শব

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

মুজতাবা শফিক

দুই.

বাস সহজে ছাড়বে না ! আরো যাত্রী উঠাবে। বেশী যাত্রী না উঠলেই ভালো। সন্দেহ বাড়বে। হঠাৎ মায়ের মুখটা মনে পড়লো মুমিনের। আচ্ছা , এই মহিলা কি কখনো সুখি ছিলেন? অনেক ছোট বেলার কথা মনে করার চেষ্টা করে মুমিন। নাহ, মা তাকে আদর করছে এমন কোন স্মৃতি মনে করতে পারে না । খুব মারতেন সালেহা বেগম। হাতের কাছে যা পেতেন জুতা, স্যন্ডেল ! বাবা খুব চেষ্টা করতেন থামাতে। মারতে গেলেই ছুটে আস্ তেন

– -আহ, ছাড়ান দাও! কি করছে বাচ্চাটা!

কিসের কি! …তুই মাঝখান থিকা কথা বলবি না!

বাবা থতমত খেয়ে বিদায় নিতেন! মুমিন ভাবে, এই মহিলা এরকম কেনো ছিলেন! মানসিক রোগ! নাকি যৌন অতৃপ্তি! হতে পারে। ছোট ভাই আমান কে অবশ্য একেবারেই মারতেন না মা! আর এই সু্যোগ টা আমান বেশ নিতো! ওর নেশাই ছিলো বিভিন্ন বিষয় নিয়ে মুমিন কে মার খাওয়ানো।

– -মা, আইজকা  ভায়ে স্কুল ফাকি দিয়া বল খ্যালাইতে গ্যাসে।

বাসায় আসার সাথে সাথে শুরু হলো জুতার বাড়ি। মুমিন দেখে, দরজার পাশ থেকে আমান ফিক ফিক করে হাসছে ! অথচ আমান কিন্তু একেবারেই অন্য রকম এক্টা ছেলে ছিলো! আসে পাশের অন্য  সব ছেলেদের মধ্য, সে একেবারেই আলাদা! এই ব্যপারটা খুব ভালো টের পেতো মুমিন । আর টের পেতেন মা সালেহা বেগম! কিন্তু বড় ভাই মুমিনের প্রতি তার কেনো যেনো ছিলো সহজাত তাছ্যিল্য !

ছোটবেলা থেকেই মুমিন ছিলো তার ভাবনাগুলোর মতোই বড্ড এলোমেলো, শরতের মেঘের মতো,  ভেসে বেড়ানো এক মানুষ! আর আমান ছিলো যেনো অর্জুনের ধনুক থেকে বেরিয়ে আসা ভয়ানক বান। শিকারের চোখ ছাড়া,  অন্য কোথাও বিদ্ধ হবার উপায় নাই!

আমান কে কখনো পড়তে বলতে হতো না! স্কুলে যাবার আগে নিজের শার্ট্ সে নিজেই যত্ন করে ইস্ত্রি করে নিতো ! সব কিছুতেই গোছানো , পরিপাট্‌ এক অন্য রকম মানুষ! পড়শোনা শেষ করে সে এখন ভালো সরকারী চাকুরী করছে! দুহাতে টাকা পয়সা কামাই করে।প্রচন্ড মাতৃভক্ত। এখনো বিয়ে করেনি। বলে, মেয়ে পায় না! কিন্তু মুমিন জানে, শুধুমাত্র সালেহা বেগমের কথা চিন্তা করেই বিয়ে করছে না আমান! এখন অবশ্য বড় হবার সাথে সাথে বড় ভাই এর প্রতি , তাচ্ছিল্যর বদলে এক ধরনের করুনা ভর করেছে আমানের মাঝে ! টুকটাক কথা বলে।

–তোমার মামলার কি অবস্থা!

হঠাৎ সেদিন জানতে চায় আমান!

— চলছে।

ছোট করে জানায় মুমিন!

–উকিল ধরসো নাকি!

—পয়সা নাই! হাসে মুমিন!

—পয়সা আমি দিবো, তুমি শুধু একটা ভালো উকিল যোগাড় করো!

আমান যখন ছোট ছিলো, আমানের পেশাবের খেতাগুলো নিয়মিত ধুয়ে দিতো সে, হঠাত মনে পড়ে, মুমিনের!  আবার মারো খেতো উলটা পাল্টা হলে!

— এই শুয়ার, এদিক আয়! গুয়ের দাগ দেখস না ! ডাক দিতেন মা সালেহা বেগম।শুরু হলো মার!

আনমনে চোখ মুছে মুমিন! মনে হয় এখনো পিঠে ব্যাথা। ক্ষমা করে দিলাম মা, ক্ষমা করে দিলাম! মনে মনে বলে মুমিন।

(চলবে)
ছবিঃ গুগল

প্রাণের বাংলায় প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। লেখা সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় প্রাণের বাংলা বহন করবে না। প্রাণের বাংলার কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না তবে সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করতে পারবেন । লেখা সংক্রান্ত কোনো অভিযোগ অথবা নতুন লেখা পাঠাতে যোগাযোগ করুন [email protected]