লুৎফুল হোসেনের দুটি কবিতা

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

লুৎফুল হোসেন

নিবর্তন

পিয়ানোর রিডে ছুঁইয়েছিলাম আঙুল
শব্দেরা তরঙ্গায়িত হতেই তুমি দেখলে আগুন
কথার শরীর জুড়ে শব্দের কারুকাজ
যেই বললো – ভালোবাসা,
মিয়ানো ফায়ার ব্রিগেডের জল-কলের মতো
তোমার মুখিখানি কি ভীষণ ঝলমলে অথচ নিদাঘ!
কটিতে খামচির দাগ
পিঠ জুড়ে উত্তুঙ্গ অনুভূতির আঁচড়
আমাকে শোনাচ্ছিলো সংগোপন
আলোকবর্তিকার তীব্র ঝলকের নীচে
মোহাচ্ছন্নের ধ্যনমগ্ন পাঠ
সহস্র অনুচ্চার কবিতা,
ফ্রেঞ্চ ম্যানিকিওরের ভাঁজে
তরতাজা মাংসের গন্ধ
ধোঁয়া তোলা ভাপ, তারই গায়ে
তখনও লেগে আছে
আমাকে ফিরিয়ে দেয়া চুম্বন,
এই ঠোঁট জোড়া সেই থেকে
পোড় খাওয়া দু’আঙুলের
আলিঙ্গনবদ্ধ আগুন ছাড়া
কিছুই ছোঁয়নি আজো,
তোমার ডিওর সাথে উড়ছে দিব্যি
ভেগাসের মদির গন্ধ,
ডাউকি লেকের পাড় জুড়ে
পাতারা এখনও ধরে আছে
আমাদের অসম্পূর্ণ আলিঙ্গন ও চুম্বন,
নির্দোষ বৃষ্টিজলে ধুয়ে গেছে
অতিক্রান্ত সহস্র কথন
ফিরে আসবার পথ তোমার
রুদ্ধ হয়েছে কখন!

মঞ্চনাটকের মতো

ভিতরে বুঁদ হতে হতে
বুঁদ হতে হতে
এতোটাই মেয়াদ সীমানা পেরিয়ে গেছি
সারা গায়ে ভনভন করে যাচ্ছে মাছি
কবিতার ভিতর ভাবনারা
মেয়াদ উত্তীর্ণ রূপকের রেকাবি উলটে
উদাম করে দিয়েছে ভালোবাসার রেস্তোরাঁ কেবিন
মলিন পর্দার আড়ালে ওখানে
চায়ের পেয়ালায় জমেছে ছত্রাক
এক পেয়ালা ওষ্ঠরঞ্জিকার স্মৃতি
চড়াট রক্তের মতো ঢেকে আছে
লোভাতুর চুম্বনের ক্ষত,
এখনো গত নই
যদিও নিষ্প্রাণ পড়ে রই
পাতাকুড়ুনির আগুনে পোড়া পাতাদের মতো
এখনো ধোঁয়ার তামাশা
আশপাশ জ্বালিয়ে বলে ওঠে
মরেনি এখনো সে,
হলেও মৃত্যুর খুব কাছাকাছি
প্রস্থানের দরোজায় জীবনের শরীর জাপটে
অভ্যাসবশত যাপনে উপগত,
চেয়ারে টেবিলে গড়পড়তা রেস্তোরাঁর হেঁসেলের মতো
আঁশটে হয়ে আছে স্মৃতিদিন,
বিগত সকল মুছে
তোমার দেয়াল মোড়ানো কাচে
জুড়ে থাকে ফর্সা বাঁক খাওয়া বিম্ব
আজ, তীক্ষ্ণ ও তুখোড়
গ্র‍্যাণ্ডমাস্টার দাবারুর মতো বড় তীব্র ও চকিত
অভিব্যক্তির দক্ষ অভিনয় রীতি
চোখে চোখে নেশামত্ত ঘোরে
অজস্র আত্মাহুতির গল্প লেখা নিয়তি
হন্তার উল্লাস ছাপিয়ে প্রখর
সম্ভাব্য সমূহ অনন্দ রতি,
তালুভর্তি ক্যাকটাসের করো চাষ আর
একুয়ারিয়ামে পোষো র‍্যাটল স্নেক,
জীবন তোমাকে দেবেই ধরা –
করতল ভরা প্রাপ্তির মোহর উপচে
ঈশ্বর রোজ রুটিনে মঞ্চ কাঁপিয়ে
গড়ে নিচ্ছেন তারই মহড়া;
হয়তো তবু কিছু জলের ফোঁটা গায়ে মাখা
দোলনচাঁপার পাপড়িরা
ধূপ-ধুনার খালি মালসার মতো
স্মৃতিগন্ধ গায়ে মেখে ঠিক ঠিক
পড়ে রইবে মনের ত্রিকোণ আলসেতে,
আড়ালে রেখেই সেসব তুমি
অনাগতের সুর তুলে যাবে একান্তের মন্দিরাতে।

ছবিঃ গুগল

প্রাণের বাংলায় প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। লেখা সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় প্রাণের বাংলা বহন করবে না। প্রাণের বাংলার কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না তবে সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করতে পারবেন । লেখা সংক্রান্ত কোনো অভিযোগ অথবা নতুন লেখা পাঠাতে যোগাযোগ করুন [email protected]