লরি কিং লিখছেন শার্লক হোমসের গল্প

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

লেখক জীবনে শার্লক হোমস চরিত্রটিকে নিয়ে ৫৬টি গল্প এবং ৪টি উপন্যাস লিখেছেন স্যার আর্থার কোনান ডয়েল। গিনেস বুক অফ ওয়ার্ল্ড রেকর্ড দেখা যায়, সাহিত্য-চলচ্চিত্রে যে মানব চরিত্র সবচেয়ে বেশিবার এসেছে, তার নাম শার্লক হোমস। আর মানুষ অথচ দানবীয় চরিত্র হিসেবে নাম এসেছে ড্রাকুলা চরিত্রের।

কেটে গেল ১৩৩ বছর। কিন্তু আজও বুড়ো হননি শার্লক হোমস। এই গোয়েন্দ্ চরিত্র এমন ভাবে আছেন মনে হয় সত্যিকারের মানুষ হিসেবেই পৃথিবীতে ছিলেন এই গোয়েন্দা। আজও জনপ্রিয়তার শীর্ষে শার্লক হোমস। গোয়েন্দা বললেই এই একটি নামই মাথায় আসে।

উনিশ শতকের প্রেক্ষাপট থেকে শার্লক এসে পৌঁছেছেন একুশ শতকে। বেশভূষা বদলেছে গেছে তার। কাহিনিতে এসেছে টার্নিং পয়েন্ট। কিন্তু শার্লকের আপাত অনুভূতিহীন রুক্ষ ও যুক্তিবাদী চরিত্র আজও একইভাবে পাঠককে ধরে রাখে। শুধু পাঠক কেন? সিনেমা, টিভি সিরিজ বা ওয়েব সিরিজের দর্শকরাও একইভাবে মুগ্ধ হন বুদ্ধির জাদুতে। আর সেই শার্লকের কাহিনি রচনায় স্বয়ং স্রষ্টাকেই পিছনে ফেলে যাবেন বলে প্রতিজ্ঞা করেছেন মার্কিন লেখিকা লরি কিং। কোনান ডয়েল এস্টেটের পক্ষ থেকেই শার্লক হোমসের কাহিনি নিয়ে নতুন লেখার কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন লরি কিং। ইতিমধ্যে ২০টির বেশি হোমস-কাহিনি লিখে ফেলেছেন তিনি। ৬০ অতিক্রম করা সত্যিই অসম্ভব নয় হয়তো।

অবাক হওয়ার মতোই একটি বিষয়। শার্লক হোমসের গোয়েন্দা কাহিনি লেখায় আর্থার কোনান ডয়েলকে পিছনে ফেলে যাওয়া সত্যিই এক অভিনব চ্যালেঞ্জ। শোনা যায় ডয়েল নিজেও নাকি ক্লান্ত হয়ে পড়েছিলেন শার্লকের কাহিনি লিখতে লিখতে। সেই ১৮৮৭ সালে ‘আ স্টাডি ইন স্কারলেট’ থেকে শার্লক হোমস আর ওয়াটসনের যাত্রা শুরু। এরপর আর পিছন ফিরে তাকাতে হয়নি স্যার আর্থার কোনান ডয়েলকে। ১৮৯৩ সালে প্রায় বিরক্ত হয়ে তিনি লিখে ফেললেন ‘দ্য ফাইনাল প্রবলেম’। সেই কাহিনিতে তিনি ভয়ংকর শত্রু জেমস মরিয়ার্টির কাছে হারিয়ে দিলেন শার্লক হোমসকে। মৃত্যু হল গোয়েন্দার। কিন্তু পাঠক সহজে মেনে নেয়নি বিষয়টা। আবারও শার্লককে মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরিয়ে আনতে বাধ্য হলেন ডয়েল।

উনিশ শতকের শার্লক হোমসকে একুশ শতকের বাস্তবতায় ফুটিয়ে তুলেছেন বেনেডিক্ট কাম্বারব্যাচ। এমনকি রাশিয়ার টিভি সিরিজে মহিলা শার্লক হোমসকেও দেখা গিয়েছে। বিবিসির কাহিনি দুটি সিরিজে শেষ হয়ে গেলেও এলোনা হোমস সিরিজ নিয়ে হাজির হয়েছে নেটফ্লিক্স।

শার্লক হোমসের চরিত্রের এই রদবদলে কিছুটা ক্ষুব্ধ কোনান ডয়েল এস্টেট কর্তৃপক্ষও। লেখকের প্রপৌত্র রিচার্ড পুলের কথায়, একুশ শতকে শার্লককে হাজির করা বা তাঁকে মহিলা হিসাবে দেখানোয় আপত্তি নেই। কিন্তু সমস্যা হলো, অনেক ক্ষেত্রেই শার্লকের চরিত্রটাই আমূল বদলে ফেলা হয়েছে। নেটফ্লিক্সের সিরিজে শার্লকের নরম মানসিকতা নিয়ে সন্তুষ্ট নন তিনি। তাঁর মতে, শার্লককে অনুভূতিহীন যুক্তিবাদী চরিত্র হিসাবেই গড়ে তুলেছিলেন ডয়েল। সেখানে এই মৌলিক পরিবর্তন মেনে নেওয়া যায় না।

কিন্তু ঝামেলা বেধেছে অন্য জায়গায়। শার্লক হোমসের লেখারই কপিরাইট নেই। শেষ কাহিনির কপিরাইটও শেষ হয়ে যাবে ২০২৩ সালে। ফলে সব মিলিয়ে আইনি পথে হাঁটার কোনো রাস্তা নেই।

প্রাণের বাংলা ডেস্ক
তথ্যসূত্রঃ ফিচার, কলকাতা
ছবিঃ গুগল


প্রাণের বাংলায় প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। লেখা সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় প্রাণের বাংলা বহন করবে না। প্রাণের বাংলার কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না, তবে সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করতে পারবেন । লেখা সংক্রান্ত কোনো অভিযোগ অথবা নতুন লেখা পাঠাতে যোগাযোগ করুন [email protected]


Facebook Comments