লেনিনের ঘরবাড়ি

রুশ দেশের কাজান শহরের খুব নির্জন একটা জায়গা। সেখানে ছোট্ট একটা বাড়ি। সেই ছোট বাড়ির ভেতরে ঢুকতেই ছোট একটা ঘর। ঢুকেই একটা টেবিল। টেবিলের উপরে রাখা রুপালী রঙের একটা টেবিল ল্যাম্প। পাশে একটা খোলা বই, কাঁচ দিয়ে ঢাকা। সেই টেবিলের লাগোয়া একটা বিছানা পাতা। বিছানার পাশের দেয়ালে ওভারকোট ঝুলিয়ে রাখার হ্যাঙার। ঘরের ভেতরে আরেকটা টেবিলে সাজানো আছে সুদৃশ্য দাবার বোর্ড। এই বাড়ির মালিক দাবা খেলতে ভালোবাসতেন। ঘরের দরজার ওপর রুশ ভাষা ও ইংরেজিতে লেখা আছে ‘এ ঘর ভ্লাদিমির ইলিচের’। হ্যাঁ, এরকম করেই সাজিয়ে রাখা আছে লেনিনের বাড়ি।

দাবা খেলতে পছন্দ করতেন লেনিন। তাঁর খেলার নিয়মিত সঙ্গী হতেন পৃথিবী বিখ্যাত লেখক ম্যাক্সিম গোর্কী। আরেক বিশিষ্ট রুশ কবি মায়াকো

লেনিনের বাড়ির সামনে

ভস্কি একটি বিখ্যাত কবিতা লিখেছিলেন লেনিনের দাবা খেলা নিয়ে, ‘আমার কাছে শখ মানে হলো বিলিয়ার্ডস, সেটাই দৃশ্য/ তার কাছে শখ হলো দাবা, নেতাদের পক্ষে যা দরকারি/ দাবার বোর্ড থেকে মুখ তুলে তিনি তাকান জীবন্ত শত্রুদের দিকে।’

কাজান শহরের সেই দোতলা বাড়িতে জন্ম হয়েছিলো লেনিনের। সেখানে বসেই তিনি পড়েছিলেন কার্ল মার্কসের ‘দাস ক্যাপিটাল’।

লেনিনের জন্ম কিন্তু ভোল্গা নদীর ধারে সিমবিরস্ক নামে এক শহরে। তাঁর পুরো নাম ছিলো ভ্লদিমির ইলিচ উলিয়ানোভস্ক। পরে সেই জন্মের শহরের নাম পাল্টে রাখা হয় উলিয়ানোভস্ক। কিন্তু অনেকে বলেন বিপ্লবী সেই মানুষটির উত্থান ঘটেছিলো কাজান শহরেই।

লেনিন ১৮৮৭ সালে কাজান বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন। বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছেই একটি ফ্ল্যট বাড়িতে ওঠেন। আর সেখান থেকেই শুরু হয় ভ্লাদিমির ইলিচ লেনিনের রাজনৈতিক জীবন। সেখানেই তিনি প্রথম ‘জেমলিয়াচেস্তোভো’ নামে একটি সংগঠনের নেতৃত্ব দিতে শুরু করেন। এই গোষ্ঠীর নেতা হয়ে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র সংগঠন নিষিদ্ধ করার বিষয়ে প্রথম প্রতিবাদ করেন। পুলিশ গ্রেফতার করে তাঁকে, পাঠিয়ে দেয় পরিবারের কাছে। বিশ্ববিদ্যালয় থেকেও তাঁকে বহিষ্কার করা হয়। বাড়ি ফিরে বিপ্লবী বইপত্র পড়া শুরু করেন লেনিন। আর তাতেই তাঁর জার ভক্ত বাবা-মা চিন্তিত হয়ে পড়েন। মা শেষে মন্ত্রীদের ধরাধরি করে ছেলেকে আবার পাঠান কাজানে। কিন্তু সেখানে বিশ্ববিদ্যালয়ে আর জায়গা হয়নি লেনিনের।

কাজানের সেই বাড়িতে তখন প্রথম এসে উঠেছিলেন লেনিন। নিকোলাই ফেদোসিভের বিপ্লবী দলে যোগ দিয়ে তিনি কাজানের বাড়িতে বসে পড়তে শুরু করেন ‘দাস ক্যাপিটাল’। ছেলেকে রাজনীতি থেকে সরিয়ে আনতে মা অনেক চেষ্টা করেছিলেন। লেনিনের জন্য একখণ্ড জমি কিনে তাকে কৃষিকাজে আগ্রহী করে তুলতে চেয়েছিলেন। কিন্তু যে মানুষ পৃথিবীর বঞ্চিত মানুষের অধিকার আদায়ের লড়াইয়ে নেতৃত্ব দেবেন তিনি কী করে একখণ্ড জমি নিয়ে পড়ে থাকবেন? ইতিহাস তেমনটা ঘটতেও দেখেনি।

প্রাণের বাংলা ডেস্ক
তথ্যসূত্রঃ এই সময়, কলকাতা।
ছবিঃ গুগল