শাই হোপ বাঁচালেন ওয়েস্ট ইন্ডিজকে

আহসান শামীম

ওয়েষ্ট উইন্ডিজের শাই হোপের অপরাজিত ১৪৪ বলে ১৪৬ রানের ইনিংসের সুবাদে ৪ উইকেটে জয়ের দেখা পেলো ওয়েষ্ট ইন্ডিজ। এই জয়ে তিন ম্যাচের ওয়ান ডে ১-১-এ সমতা।এখন ১৪ ডিসেম্বর সিলেটের মাটিতে সিরিজের জয়- পরাজয় নির্ধারিত হবে। ম্যাচ সেরার পুরষ্কারও পেলেন শাই।

মাশরাফি, মুশফিক, মাহমুদুল্লাহ, সাকিব ও তামিমের একসাথে জাতীয় শততম খেলার দিনে, মিরপুরে তৈরি ছিলো একেবারে নতুন উইকেট। নতুন এই উইকেটে উদ্বোধন হলো আজই ওয়েষ্ট উইন্ডিজের বিপক্ষে। টস ভাগ্যটা বরাবরের এবারও অধিনায়ক মাশরাফির অনুকুলে ছিলো না।ওয়েষ্ট উইন্ডিজের অধিনায়ক রোভম্যান পাওয়েল টস জিতে বাংলাদেশকে ব্যাটিংয়ে পাঠান। আজ অপরিবর্তিত একাদশ নিয়েই মাঠে নামেন মাশরাফি বিন মর্তুজার দল।অন্যদিকে ওয়েষ্ট উইন্ডিজ কাইরন পাওয়েলের পরিবর্তে চন্দরপল হেমরাজ মাঠে নামেন।

দলীয় ১২ রানের মাথায় ওপেনার লিটন দাশ আহত হয়ে  স্ট্রেচারে করে মাঠ থেকে হাসপাতালে।এক্সের পর পায়ে কোন চির না ধরায় ফিরে আসেন। লিটন দাশের মাঠে নামেন প্রথম ওয়ান ডে তে ৪ রান করা ইমরুল।ওশান থমাসের চতুর্থ ওভারের অফসাইডের বাইরে থাকা তৃতীয় বল ইমরুলের ব্যাট স্পর্শ করে লেগে উইকেটরক্ষক শাই হোপের তালুবন্দি হলে, শূন্য রানে সাজঘরে ফেরেন তিনি।এরপর তামিম আর মুশফিক দূর্দান্ত ১১১ রানের জুটি ভাঙ্গেন ৬০ বলে ৫০ রান করা তামিমকে দেবেন্দ্র বিশু সাজঘরে পাঠিয়ে।বাংলাদেশের হয়ে ওয়ান ডে তে সবচেয়ে বেশী শতকের জুটি গড়ার নজির স্থাপন করেন এই দুই ব্যাটসম্যান। ৫০ রানের বদৌলতে তামিম একমাত্র বাংলাদেশী ক্রিকেটার যিনি ক্রিকেটের সব ভার্সন মিলিয়ে পৌঁছে যান ১২ হাজার রানের ক্লাবে।যদিও তামিম মাত্র ২ রানের অভাবে পা রাখতে ব্যার্থ হন ওয়ানডে-এর ৪ হাজার রানের ক্লাবে।

মুশফিকের ৮০ বলে ৬২ রানের ইনিংস। ব্যাটের কোনায় লেগে উইকেটরক্ষক শাই হোপের হাতে তালুবন্ধি হয় বাড়ি ফেরেন তিনি। দলীয় স্কোর তখন ৩ উইকেটে ১৩৪ রান। সাকিব, মাহমুদুল্লাহ’র মন্তর গতির অর্ধশত জুটির পর দলীয় ১৯৩ রানে ব্যাক্তিগত ৩০ রানে রোশন পাওয়েলের বলে সাজঘরে মাহমুদুল্লাহ ফেরার পর মাঠে নামেন সৌম্য।মাত্র ৬ রান করেই সৌম্য বিদায় নেন দলীয় ২০৮/৫ রানে। ৫ রান করা ওপেনার লিটন দাশ হাসপাতাল ঘুরে সাকিবের সঙ্গী হয়ে আবারও মাঠে নামেন।কিন্তু তিনিও ৩ রান যোগ করে সাজঘরে ফেরেন।

দলীয় ২৪০/৬ রানে সাকিব ব্যাক্তিগত ৬২ বলে ৬৫ রানের ইনিংস থেমে যায় রোচের বলে বোল্ড হয়ে।এরপর ২৫৫/৭ রানেই শেষ হয় বাংলাদেশের ইনিংস।সাকিব, মুশফিক, তামিমের অর্ধশত আর মাহমুদুল্লাহ’র ৩০ রান ছাড়া কোন ব্যাটসম্যানই দুই অঙ্কের ঘরে রান তুলতে ব্যার্থ হন। বাংলাদেশ ৩০০ বা এর কাছাকাছি রান করবে ধারনা করা গেলেও, ওয়েষ্ট ইন্ডিজের ২৫ থেকে ৩৫ তম ওভারে নিয়ন্ত্রিত বোলিং দাপটে বাংলাদেশকে ২৫৫ রানেই ইনিংস শেষ করতে হয়।

বাংলাদেশের বোলিং শক্তির কাছে ২৫৬ রানের টার্গেটটা যথেষ্ট চ্যালেন্জিং ছিলো ওয়েষ্ট ইন্ডিজের জন্য। কিন্তু শেষতক শাই হোপ নিজের দলকে রক্ষা করলেন।

ছবিঃ ইএসপিএন