শরীরে তাদের নকশা কাটা

  •  
  •  
  •  
  •  
  • 0
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

জাপানের অপরাধ জগতে আজও এক ভয়ংকর নাম ‘ইয়াকুজা’। পশ্চিমা দুনিয়ার মাফিয়াদের মতোই ভয়ংকর এই ইয়াকুজা। জাপান দেশের  ব্যবসা-বাণিজ্য থেকে শুরু করে সংস্কৃতি পর্যন্ত এখন এই ক্রাইম সিন্ডিকেটের আওতায়। ইয়াকুজাদের দুনিয়াটাও রহস্যে ঘেরা। প্রাচীনকাল থেকে এই সংগঠনটি সে দেশের অপরাধ দুনিয়ার সঙ্গে জড়িত। কিন্তু এই জগতে নারী ইয়াকুজা বলে কোনো শব্দ নেই। যে মানুষটি জাপানে ইয়াকুজা সিন্ডিকেটের সদস্য তাকে অবশ্যই হতে হবে পুরুষ। তাহলে এই রাজ্যে নারী ইয়াকুজা বলে কোনো শব্দ নেই? ফরাসী আলোকচিত্রী শোলো জাফি অবশ্য এ বিষয় নিয়ে পৃথিবীকে ভিন্ন অভিজ্ঞতার কথা শুনিয়েছেন।

জাফি ইয়াকুজাদের রাজ্যে নারীদের সন্ধান করতে ঢুকে পড়েছিলেন জাপানে। জাপানী ভাষাও রপ্ত করেছিলেন ভালো ভাবে। তার ক্যামেরা ধারণ করতে চেয়েছিলো ভয়ংকর ইয়াকুজা রাজ্যের অন্দরমহল। জাফি ইয়াকুজাদের সঙ্গে ঘনিষ্ট হওয়ার জন্য কাজ করতে শুরু করেন টোকিও শহরের একটি বারে। তারপর একদিন জাফির তীব্র আগ্রহই তাকে পৌঁছে দেয় এক ইয়াকুজা নেতার কাছে। এই নেতার সূত্র ধরে জাফি ঢুকে পড়েন ইয়াকুজাদের অন্দরমহলে।

জাফির ক্যামেরা যেমন নারী ইয়াকুজাদের খুঁজছিলো তেমনি খুঁজছিলো এই অপরাধ দুনিয়ার সদস্যদের শরীরে আঁকা এক বিশেষ ধরণের ট্যাটু বা উলকি। ‘ইরোজুমি’ নামে এই বিশেষ ট্যাটু অন্দরমহলের সদস্যদের শরীরেও করানো হয়। শরীরের কোনো একটি অংশে বা পুরোটা জুড়েই এই নকশা করা হয়। পুরনো রীতি অনুযায়ী পুরো নকশাটাই করা হয় হাতে। ব্যবহার করা হয় কাঠের তৈরি একটি যন্ত্র এবং সুঁই। এই ট্যাটু শরীরে করানোর মধ্যে দিয়ে একজন ইয়াকুজা কষ্ট সহ্য করার ক্ষমতাও পরীক্ষা করা হয়। জাফির ভাষায়, জাপানে এই ট্যাটু কখনোই ফ্যাশন নয়। এ ধরণের ট্যাটু শরীরে থাকলে এবং তা দেখা গেলে সেই মানুষটিকে অপরাধ জগতের সঙ্গে সম্পৃক্ত বলে ধরে নেয়া হয়। জাপানের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের জন্য ট্যাটু করানো নিষিদ্ধ।

জাফি সেই ইয়াকুজা নেতার মাধ্যমে ঢুকে পড়েছিলেন তাদের পরিবারে। একটু একটু করে বুঝতে পেরেছিলেন ভয়ংকর সব অপরাধীদের স্ত্রী‘রা আসলে এক ধরণের রক্ষিতা। ওই ইয়াকুজার জন্য শেষ পর্যন্ত জীবন দেয়ার শপথ নিয়ে এসব নারীরা আসে সংসার করতে। তবে সংসার তাদের হয় না।তবে ইয়াকুজা পুরুষরা তাদের স্ত্রীদেরকে অপরাধের বলয় থেকে দূরে রাখে। তারা মনে করে এসব কাজ নারীদের জন্য নয়। তবে এই ইয়াকুজাদের অন্দরমহলের বাসিন্দারা শরীরে ট্যাটু করায়।

স্বামীরা যেহেতু অপরাধের সঙ্গে জড়িত তাই এই রমণীরা এক ধরণের গোপন জীবন যাপন করে। তারা নিজেরা-নিজেরা একটি গোষ্টী তৈরি করে একটি বলয়ের ভেতরে ঢুকে যায়। তাদের শরীরে করা ট্যাটু বিষয়ে প্রশ্ন করলে সেই নারীরা জাফিকে জানিয়েছে, নিজেদের অন্য পুরুষের কাছ থেকে নিরাপদ রাখতেই তারা এই সিন্ডিকেটের সদস্য পরিচয় বেছে নেয়। কেউ আবার এই বিশেষ ট্যাটুকে সম্মানজনক বলে মনে করে।

প্রাণের বাংলা ডেস্ক

তথ্যসূত্রঃ ডেজড ম্যাগাজিন

ছবিঃ গুগল


প্রাণের বাংলায় প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। লেখা সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় প্রাণের বাংলা বহন করবে না। প্রাণের বাংলার কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না, তবে সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করতে পারবেন । লেখা সংক্রান্ত কোনো অভিযোগ অথবা নতুন লেখা পাঠাতে যোগাযোগ করুন [email protected]


Facebook Comments