লাভ রানস ব্লাইন্ড

সময়ের সরণী ধরে বেশ অনেকটা পেছনের দিকে যাত্রা। এই ভীড়-ভারিক্কির পাতা ফাঁদে হারিয়ে না-যাওয়া এক অন্যরকম শহর। গিটার হাতে গান গেয়ে বাংলাদেশের একদল তরুণ ব্যান্ড সঙ্গীতের ভোরবেলাকে হাতের মুঠোয় করে এনে দিয়েছিলো। আশির দশকে সেই তরুণদের ভীড়ে তিনি ছিলেন। ছিলো তার গীটারের সুর। গান বেঁধেছিলেন, সুর তুলেছিলেন, আমাদের অনুভূতির ডালে বসিয়েছিলেন ভালোলাগার পাখি। তারপর সেই ঘুমভাঙ্গা শহরে গান, সুর আর সব ভালোবাসাকে পেছনে ফেলে চলেও গেলেন। তিনি আইয়ুব বাচ্চু। গানই যার পরিচয় তৈরী করে দিয়েছে এই দেশে। লক্ষ শ্রোতার ভালোবাসার বৃষ্টি নামিয়েছেন। আর তিনিও আমাদের বলতে চেয়েছেন, ‘লাভ রানস ব্লাইন্ড’। ভালোবাসা শুধু অন্ধের মতো পথ চলে।

তারপর এক সময় অমোঘ নিয়মে পথ ফুরিয়ে যায়। পথ শেষ হলে থাকে শূণ্যতা। তখন সেই শূণ্যতার ভেতরে একটু একটু করে ফুটে উঠতে থাকে স্মৃতিচিহ্ন। মনে পড়ার পাড়ায় ফেলে আসা কত কথার ভীড়।

চিরবিদায় নিয়ে চলে গেছেন আইয়ুব বাচ্চু। আকস্মিক মৃত্যু এসে তার ঝলমলে আয়োজনের ওপর নামিয়ে এনেছে নিষ্ঠুর যবনিকা। সব শেষ? না…। পেছনের পথে রইলো তাঁর গান, তাঁর স্মৃতি যা মানুষকে বহুকাল ভালোবাসা দেবে।

প্রাণের বাংলার প্রচ্ছদ আয়োজনে এবার প্রয়াত ব্যান্ডসঙ্গীত গায়ক আইয়ুব বাচ্চু আর তাঁর স্মৃতি গল্প-‘লাভ রানস ব্লাইন্ড’। স্মৃতিচারণ করেছেন আবিদা নাসরীন কলি।  

কখন প্রথম দেখা, কোথায় দেখা, কীভাবে দেখা  একটা সময়ে এই প্রসঙ্গগুলোর ওপর সময়ের ধূলো পড়ে যায় ।  সাদাটে আস্তরণে যেনো ঢাকা পড়ে যায় মানুষের জীবনের বহু রঙীন দৃশ্য। বাচ্চু ভাইয়ে সঙ্গে পরিচয়ের ক্ষনটাও কিছুতেই স্মৃতি হাতড়ে মনে করতে পারছি না। কার মাধ্যমে পরিচয় সে মুখটাও আর মনে পড়ছেনা। তবে সময়টা আশির দশকের প্রান্ত ঘেঁষে। ‘সোলস’ তখন পুরোদমে রাজত্ব করছে। আর ‘সোলস’ এর মানুষেরা…সবার ভালোবাসার আসনে।বাচ্চু ভাইয়ের সঙ্গে এ পরিচয়টুকু ছিলো আমার বন্ধুমহলে গল্পের ডালা বহন করা। তারপর হঠাৎ একদিন বাচ্চু ভাইয়ের ‘সোলস’ ছেড়ে দেয়ার সংবাদ। খুবই কষ্ট পেয়েছিলাম খবরটাতে। কারণ ‘সোলস’ই তখন সবার প্রাণ জুড়ে।

পড়াশোনার পাশাপাশি ৯০ এর দশকে শুরুতে আমার সাংবাদিকতার হাতেখড়ি। শুরুটা ব্যান্ডমিউজিক দিয়েই। তাই আবারও মুখোমুখি আইয়ুব বাচ্চুর। প্রথমেই জানতে চাইলাম,‘সোলস’ কেন ছাড়লেন বাচ্চু ভাই? সেদিন কোন উত্তর পেলাম না তার কাছে। তবে ঠোঁটের কোণ ছুঁয়ে থাকা মৃদু হাসিটা আমার চোখ এড়ালো না। অনেক পরে জানতে পেরেছিলাম কতোটা মনোকষ্ট নিয়ে তিনি ‘সোলস’ থেকে বেরিয়ে এসেছিলেন। স্মৃতিকাতর হলে তাকে কষ্ট পেতেও  দেখেছি। কিন্তু মানুষটাকে ভেঙে পড়তে দেখিনি। নিজের ওপর কনফিডেন্স ছিলো পুরোপুরেই। তারপর জন্ম নিলো আইয়ুব বাচ্চুর লিটিল রিভার ব্যান্ড। মনে মনে শঙ্কিত হলাম। ভাবলাম, কতদূর যাবে বাচ্চু ভাইয়ের নতুন এই ব্যান্ড? দর্শক- শ্রোতারা নেবে তো? কিন্তু সাহসে ভর করে এ আশঙ্কার কথা আর বাচ্চু ভাইকে বলা হয়নি। এলআরবি নিয়ে বাচ্চু ভাই আগাচ্ছেন। ঠিক তখনই লিটিল রিভার ব্যান্ডটি হয়ে গেলো ‘লাভ রানস ব্লাইন্ড।’ এমন বদলের কারণ?…বাচ্চু ভাই জানতে পেরেছেন, অস্ট্রেলিয়ায় লিটিল রিভার ব্যান্ড নামে একটা গানের দল আছে তাই। তারপর সত্যি সত্যিই ভালোবাসা অন্ধের মতো ছুটতে লাগলো। সময়ও গড়ালো অনেক।

আমি তখন একটা সাপ্তাহিকে কাজ করি। আমার সহকর্মী এরশাদুল হক টিংকু। দু’জনেই ব্যান্ড নিয়ে লেখালেখি করি, সেই সুবাদেই ব্যান্ড জগতের সবারই আমরা ঘরের মানুষ। সবার সঙ্গে যতটা না সাংবাদিকের সম্পর্ক তারচেয়ে বেশী আত্মিক সম্পর্ক।

এলআরবি’র ‘সুখ’ অ্যালবামের কাজ চলছিলো। স্টুডিওটার নাম আজ আর মনে পড়ছেনা। সম্ভবত ঠিকানাটা ছিলো মগবাজার। এক দুপুরে আমি আর টিংকু স্টুডিওতে যাই। ওখানে ছিলেন সারগামের বাদল ভাই। বাচ্চু ভাই রেকডিং-এ। রেকর্ড হচ্ছে ‘চলো বদলে যাই’ গানখানি।তখনও জানতে পারিনি এইগান এতোটা জনপ্রিয় হবে। বাচ্চু ভাইও বুঝতে পারেননি। তাই তো সব সময় বলতেন, ‘গানটাতে আমি কোন মনেযোগ দেইনি। বড়ো হেলাফেলায় গানটা করেছিলাম। কিন্তু এই গানটাই আমাকে বিশাল পরিচিতি এনে দিয়েছে।’

 ‘সুখ’  বের হলে ‘চলো বদলে যাই’ গানটা সবার মুখে মুখে। একদিন বাচ্চু ভাই ডেকে পাঠালেন আমাকে আর টিংকুকে । দেখা হলে অডিও আর্ট স্টুডিওতে  ।মনে হলো অনেক মুডে আছেন। আমাদের দেখে বললেন, ‘এক কাণ্ড ঘটেছে। ‘চলো বদলে যাই’ গানটা শুনে এক দম্পতি আমার সঙ্গে দেখা করতে এসেছিলো।ওদের মধ্যে সেপারেশন হয়ে গেছে সাত বছর। দু’জনেই আলাদা থাকতো। আমার গানটা শুনে ওরা আবার একসঙ্গে থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তাই আমার সঙ্গে দেখা করতে এসেছিলো।’ খবরটা চমকে দিয়েছিলো সেদিন আমাদের। গান শুনে এমনটাও ঘটতে পারে! পত্রিকার পাতায় এ খবরটা আমরাই প্রথম ধরাতে পেরেছিলাম। পেশাগত জীবনে বাচ্চু ভাইয়ের বহু খবর আমরাই প্রথম করতাম। একটা বিষয়ে বাচ্চু ভাই সব সময়ে সজাগ ছিলেন, কখনও কোথাও বাচ্চু বললেন, বাচ্চু করলেন। এমন লেখা দেখলে ক্ষেপে যেতেন।বলতেন, ওখানে আমার পুরো নাম লিখবে। না হলে আমার কথা লিখো না।’

এবার গল্প এবি কিচেনের। ৯০‘র মাঝামাঝি সময়। বাচ্চু ভাই তখন এবি কিচেন তৈরীতে হাত দিয়েছেন। কাজ চলছে। এর ভিতর আমাদের আড্ডাও চলে। প্রতিদিন অফিস শেষ করেই আমার আর টিংকুর তাড়া এবি কিচেনে পৌছানোর। চলে গল্প আর উজ্জল হোটেলের মোগলাই পরোটা, কাবাব খাওয়া। গল্প করতে করতে বাচ্চু ভাই ফিরে যেতেন চট্টগ্রামে…জুবলি রোড, ঘুরে বেড়াতেন শহরের অলি-গলিতে। সে কতো কথা। তার গান-বাজনা বাবার একেবারেই পছন্দ ছিলো না। কিন্তু ছেলের চোখে অন্য স্বপ্ন। বাড়িতে গিটার নেই। গিটার ভাড়া করে জন্মদিন, গায়েহলুদ কত কত প্রোগ্রাম যে করেছেন তার ইয়ত্তা নেই। গিটারের ভাড়া মিটিয়ে বাকি টাকাটুকু দিয়ে নিজে চলতেন। বলতেন, চট্টগ্রামে তাদের প্রজন্মের একঝাক সঙ্গীত পাগল তরুনদের কথা। কতো কারো কাছ থেকে কষ্ট পেয়েছেন, আবার ভালোবাসাও পেয়েছেন অনেকের।কিন্তু শত টানাপোড়েনের সেই সময়টাকেই বলতেন ‘সোনালী সময়’।প্রচন্ড ইমোশনাল হয়ে পড়তেন এক এক সময় স্মৃতি হাতড়াতে গিয়ে।একটা মজার কথা প্রায়ই বলতেন। বলতেন, ‘চট্টগ্রামে তখন বিয়েতে সারারাত পোগ্রাম করতে হতো।একসময় আবিস্কার করলাম বিয়েবাড়িতে প্রচুর মানুষ থাকতো কিন্তু এতো মানুষের ঘুমাতে দেয়ার জায়গা থাকতো না বাড়িতে, তাই রাতভর গান-বাজনা দিয়ে ওদের জাগিয়ে রাখা হতো।’ বলে হাসতেনও।

তখনও এলআরবি’র অন্য সদস্যরা ব্যাচেলার। তারা থাকতেন এলিফেন্ট রোডের ব্লু নাইল হোটেলে। মাঝেমধ্যে আমরা সেখানেও হানা দিতাম। একদিন এবি কিচেনে গিয়ে হঠাৎ বাচ্চু ভাইয়ের ‘কষ্ট’ ক্যাসেটের কভারে  রবিন নাম দেখে জানতে চাইলাম, এই রবিন কে বাচ্চু ভাই? হেসে বলেন,আমারই আরেকটা নাম রবিন। আমি বললাম, বাহ্ বাচ্চুর চেয়ে এটাইতো অনেক সুন্দর নাম।বাচ্চুভাই হাসলেন। আমি বললাম, বাচ্চুর বদলে রবিন নামটাই ষ্টাবলিস্ট করেন না। বাচ্চু ভাই চট্টগ্রামের ভাষায় কি যেন বলে হাসলেন। আমি বুঝতে পারিনি। জানতে চাইলেও বলেননি। তারপর অনেকবার জানতে চেয়েছি, কি বলেছিলেন একটু বলেন না। কিন্তু বাচ্চু ভাই আর কখনোই বলেননি।

যেমন ইমোশনাল ছিলেন বাচ্চু ভাই আবার তেমনই ছিলেন অভিমানী। শোনা কথার ওপর গুরুত্ব দিতেন অনেক বেশী। একবার পেশাগত কি একটা কারণে বাচ্চু ভাই আমার উপর প্রচণ্ড অভিমান করে বসেন। কথা বলাও বন্ধ করে দিলেন। আমি রাগ করার চেয়ে কষ্ট পাই  বেশী  । ভাবি আর এবি কিচেনমুখী কখনোই হবো না। সময়টা ৯০-এর মাঝামাঝি। এ সময়ে এলআরবি লন্ডনে শো করতে যায়। আমি তখন ‘আনন্দ ভূবন’ ম্যাগাজিনের ‘সারেগারে’ বিভাগের নিয়মিত লেখক। ‘আনন্দ ভূবন’-এর সম্পাদক তখন গোলাম ফারুক। আমাদের ফারুক ভাই।উনিও ক’বছর আগে আমাদের ছেড়ে চলে গেছেন।‘সারেগারে’র যাত্রা শুরু করেই ফারুক ভাই আমার আর টিংকুর হাতে বিভাগটা ছেড়ে দিয়েছিলেন। আমরা দু’জনই বিভাগটা আমাদের মতো করে সাজাতাম। এলআরবি দেশে ফিরলে ওদের লন্ডন শো নিয়ে একটা কাভার ষ্টোরি করবেন বলে ফারুক ভাই সিদ্ধান্ত নিলেন। কারণ ওটাই ছিলো এলআরবি’র প্রথম ইউরোপ যাত্রা। আমিতো এবি কিচেনে যাবো না। এবার ফারুক ভাই প্রদায়ক কাজী উচ্ছলকে বাচ্চু ভাইয়ের ইন্টারভিউ করতে বললেন। উচ্ছল বাচ্চু ভাইকে ফোন করে সময় চাইলে, বাচ্চু ভাইয়ের উত্তর, ‘আমি তোমার সঙ্গে কথা বলবো না, কলির কাছে ইন্টারভিউ দেবো।’ এমন শুনে আমিও অভিমান ভুলে গেলাম। এক দুপুরে উচ্ছলকে নিয়ে হাজির হলাম এবি কিচেনে। মান- অভিমানে পর্ব শেষ। লন্ডন নিয়ে চললো দুপুর আড্ডা্। জানলাম এলআরবি’র লন্ডন জার্ণির আদ্যোপান্ত। তারই সংক্ষিপ্তসার নিয়ে সে সপ্তাহে ‘আনন্দ ভূবন’ এর কাভার ষ্টোরি হলো। আমাদের জন্য এরকমই ছিলো বাচ্চু ভাইয়ের স্নেহ।

একসময় বাচ্চু ভাই প্রচণ্ড ব্যস্ত হয়ে পড়েন। গানের সঙ্গেই শুরু হয়ে যায় তার বসবাস। কর্মক্ষেত্রে আমিও সিনিয়র হই। ব্যস্ততা বাড়ে আমারও। টিংকু ছেড়ে দেয় সাংবাদিকতা। বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ি সবাই সবার কাছ থেকে। যখন তখন যাওয়া হয় না এবি কিচেনে। মাঝে মাঝে টেলিফোনেই বাচ্চু ভাইয়ের কুশলাদি জানি। সে সুতাটুকুও এক সময় শূন্যের কোঠায় পৌছায়।

আবার হঠাৎ করেই সেই ভাঙ্গা সেতু জোড়া লাগতে শুরু করলো। বাচ্চু ভাইয়ের সঙ্গে আবার নিয়মিত যোগাযোগ। কিন্তু এ যেন অন্য এক বাচ্চু ভাই। অনেক ইন্ট্রোভার্ট অনেক গম্ভীর।মাঝে মাঝে আমারও কথা বলতে সংকোচ হতো। আমার মনে হতো বাচ্চু ভাই কেন যেন কাউকেই বিশ্বাস করতে পারছেন না। যেন সবকিছুতেই সন্দিহান।

একদিন বললেন, ‘আমি এখন আর কোনো পত্রিকায় ইন্টারভিউ দেবো না।’  জানতে চাইলাম কেন? বললেন, ‘অনেক হয়েছে, আর না।’  এ তাঁর অভিমান না অন্য কিছু বুঝতে পারলাম না।

আমার অনলাইন ম্যাগাজিন ‘প্রাণের বাংলা’ প্রকাশিত হলে তার কাছে আর ইন্টারিভিউ নেয়ার কথা বলতে পারি না। কারণ তিনি তো কাউকে ইন্টারভিউ দেবেন না বলেছেন। একদিন মেসেঞ্জারে তার কাছে কিছু কথা জানতে চাইছিলাম। হঠাৎ বলে ওঠেন, ‘তুমি আমার ইন্টারভিউ নিচ্ছো নাকি?’ সঙ্গে সঙ্গে আমি বললাম, দেবেন আমাকে ইন্টারভিউ? বললেন, ‘নাও।’ সেই থেকে ‘প্রাণের বাংলা’র সঙ্গেই ছিলেন বাচ্চু ভাই।

একবার ‘তাকে ভুলে’ শিরোনামে প্রাণের বাংলায় কভার স্টোরি করবো। বাচ্চু ভাইয়ের কাছেও জানতে চাই, কাকে ভুলে থাকতে কষ্ট হয়? উনি মা-কে নিয়ে সেদিন অনেক কথা বলেন। তবে সতর্কও করে দেন,-‘মা কিন্তু আমার দুর্বলতা্, উল্টা-পাল্টা কিছু লিখো না যেন।’ আমি কথাগুলো গুছিয়ে সাজাই। পরে লেখাটা দেখে বাচ্চু ভাই এতোটা আপ্লুত হন যে সঙ্গে সঙ্গে আমাকে মেসেঞ্জারে লিখেন, ‘অনেক সুন্দর হয়েছে কলি। আমি সত্যিই অভিভুত এবং কৃতজ্ঞ। আল্লাহর কাছে দোয়া করি তোমার সারাটি জীবন যেন সুখের হয়, ভালো থেকো বোন আমার।’

আমার আর টিংকুর সঙ্গে শীঘ্রই বসবেন এমন কথাও বলছিলেন। আমরা আমাদের  পুরনো আড্ডা আবার ফিরে পাবো সেই স্বপ্ন দেখেছিলাম মনে মনে। কিন্তু হলোনা।  যাবো যাবো করে আমাদেরও আর যাওয়া হলো না। বাচ্চু ভাই-ই চলে গেলেন আমাদের কিছু না জানিয়ে। এতটা তাড়া ছিলো বাচ্চু ভাইয়ের আমরা বুঝতেও পারিনি। আসলে কতটা পথ পেরুলে মানুষ যাত্রা বিরতি দেয়? আর কতটা অভিমান জমা হলে মানুষ দূরে চলে যায়?…কোনটাই আমার জানা নেই। কিন্তু লাখো মানুষের ভালোবাসাকে সরিয়ে রেখে বাচ্চু ভাই মুখ ফিরিয়ে নিলেন।তবুও বিদায় বলছি না আপনাকে বাচ্চু ভাই…।

ছবিঃ গুগল