রোজনামচায় ১৬ ডিসেম্বর/২০১৬

ফেইসবুক এর গরম আড্ডা চালাতে পারেন প্রাণের বাংলার পাতায়। আমারা তো চাই আপনারা সকাল সন্ধ্যা তুমুল তর্কে ভরিয়ে তুলুন আমাদের ফেইসবুক বিভাগ । আমারা এই বিভাগে ফেইসবুক এ প্রকাশিত বিভিন্ন আলোচিত পোস্ট শেয়ার করবো । আপানারাও সরাসরি লিখতে পারেন এই বিভাগে । প্রকাশ করতে পারেন আপনাদের তীব্র প্রতিক্রিয়া।

সুলতানা শিরিন সাজি

সুলতানা শিরিন সাজি

inside-chobi_1222

বাংলাদেশের শীতের সকাল

মফস্বলের মতই এখানে শীতকালে ধূসর কুয়াশায় ভোর হয়।
এত শীত ,এত্ত শীত ,ইচ্ছা করে লেপের ভিতর হাত,পা গুটিয়ে বসে থাকি।
বেড সাইড টেবিলে চায়ের কাপ এ গরম চা এর সাথে প্রিয় টোস্ট বিস্কুট।
চারিদিকে ছড়িয়ে রাখি প্রিয় সব বই।
আধো ঘুম আধো জাগরণে এমন তুষারিত সকালে কিচ্ছু আর ভালো লাগেনা।
এমন সব সকালে রাজকন্যাদের মত অদ্ভুত সব কিছু করতে ইচ্ছা করে।
হাত নাড়াতেই হুকুম জাহাপনা টাইপ কিছু।
মাঝে মাঝে হাত নাড়তে হয়না। বা স্বপ্নবিলাস এ ভাসতে হয়না।
সবকিছু ম্যাজিকের মত হয়।কাছের মানুষের ভালবাসায় ।

….গাড়ি স্টার্ট দিতেই ভুসসসসসস করে ধোঁয়া ছেড়ে অনিচ্ছায় চলতে শুরু করে।
ভয় থাকে। হবে কি হবেনা।
এইটা আধো ঘুম আধো জাগরণের স্বপ্ন না,
এইটা হলো সত্যি।
শীতকালের অনেক সকালের মতই আজ সকালেও এই ভয় নিয়ে ঘুম ভাঙে।
হাত মোজা ,বুট ,কান টুপি,কোট এর ভিতর ঢুকতে ঢুকতে একরাশ অবাক করা প্রশ্ন নিজেকেই করি।
এই কি আমার দেশ? এ আমি কোথায় আছি।
ভুল জায়গায় দাঁড়িয়ে কেউ নাকি বেশিদিন থাকতে পারেনা।
তাহলে?

আজ বিজয় দিবস ।
১৬ ডিসেম্বর।
বিজয়ের ৪৫ টা বছর পার করলো বাংলাদেশ।

inside-chobi3333

অটোয়ার শীতের সকাল।

……সকাল বেলা রাইয়ানকে স্কুলে নামাবার সময়টুকুতে নানা বিষয় নিয়ে গল্প।আজ ওকে বললাম আজ বিশেষ একটা দিন। এ নিয়ে অনেক গল্প করলাম। ও আজ বললো ,ও শীত পছন্দ করেনা।
ও বাংলাদেশী, বাংলাদেশে চলে যাবে।আমি তো অবাকে ।শীতের যন্ত্রণায় নাকি আমার গল্প শুনে এক্কেবারে বাংলাদেশী হয়ে গেলো।
বললাম, বাংলাদেশ দারুণ দেশ। শীত মানে যেখানে ভীষন সুন্দর একটা অনুভূতি।
বাংলাদেশের মানুষের ভালোবাসার কোন তুলনা নেই।
গ্রেড নাইনে পড়ছে ও। পুরাই ফটিক বয়স।
পড়ার টেবিল থেকে কতবার যে আয়নায় চুল ঠিক করে। আমি অন্য জায়গায় বসে থেকেও ওর পায়ের আওয়াজ এ কি করে সব বুঝে ফেলি,ভেবে ভেবে অবাক হয়।
না বললেও সব কি করে বুঝে ফেলি এ নিয়ে তার চিন্তার শেষ নাই। ওকে বলা হয়নি,অদ্ভুত সারল্যর বয়স ওর।
এই বয়সে মানুষ মিথ্যা বলতে পারেনা। আর বললেও তা লুকা্তে পারেনা।
মায়ের কারিশমাতে মুগ্ধ আমার ছেলে।
ওকে বলি,পড়া শেষ কর বাবা তাড়াতাড়ি। সবাই মিলে বাংলাদেশ চলে যাবো।
আসলে কোথায় যাবো! এও আরেক স্বপ্ন। একবার শিকড় উপড়ালে আর কি ফেরা যায়!
আমার ভাইজান বলে ,আমরা হলাম লস্ট জেনারেশন। হয়তো সেটাই ঠিক।

………..বিকালে হুড়পাড় করে তৈরী হই। অটোয়ার বাংলাদেশ হাইকমিশনের বিজয় দিবসের অনুষ্ঠান।অটোয়ার এবং হাইকমিশনের কর্মকর্তাদের সম্মিলিত পরিবেশনায় এই অনুষ্ঠান।
কোন অনুষ্ঠানে কোরাস গান হবে শুনলে খুব ভালো লাগে। বিশেষ করে দেশের গানগুলো। লাল শাড়ি পড়ে রেডি হয়ে ,মাইনাস ২৭ এ অনুষ্ঠানে পৌছাতে পৌছাতে কত কথা ভাবছিলাম, কত কিছু মনে আসছিল।
এইযে দেশের টান,মাটির টান,ভালোবাসার টান।
এই রকম আসলে আর কিছুতে তো পাইনা।
শীতে কাঁপতে কাঁপতে কৈলাস মিত্তাল থিয়েটার এ পৌছে যখন দেখি অনেক মানুষ।
সবাই এসেছে একসাথে আনন্দ করতে ।
গান গাইতে,কবিতা করতে।মনে হয় এই জন্যই আমরা বাঙালী।

………অনুষ্ঠানের পর কেউ যখন ডেকে বলে ,খুব ভালো লাগলো আপনার কবিতা।
মাকে নিয়ে লেখা কবিতা ,”স্মৃতির নামাজগড় কতদুর” এই কবিতা প্রথমবার শোনার পর অনুষ্ঠান শেষ হবার পর যখন একজন ডেকে বলে ,ঠনঠনিয়া ,নামাজ গড় কোথায়। তখন বুকের ভিতর আনন্দের কান্না এসে জমা হয়।
ধন্যবাদ আর শুভেচ্ছা জানাই ।
মানুষের মত কেউতো আর এত অবাক করে না কখনো!

ফেরার পথে আর শীত লাগেনা আগের মতন।
নাজমার সাথে কথা বলতে বলতে ফিরি।
মানুষের ভালোবাসার উষ্ণতার এত শক্তি।তাই যদি না হতো,তাহলে কি আমরা ৪৫ বছর আগে সেই বাংলাদেশকে পেতাম।
গানের ,কবিতার ,নাচের ভিতর দিয়ে কি দারুন কেটে গেলো কিছু সময়। অনুষ্ঠান শেষে কোরিডোরে সবাই মিলে ছবি তোলা,গল্প।হাসি।
মনের মধ্যে সদ্য গেয়ে আসা গানের গুনগুন………
“ভাই এর মায়ের এত স্নেহ কোথায় গেলে পাবে কেহ।”
“বাংলার হিন্দু,বাংলার বৌদ্ধ,
বাংলার খ্রীষ্টান,বাংলার মুসলমান
আমরা সবাই বাঙালী।”

ছবি: ইন্টানেট ও টুটুল নেসার