লাইফ উইথ ক্যান্সার-৫

রুখসানা আক্তার

আজ সকাল সকাল GP তে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ছিলো। ছেলে সকালে স্কুলে যায় তাই ওর আগে আমি উঠে পরি। সে চলে গেলে আবার হট ওয়াটার বোতল হালকা গরম পানিতে পূর্ণ করে একটা আরাম দায়ক আয়েশি ঘুম দেয়ার চেষ্টা করি ।যদিও কেমোথেরাপি নেয়ার দিন ত্থেকে দুই সপ্তাহ পর্যন্ত রাতে একটানা ঘুমানো যায় না নানাবিধ সাইড এফেক্টের কারণে তাই সকালে এক দুই ঘন্টা নির্ঝঞ্ঝাট ঘুম খুব উপভোগ করি। আজ আর ঘুমাতে পারিনি তবে রাতে সাড়ে চার ঘণ্টা ঘুমিয়েছি।
যা বলছিলাম , ডাক্তারের সঙ্গে দেখা হলে সমস্যার কথা বললাম। তার কাছেই সবসময় দেখাই। একদম কম বয়স । আটাশ বা ঊনত্রিশ হবে। দেখতে আরো কম মনে হয়। আজ বললো আমাদের এখানে কোন ডাক্তার তোমার রোগটা ধরেছে । অবশ্যই তার মনে থাকার কথা না।। প্রতিদিন এত পেশেন্ট দেখে। এখানে মোট তিনজন ডাক্তার। বেশ ভাল এদের সার্ভিস। আমি হেসে বললাম ,তুমেই প্রথমে ধরে ছিলে । তারপর ওই দিনই হসপিটালে রেফার করেছিলে । বললো, তাই! বললাম, হ্যা। সে সিস্টেমে দেখে বললো , কিভাবে জীবন যাপন করছি ইত্যাদি। বললাম। ডাক্তার বলে, তুমি এত গুলো কেমোথেরাপি নিয়েছো, তোমার ক্যানসার তারপরও তুমি তোমার মুখে হাসি ধরে রেখেছো ,একা চলা ফেরা করছো সত্যি আমি মুগ্ধ তোমার কনফিডেন্স দেখে। আমি তাকে ধন্যবাদ দিলাম। আজ সে বেশ সুন্দর করে সেজে ছিলো। বললাম ,তুমি সব সময়ই সুন্দর তবে আজ আরও সুন্দর লাগছে। সেও মিষ্টি হেসে ধন্যবাদ জানালো। ডাক্তারের কাছে থেকে ঔষধের ব্যবস্থাপত্র
নিয়ে ফার্মেসী থেকে ঔষধ নিলাম।

আমি আসলে একা চলাফেরা করতে বেশিরভাগ স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করি এবং অভ্যস্ত। পারতপক্ষে কাউকে সাহায্যের জন্য বলতে চাই না। খুব না পারলে যে দুই তিনজন আছে যারা আসলেই উদার এবং মানবিক, তাদের বলি। কিন্তু এখানে সবাই কাজ করেন তারপর ফ্যামিলি আছে ,হাজারটা ঝামেলা আছে তাই চেষ্টা করি যতক্ষণ পারি ততক্ষণ নিজে সেরে নিতে।
যায় হউক ফার্মেসী থেকে বের হয়ে বাস পাস টপ আপ করতে গিয়ে দেখি কপালে খারাবি। দোকান বন্ধ ।পাশের দোকানি বললো সকালে বাগলার এসেছিলো দোকানে তারপর পুলিশ এসেছিলো ইত্যাদি। এখন আমাকে আরো পনেরো মিনিট হেটে ক্রসহারবার ডিয়েলার স্টেশনে যেতে হবে। রওয়ানা দিলাম। কাছেই আসডা সুপার স্টোর ,বাস পাস টপ আপ করে আসলাম আসদায়। পুরো স্টোর এ ক্রিসমাসের পণ্য সামগ্রীতে ভরপুর । কোনার ক্যাফে তে বসে এক কাপ কাপাচিনোর সঙ্গে টোনা মেল্ট খেতে খেতে লিখছি। সত্যি ভাল্লাগছে। সেই আগের মতো একা একা ঘুরে বেড়ানোটা কিছুটা হলেও উপভোগ করছি। কিছু টুকটাক শপিং করে বাসে বাসায় ফিরবো। তবে ট্রিটমেন্ট শুরু হওয়ার আগ পযন্ত বিপর্যস্ত ছিলাম। সে ব্যাপারে লিখবো । (চলবে)….

ছবি: মানজারে হাসিন মুরাদ