লড়ছে টাইগাররা

দর্শকরা ভেবেছিলেন বাংলাদেশ দল ফুরিয়ে যাবে টেস্ট ম্যাচের তৃতীয় দিনেই। উমেশ যাদবের রিভার্স সুইংয়ে কুপোকাতও হয়ে গিয়েছিল বাংলাদেশের টপ-অর্ডার। কিন্তু জাদেজা-অশ্বিনদের স্পিন প্রতিহত করে ক্রিজ আঁকড়ে পড়ে থাকলেন দুই মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যান। অলরাউন্ডার শাকিব-আল-হাসান এবং অধিনায়ক মুশফিকুর রহিমের ১৬৫ বলে ১০৭ রানের পার্টনারশিপ যেন মরুভূমিতে মরুদ্যান। আর তাতেই তৃতীয় দিনের শেষে ভালভাবেই ম্যাচ বাঁচানোর লড়াইটা জিইয়ে রাখলেন টাইগাররা।

এক ইনিংসে তিনটি সেঞ্চুরি। মুরলী বিজয়, বিরাট কোহলি এবং ঋদ্ধিমান সাহার শতরানের সৌজন্য বাংলাদেশের সামনে রানের পাহাড় তৈরি করেছিল ভারত। এমন রানের বোঝা মাথায় নিয়ে ব্যাট করতে নামলে যে কোনও দলের চাপে থাকাটাই স্বাভাবিক। ভারতীয় পেস-ঝড়ে একে একে ফিরে গেলেন তামিম ইকবাল, মমিনুল হক, মাহম্মদুল্লাহরা। দলের ভরাডুবির সময় শক্ত হাতে হাল ধরলেন শাকিব। ১৪টি চার মেরে ১০৩ বলে ৮২ রানের ইনিংস খেললেন তিনি। ভারতের বিরুদ্ধে প্রথম অর্ধ-শতরানের দৌলতে বাংলাদেশ দলের জন্য বয়ে এলো দম ফেলার অবসর। এদিকে, ১৮ রানে একবার আউট হতে হতে বেঁচে যান অধিনায়ক রহিম। এই সুযোগটা কাজে লাগিয়ে দিনের শেষে ৮১ রানে অপরাজিত থাকলেন তিনি। তাঁর সঙ্গে ৫১ রান করে ক্রিজে টিকে থাকলেন মেহেদি হাসান।

বাংলাদেশের ইনিংসকে যত দ্রুত সম্ভব গুটিয়ে ফেলার লক্ষ্য নিয়েই চতুর্থ দিন মাঠে নামবেন ভারতীয় বোলাররা। ভারতের প্রথম ইনিংস দেখে মনে হয়েছিল বাংলাদেশের বিরুদ্ধে একমাত্র টেস্ট জিততে হয়তো দ্বিতীয় ইনিংসে নামতেই হবে না। কিন্তু যেভাবে মুশফিকর-মেহেদিরা ঘুরে দাঁড়ালেন, তাতে বিরাটদের অন্যরকম সিদ্ধান্ত নিতে হতেও পারে। সব মিলিয়ে জমে উঠেছে হায়দরাবাদের ঐতিহাসিক টেস্ট।

প্রাণের বাংলা প্রতিবেদক

ছবিঃ ইএসপিএন