শহীদ জুয়েলের জন্মদিন আজ

প্রমিথিউসের মতো আগুন আনতে গিয়েছিলেন তিনি। নিজের জীবন উৎসর্গ করে এই বাংলাদেশকে সেই আগুন জ্বেলে নতুন পথের দিশা দেখিয়েছেন। তিনি শহীদ মুক্তিযোদ্ধা আবদুল হালিম চৌধুরী জুয়েল। বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধে ১৯৭১ সালে পাক সেনাদের হাতে প্রাণ হারান তিনি।
আজ বাংলাদেশের এই বীর মুক্তিযোদ্ধার ৬৬তম জন্মদিনে প্রাণের বাংলার পক্ষ থেকে তাঁর পবিত্র স্মৃতির উদ্দেশ্যে জানাই গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা।
বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ চলাকালীন ঢাকার কিংবদন্তী ক্র্যাক প্লাটুন এর সদস্য ছিলেন তিনি। ১৯৭১ সালের ২৯ আগস্ট পাকিস্তানি সেনারা তাঁকে আটক করে। ধারণা করা হয় ৩১ আগস্ট পাকিস্তানি সেনারা জুয়েলকে হত্যা করে।
শহীদ জুয়েলের জন্ম ১৯৫০ সালের ১৮ জানুয়ারি তার পৈতৃক বাড়ি মুন্সিগঞ্জ জেলার শ্রীনগর উপজেলার দক্ষিণ পাইকশা গ্রামে। তার বাবার আবদুল ওয়াজেদ চৌধুরী এবং মা ফিরোজা বেগম। রাজধানী ঢাকার টিকাটুলির ৬/nphoto0142১ কে এম দাস লেনেও তাঁর বাবার বাড়ি ছিল, সেখানেই তাঁর বেড়ে ওঠা। তিন ভাই ও চার বোনের মধ্যে তিনি দ্বিতীয়।
১৯৭১ সালে জুয়েল ঢাকার জগন্নাথ কলেজের শিক্ষার্থী ছিলেন। পড়াশোনার পাশাপাশি ভালো ক্রিকেটার ছিলেন এই অকুতোভয় মুক্তিযোদ্ধা। ১৯৭১ সালের পূর্বে শহীদ জুয়েল ঘরোয়া লীগে আজাদ বয়েজে ও মোহামেডান ক্লাবে খেলেছেন।১৯৬৯ সালে তিনি মোহামেডানে যোগ দেন। এটাই ছিল তাঁর জীবনের শেষ ক্লাব।
১৯৬৬ সালের ২১ মে প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেটে জুয়েলের অভিষেক হয়। সেদিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় মাঠে আইয়ুব ট্রফিতে পাবলিক ওয়ার্কস ডিপার্টমেন্টের বিপক্ষে ঢাকার হয়ে তিন দিনের ম্যাচ খেলেন। ১৯৬৬ সালের ৫ অক্টোবর হায়দরাবাদের নিয়াজ ষ্টেডিয়ামে কায়দ-ই-আজম ট্রফিতে হায়দরাবাদ, খায়েরপুর ও কোয়েটার বিপক্ষে চার দিনের ম্যাচে তিনি ইষ্ট পাকিস্তান দলের হয়ে খেলেন।
৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে মে মাসের শেষ দিকে ঢাকা থেকে পালিয়ে ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের মেলাঘরে যান শহীদ জুয়েল। সেখানে তাঁকে মুক্তিবাহিনীর ক্র্যাক প্ল্যাটুনে অন্তর্ভুক্ত করে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। প্রশিক্ষণ শেষে ঢাকায় এসে গেরিলা অপারেশন শুরু করেন। ফার্মগেট ছাড়াও এলিফ্যান্ট রোডের পাওয়ার স্টেশন, যাত্রাবাড়ী ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ পাওয়ার স্টেশনে গেরিলা অপারেশনে যথেষ্ট সাহসিকতার পরিচয় দেন তিনি।
মুলত ঢাকা কেন্দ্রিক বিভিন্ন স্থানে জুয়েল ও তার সহ গেরিলারা বিভিন্ন অপারেশনে অংশ গ্রহণ করেন।
১৯ আগস্ট নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ পাওয়ার স্টেশনে গেরিলা অপারেশনের সময় পাকিস্তান সেনাবাহিনীর পাল্টা আক্রমণে জুয়েল আহত হন।ঢাকার বড় মগবাজার এলাকায় চিকিৎসারত অবস্থায় পাকিস্তানি সেনাবাহিনী এ রাজাকারদের সহায়তায় ২৯ আগস্ট তাঁকে আটক করে। ৩১ আগস্ট পাকিস্তানি সেনারা তাঁকে হত্যা করে।
১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে তৎকালীন অস্থায়ী বাংলাদেশ সরকার স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে শহীদ জুয়েলকে মরনোত্তোর সম্মাননা প্রদানের ঘোষণা দেয়। ১৯৭২ সালে বাংলাদেশ সরকার জুয়েলকে মরণোত্তর বীর বিক্রম খেতাবে ভূষিত করে।

প্রাণের বাংলা প্রতিবেদক
তথ্যসূত্রঃ উইকিপিডিয়া
ছবিঃ গুগল