শীতে পাহাড়তলি আমাকে ডাকে

সালেহ্ বিপ্লব,সম্পাদক-এসবিসি-৭১

শীতের এই সময়টা পাহাড় ডাকে আমাকে। আমার পাহাড়তলির পাহাড়। বিশাল শালপাতা কুড়মুড় করে ভাঙতে কী যে মজা, রেলওয়ে এলাকায় না গেলে বুঝবেন না। এই শীতের রাতে শহীদলেইন ক্লাবের উত্তাপ ভিন্নরকম। কালীবাড়ি ও শিখ টেম্পল ঢোকার মুখেই ক্লাব। প্রথম ঘরটা অফিস ও ওয়ার্ক স্টেশন। এর লাগোয়া ঘরটি সিনিয়রস ক্লাব। পুকুরের ধারে, গাছপালায় ঘেরা। সেখানে সামাজিক কর্মকাণ্ডের একটা উত্তাপ, বন্ধুত্বের উত্তাপ এবং ভালোলাগার উত্তাপ তো বটেই। এই শীতে পাহাড়তলি আমাকে ডাকে। রিকশায় চড়ে পুলিশ বিট থেকে টাইগারপাস। পুলিশ বিট মোড়ে বেশ কটা শিউলী গাছ ছিল, এখন আছে কি না জানি না।

তবে রিকশায় ২০০ গজ এগুতেই সিসিএস/ইস্ট/বিআর অফিসের গেট পর্যন্ত হাতের বামে দুটি বাসায় শিউলী আছে এখনও। শিউলীর ঘ্রাণ মেলানোর আগে রেল শ্রমিক ইউনিয়ন অফিস। হাতের বামে রেল শ্রমিক লীগ অফিস। এরপর ডানে এম এস হক মিলনায়তন, বামে আমাদের স্কুল। বাংলাদেশ রেলওয়ে সরকারি উচ্চ বিদালয়। সামনে প্রীতিলতা মনুমেন্ট। পোস্ট অফিস। এই শীতের সন্ধায় আমার সেই পোস্ট অফিসের কথা মনে পড়ে। এই হাড় নাড়ানো শীতের রাত আমাকে রিকশার ছবি দেখায়। রেলওয়ে এলাকার ২ নাম্বার সড়ক ধরে এগিয়ে যাই। স্কুল পার হলে হাতের ডানে সুবিখ্যাত বার্মিজ হোটেল। আরও দোকানপাট। বামে ডিইএন-১ ডিই এন-২ অফিস। অফিসের সাথেই শহীদ শাহজাহান মাঠ (এক্স ইএনফিল্ড) ডানে ডিআরএম/চট্টগ্রাম অফিস। কন্ট্রোল রুম। সামনে যাই। বামে পাহাড়ের উপর দোতলা বাঘ বাংলো এখন রেলওয়ে যাদুঘর। এই পর্যন্ত গিয়েই শীত যেন বেড়ে যায়! ফেরত আসি। মাস্টারলেইনের ভেতর দিয়ে ভুতা ভাইর দোকান বামে রেখে আকবরশাহ দিয়ে এগুই। পাহাড়তলি গার্লস স্কুলের পাশ দিয়ে বামে রাস্তাই আমার রুট।

শীতের কাঁপনেই কিনা জানি না, এদিক ওদিক চেয়ে রাস্তার ওপারে গোরস্থান চোখে পড়ে। কলোনির ভেতর থেকেও দেখা যায় অনেকখানি। এই শীতে আমার ওই পথে হেঁটে বেড়াতে মন চায়। আর ওই পথ ধরে বন্ধুদের ডেরায় যেতে যেতে আমি ঘুরে ঘুরে পাহাড়ের কোলে সেই গোরস্থান দেখি। ওখানে সাগরের বাতাস আসে পাহাড়ের সঙ্গে গল্প করতে। ওখানে শুয়ে থাকলে আমি সারাক্ষণ তোমার স্পর্শ পাবো, তুমি যেখানেই থাকো না কেন। এই শীতে আমার ইচ্ছে করে তোমার স্পর্শমাখা সেই জনপদে যাই। ওই পাহাড়ি গোরস্থানে আমার কবরের এপিটাফে লেখা থাকবে এই আউলা ঝাউলা কথামালা। শীত শুধু নয়, বর্ষাকালেও আমি পাহাড়তলি থাকতে চাই, থাকতে চাই সবকালে। তুমি আছো কি নেই, ভাবারই অবকাশ মিলবে না! আমার বুকের তিন জোড়া পা জীবনের সেরা ছাপগুলো রেখে এসেছে ওখানেই!

ছবি:লেখক ও গুগল