েছে তোমার নাম।

 

দিঠিঃ গোটা রবীন্দ্র সরোবর ঘুরে

চারটে মাত্র লালকমল পেয়েছি।

তোমার ঠিকানায় চলে এসো—-

বরমাল্য পরিয়ে দেব কাল।

 

অনিকেতঃ অরণ্য অভিযানে যাবে দিঠি?

 

দিঠিঃ অরণ্য অভিযান!

 

অনিকেতঃ ধরে নাও অর্বাচীন বিলাস।

কাঁচের কার্ণিশে প্রতিদিন কুয়াশার নিঃশ্বাস,

ক্লান্ত আমি— ক্ষণকাল নির্জনতায় নিবাস—

অরণ্যের আঙুল ছুঁয়ে পাহাড়ি ঢল,

তোমার চোখের তারায় অরুন্ধতী- স্বাতী- কালপুরুষ।

সবুজ মখমলি চাদরে কিংশুকের  উন্মত্ত উল্লাস—-

 

দিঠিঃ তুমি ভালোবাসার কথা বললেই

আমার মাথার ভেতরে উল্কাপাত

বুকের ভেতর গত শতাব্দীর সহস্র নিনাদ।

আমার বড় ভয় হয় অনিকেত!

 

অনিকেতঃ বেদনাহীন ভালোবাসা কে বেসেছে কবে?

জাননা কী —

তোমার পায়ের নূপুরে, লালকমলের পাপড়িতে,

অনিকেত নামের অদৃশ্য শৃঙ্খল!

শৃঙ্খল খুলে দাও দিঠি।

 

একদিন চলে যাব দূরে —-

নীল আর নীলিমায় মিশে রব গহন আঁধারে।

 

দিঠিঃ কত কথা বলে যায় নিন্দুকে —-

আমি শুধু ভালোবাসা তুলে রাখি জং ধরা সিন্দুকে!

 

কথোপকথন-৫

 

অনিকেতঃ

নিশ্চিন্ত সকাল চেওনা দিঠি—

দিতে পারি অতর্কিতে অগ্নুৎপাত

অনিদ্রার অন্ধকার এনে দিতে পারি।

 

দিঠিঃ

যখন আমি কুয়াশা ভোর, যখন আমি ঘাস

দিতে পার এনে অনিকেত উদ্ভাস!

ধরো, একটি হাওয়াই মিঠাই  আকাশ মেঘনার চরে—-

কিংবা আস্ত একটি বালুচরি বিকেল পানাম নগরে—-

দিতে পার লিখে দিঠির নামে,

বেনামী খামে।

 

অনিকেতঃ

অজন্তা ইলোরার পুরো প্রত্নতত্ত্ব ঘুরেও

আমি পাইনি সে বিকেলের সন্ধান —-

জন্মান্ধ জীবনের বাঁকে বাঁকে

লুকিয়ে থাকে কিছু বৃহন্নলা বিকেল,

নিকেল করা সকাল তাকে ছুটি দেয়

রোজনামচায়।

মুণ্ডিত দিবাকর যামিনীকে অভিসম্পাত দিতে ভুলে যায়।

ভুলে যায় অস্তাচলের মধুর হাসি,

ভুলে যায় চেনা পৃথিবীর অচেনা পালঙ্ক!

 

দিঠিঃ

কালের কলঙ্ক মুছে যাক মুছে যাক তার দাগ—

তোমার মুকুটে শোভিত হোক পলাশ পরাগ।

ছবি: গুগল

 

 


প্রাণের বাংলায় প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। লেখা সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় প্রাণের বাংলা বহন করবে না। প্রাণের বাংলার কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না, তবে সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করতে পারবেন । লেখা সংক্রান্ত কোনো অভিযোগ অথবা নতুন লেখা পাঠাতে যোগাযোগ করুন [email protected]


https://www.facebook.com/aquagadget
Facebook Comments Box