শব

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

মুজতাবা শফিক

ছয়.

অনেক চিন্তা করে মুমিন বলে চাচ্চুকে খোঁজা যেতে পারে। চাচ্চুর কথাটা মনেই পড়েনি। এই দুঃসময়ে চাচ্চু ছাড়া আর কেই বা পাশে এসে দাড়াবে। কিন্তু চাচ্চুর সাথে যোগাযোগ নেই বহু বছর । কলেজে পড়ার সময় হরিহর আত্বা ছিলো চাচ্চু আর মুমিন। আসল নাম আদনান বা অই জাতীয় কিছু! কেনো যে ওর নাম চাচ্চু হয়েছিলো এখন আর মনে পড়ে না। খুব সম্ভবত ওর এক ভাতিজা, মুমিনদের সঙ্গে পড়তো, সেই কারনে চাচ্চু নাম! এরপর ইউনাভার্সিটিতে উঠে যাওয়ার পর কিছুদিন যোগাযোগ ছিলো। যদিও সে ছিলো অন্য ডিপার্ট্মেন্টের ছাত্র। তবে চাচ্চু  এক সময় ভার্সিটিতে, রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়ে। ফলাফল হচ্ছে, তার ছাত্রজীবন আর শেষ হয় না! এখনো সে কোন এক হলে থাকে।মুমিন ভাবে, একটা শেষ চেষ্টা করা যেতে পারে। কাঁটাবনের হল্টা ঢুঁ মারা যাক। না পেলে অন্য ব্যবস্থা!

কাঁটাবন আর নীলক্ষেতের অলিগলি তস্য গলি একসময় মুমিনের ভীষন চেনা ছিলো। বাইরে থেকে বোঝা যায় না। পরিচিত  ছাড়া ভিতরে কিছু পাওয়াও যাবে না! কিন্তু এই সরু গলি, যেখানে দুটো মানুষ পাশাপাশি হাটা যায় না, সেই গলিতে, লুকিয়ে আছে এক স্বর্গ রাজ্য, নেশার রাজ্য। চাচ্চুর কাছ থেকেই সব শেখা। কোন এক বিষন্ন দিনে মুমিন বলেছিলো

-ভাল্লাগে নারে! মনে হয় দুনিয়াটা পানি দিয়ে গিলে ফেলি!

চাচ্চু কি বুঝলো কে জানে। শুধু বলেছিলো

-আয়, আমার পিছে পিছে আয়!

মুমিন অন্ধের মতো শুধু অনুসরণ করে। গলির গলি, তস্য গলি পেরিয়ে চাচীর ছোট্ট দোকান। যেনো গল্পের ঝাপি নিয়ে বসে আছে। আর ছোট ছোট গল্পের পুরিয়া বিক্রী করছে! তার কাছ থেকে কিছু গল্প কিনে নিয়ে বসে পরে দুই বন্ধু! দিন গুলো ভালই কাটছিলো মুমিনের।

এই রকম এক সময় স্বপ্নার সাথে মুমিনের কিছু হয়। মুমিনের প্রথম অভিজ্ঞতা বলা যেতে পারে। সালেহা বেগম গ্রাম থেকে একটা মেয়েকে নিয়ে এসেছিলেন তার সংসারে হাত লাগাবার জন্য। সালেহা বেগমের কঠিন মানা ছিলো তাকে কাজের মেয়ে বলতে। পনের ষোল বছরের উঠতি যুবতী মেয়ে। বাসার মধ্যে ঘুরঘুর করছে। কিন্তু সালেহা বেগমের ভয়ে চোখ তুলে তাকাবার উপায় নেই। পুরো ব্যাপারটা স্বপ্না প্রথম দিনই টের পেয়ে যায়। আর তাই মুমিনের সামনে পড়লেই ফিক করে হেসে ফেলে। এভাবে বেশ কিছুদিন যাবার পর একদিন রাতের ঘটনা। মুমিন তখন ঘোরের মধ্যে। সারাদিন কি কি খেয়েছে চাচ্চুর সাথে আর মনেও নেই। অপার্থীব কিছু অনুভুতির সঙ্গে তার তখন বসবাস। মাঝরাতে মুমিনের মনে হয়, তার শরীরের উপর নরম একটা শরীর চেপে বসে আছে। শরীরের উপর অন্য একটা শরীরের ওঠা বসা, গরম নিশ্বাস আর চাপা শীৎকার সবই সে টের পায়! আবার মনে হয়, স্বপ্ন। তার নিজের শরীরেরই মাঝে এমন এক আনন্দ লুকিয়ে আছে, তা মুমিনের কল্পনার বাইরে ছিলো! মুমিনের মনে হলো তার জীবনের সকল নির্যাস, রাগ, ঘৃনা, ক্ষোভ, অভিমান সব কিছু আগ্নেয়গিরির লাভার মতো বেরিয়ে গেলো! শরীরের ভিতর তখন শুধু ভালো লাগা। দিনের বেলা স্বপ্নাকে দেখে মনে হলো তাকে যেনো ভালো করে চেনেই না! মুমিন ভাবে, স্বপ্নার সঙ্গে কি কিছু হয়েছিলো তার? নাকি পুরোটা তার নেশাগ্রস্ত মনের কল্পনা ! পরের রাতেও একই ঘটনা। সেই গরম নিশ্বাস আর চাপা শীৎকার আবার ফিরে আসে। মুমিন ভাবে যাক না এভাবেই, চলুক জীবন। পরের রাত থেকে মুমিন আর খুঁজে পায় না সেই নরম শরীরের অস্তিত্ব! যেই শীৎকার সে নিজের বুকের উপর শুনেছিলো, তা সে শুনতে পায় পাশের আমানের ঘরে! একরাত নয় দুই রাত নয় রাতের পর রাত! কাউকে কিছু বলে না মুমিন!আর বলার কী বা আছে!

এর প্রায় তিন থেকে চার মাস পরের ঘটনা। রাতে বাসায় ফিরে মুমিন দেখে বসার ঘরে বিরাট সালিস বসেছে। স্বপ্নার বাবাকে গ্রাম থেকে ডেকে নিয়ে আসা হয়েছে। স্বপ্না গর্ভবতী! মুমিন কে দেখেই স্বপ্না ডুকরে কেদে উঠে। আর  স্বপ্নার বাবা শুন্য চোখে তাকিয়ে থাকে। সে চোখে কোনো ভাষা নেই। অথবা কি ছিলো মুমিন তা জানতে পারেনি! মুমিন বাসায় কোথাও আমান কে দেখতে পায় না! কিছুই বলে না মুমিন! তার কিছু বলার ছিল না! স্বপ্নাকে পত্রপাঠ বিদায় করে দেন সালেহা বেগম। মুমিন পরে শুনেছিলো স্বপ্নার  বিয়েতে  বড় একটা খরচ দিয়েছিলেন সালেহা বেগম।  মুমিন কেও সেই রাতে বিদায় করে দেন সালেহা বেগম। মুমিন বাড়ী ফিরে আসে প্রায়  বছর বাদে।

সেই একবছর মুমিন কিভাবে কাটিয়েছে কেউ তাকে জীজ্ঞেস করেনি! শুধু বাবা আব্দুল হক সাহেব এসে বল্লেন,

-বাজান এতো শুকাইলা ক্যাম্নে!(চলবে)

ছবি: গুগল

প্রাণের বাংলায় প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। লেখা সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় প্রাণের বাংলা বহন করবে না। প্রাণের বাংলার কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না তবে সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করতে পারবেন । লেখা সংক্রান্ত কোনো অভিযোগ অথবা নতুন লেখা পাঠাতে যোগাযোগ করুন [email protected]