শীতকালের চিঠি…

জয়দীপ রায়

(কলকাতা থেকে): শীতকাল নিয়ে অনেক লিখে ফেলা যায়। শীতকালের অনেক ছবিও তোলা যায়। লোভী মানুষের কাল এই শীতকাল। ঘুমের লোভ। জেগে থাকার লোভ। খিদের লোভ। দিদিমা যখন ছাদের উনুনে চাটুতে পাটিসাপটার গোলা মাখায়, তার গন্ধের লোভ। দার্জিলিংয়ে যখন বরফ পড়ে, কাগজে ছবি দেখে পরদিন টিকিট কাটার লোভ পেড়ে ফেলে দেয় মানুষকে। এই তো দার্জিলিং। একরাতের ঘুম পেরোলেই দার্জিলিং। সমস্ত ঘুমের পরেই কোনও না কোনও পাহাড় থাকে। দার্জিলিং হোক বা দলমা, শীতকালের গন্ধমাখা চিঠি নিয়ে দিগ্বিদিক ছড়িয়ে পড়ে ডাকহরকরা। নেমন্তন্ন দেয় সব পথিককে।
নিমন্ত্রণ আসে শাল কেন্দুর জঙ্গল ছোটনাগপুর থেকে। চিঠি আসে অমিতের বাড়ির সামনের আলসের বিল থেকেও। সূর্যাস্তের পর যে গাঢ় শীতকাল নেমে আসে বনবাংলোর বারান্দায় বারান্দায়, সেখান থেকেও হাতছানি আসে। আউটহাউজে কেয়ারটেকারের ঘর থেকে অন্ধকারে ভেসে আসে খালি বোতল গড়িয়ে যাবার শব্দ। এসব শীতার্ত সান্ধ্যকালীন ইশারা পাশ কাটিয়ে কেউ কেউ শিয়ালদা থেকে লোকাল ট্রেন ধরে। বাড়ি ফিরবে বলে। কেউ বা বাড়ি ছেড়ে বেরিয়ে যায় কোথাও যাবার নেই বলে।
এইভাবেই শীতকালগুলো আস্তে আস্তে বুড়ো হয়ে যায়। সর্ষের ক্ষেতের হলুদ আলো কমে আসে। দিকে দিকে স্কুল খুলে যায়। পরীক্ষার দিন ঘনিয়ে আসলে শীত পালিয়ে যায় ছেলেমেয়ের। বাবা মায়ের। স্কুল মাষ্টারের। সেলাই দিদিমনির। সবাই সবার ফেসবুক প্রোফাইল ঘেঁটে দেখে, কে কোথায় কতটা শীত কাটালো। কে কোথায় ছুটি না পেয়ে মাঝরাস্তায় বাস থেকে নেমে গাঁদাফুলের চাষের পাড়ে দাঁড়িয়ে থেকে মনখারাপ করতে লাগলো। কার কার আপডেটেড ডিপির মধ্যে গোপনে কতটা কান্না লুকিয়ে থাকলো।

ছবি: লেখক ও শিলা