শাকিব খানের মসনদে অপূর্ব আর নিশো

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

মাহফুজুর রহমান

অপূর্ব ও নিশো সিনেমায় আসছেন। দুই তারকার ভক্তরা প্রবল উত্তেজিত। টিভিতে রাজত্বের পর এবার তারা শাকিব খানের মসনদে হানা দিতে যাচ্ছেন। চারদিকে যুদ্ধ যুদ্ধ রব।
এর আগেও টিভি থেকে অনেকেই সিনেমার শাসনকর্তা হতে কুরুক্ষেত্রে নেমেছেন। কারো হাতেই ক্ষমতার তরবারী ধরা দেয়নি। তবে নায়কদের প্রথম কাতারে এসেছেন দু’জন।
একজন আরিফিন শুভ, আরেকজন সিয়াম। ইমন ও নিরবের কথা বলছি না। তারা বছর দশক আগের খেলোয়ার। তাদের স্কোর কেমন, সকলেই জানেন। তারা এখনও ক্রিজে আছেন। লড়াইয়ের ময়দান ছাড়েননি।
উল্লেখিত চার তারকাই সিনেমায় নেমে টেলিভিশন ছেড়ে দিয়েছেন। নাটকে কাজ করে কাঁচা পয়সা উপার্জনের লোভ সংবরণ করতে পেরেছেন বলেই চিত্রনায়কের তালিকায় এদের নাম বলতে কারো মুখে আটকায় না।
বাকি যারা নানা সময় ছোটপর্দা থেকে বড়পর্দায় লম্ফ দিয়েছেন তারা প্রত্যেকেই সিনেমায় ব্যর্থতার স্বাদ গ্রহণের পর সিনেমাকে গুডবাই জানিয়েছেন। জাহিদ হাসান বলুন, মাহফুজ আহমেদ বলুন, এমনকি মোশাররফ করিম বলুন; কেউই সিনেমার জন্য ড্রয়িং রুমের তারকাখ্যাতিকে ছাড়তে রাজি হননি।
আর এটাই হচ্ছে ছোটপর্দার নায়কদের বড়পর্দায় ব্যর্থ হওয়ার অন্যতম কারণ। সজল বছর দশক আগে যখন সিনেমায় নাম লেখান, তখন তার ভরা যৌবন। বছরে শ’য়ের উপরে নাটক করেন। এখনও তিনি নাটকের ব্যস্ত অভিনেতা। তিনি নতুন একটি ছবি নিয়ে আসছেন। এ ছবির পরিণতিও তার আগের ছবির চেয়ে ব্যতিক্রম কিছু হবে কি?
সিনেমাকে টিভি তারকারা বোনাস হিসেবে দেখেন। ছবি চলে তো চললো, না চললো টিভিতে দুই শিফটে কাজ করে জীবিকা চালাও। টাকার জায়গায় সমঝোতা করতে পারেননি বলেই বহু টিভি অভিনেতাকে আজ ব্যর্থ নায়কের গাল শুনতে হয়।
শুভ, সিয়ামরা সিনিয়রদের মতো ভুল করেননি। ইমন, নিরবরা ছোটপর্দাকে মাইনাস করেই সিনেমায় নেমেছেন। এর সুফল তারা হাতে-নাতে পেয়েছেন। আনিসুর রহমান মিলন, শাহেদ শরীফ, তাহসান খানরা দুই নৌকায় পা দিয়ে পিছলে গেছেন সিনেমার নায়কদের ঈদুর দৌড় থেকে।
একই সঙ্গে সিনেমা আর নাটকে অভিনয় চলতে পারে না। বক্স অফিসের জন্য এমন অবস্থা অশনি সংকেত বিশেষ। যখন নায়কের কয়েক শ’ নাটক ছড়িয়ে রয়েছে ইউটিউবে, চাইলেই একটা ক্লিক করে তার অভিনয় দেখা যাচ্ছে, টিভিতে প্রতিদিন তার নাটক প্রচার হচ্ছে; তাকে দেখার জন্য দর্শকরা সিনেমা হলে নিশ্চয়ই যাবেন না?
ব্যতিক্রম এখানেও আছে। নাম তার চঞ্চল চৌধুরী। যখন তিনি টিভিতে লাগাতার কাজ করছেন, তখন ‘মনপুরা’ সিনেমায় ব্লক বাস্টার হয়। অমন ছবি আসে কয়েক বছরে একখানা। ব্যতিক্রমী ছবির ব্যতিক্রমী নায়কের আসনে বসে যান চঞ্চল।
‘মনপুরা’ থেকে চঞ্চলের ছবি মানেই হিট। ‘আয়নাবাজি’ সবদিক থেকেই হিট হওয়ার মতো ছবি। ‘দেবী’ দুর্বল ছবি হওয়া স্বত্তেও চঞ্চলের কারণে থিয়েটারে দর্শক টেনেছে। চঞ্চল কখনোই নাটক ছাড়েননি। কিন্তু তিনি ছবি করেছেন বেছে বেছে। তার শত শত টেলিফিল্মে চ্যানেলভর্তি থাকলেও দর্শকরা তাকে কখনো ফিরিয়ে দেননি।
সবাই চঞ্চল নন। অপূর্ব, নিশোরা এখন বেহিসেবী অভিনেতা। সংখ্যা গুণে তারা নাটক করছেন। এমন অভিনেতারা সিনেমায় যাওয়ার অর্থ কোনো বিপ্লব নয়, স্রেফ চমকবাজি।
সিনেমায় সাফল্য পেতে চাইলে অপূর্ব ও নিশোকে বোকা বাক্সে মুখ দেখানো বন্ধ করতে হবে। একটা লম্বা ব্যবধানের পর দর্শক যখন তাদের নতুন কাজ দেখার জন্য ব্যাকুল হয়ে উঠবে, তখন তাদের ছবি রিলিজ দিতে হবে। জনপ্রিয়তা, মেধা ও নায়কোচিত গুণাবলী তাদের দুজনেরই আছে। ছবি হিট না হয়ে যাবে কোথায়!
কিন্তু টেলিভিশনের নেশা যে শক্ত নেশা। এ জগতের আরাম, আয়েশ, অবস্থান ছেড়ে সিনেমার অনিশ্চিত সংগ্রামে কে আর ঝাঁপিয়ে পড়তে চায়! আর এমন উৎসর্গী অভিনেতা না-হলে সিনেমায় সাফল্য সোনার হরিণ।

ছবি: গুগল

প্রাণের বাংলায় প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। লেখা সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় প্রাণের বাংলা বহন করবে না। প্রাণের বাংলার কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না তবে সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করতে পারবেন । লেখা সংক্রান্ত কোনো অভিযোগ অথবা নতুন লেখা পাঠাতে যোগাযোগ করুন [email protected]