শীতে ভবঘুরে

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

রাত থেকেই বৃষ্টি-কথার শুরু। ভোর থেকে ঝমঝম।চোখ মেলতেই দেখা মিললো মেঘাচ্ছন্ন আকাশের। গত দু’দিনে শীতকে অনেকে বিদায় জানাচ্ছিলেন মনে মনে। প্রায় দরজা পর্যন্ত চলেও গিয়েছিলো শীত। কিন্তু না, তার প্রত্যাবর্তন ঘটলো আবার বৃষ্টির হাত ধরে।

আবহাওয়া অধিদফতর জানিয়েছিলো, যশোর ও কুষ্টিয়া অঞ্চলসহ রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের দু-এক জায়গায় হালকা/গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টির হতে পারে বৃহস্পতিবার (২ জানুয়ারি)। কিন্তু গত রাত থেকে রাজধানীতে ভালোই বৃষ্টি নেমেছে। ভোরবেলা সে বৃষ্টি ঝরতে শুরু করলো যেন আকাশের জানালা খুলে।

আবহাওয়া অফিস আগেই জানিয়েছিলো ২ এবং ৩ জানুয়ারী হালকা বৃষ্টিপাত হতে পারে। তখন আবারও তাপমাত্রা কমে যেতে পারে। ডাকাতের মতো শৈত্যপ্রবাহ আবার এসে হানা দিতে পারে আচমকা।

এখন ঘরে আলো জ্বলছে। বাইরে ফুরিয়েছে দিনের স্বাভাবিক আলো।শহরের পথঘাট যেন ভবঘুরের মতো কোথাও চলে গেছে চারদিক জনহীন করে দিয়ে।বৃষ্টির শব্দ উপেক্ষা করে এই নাগরিক সকালে দূরে কোথাও ঘুঘু ডাকছে। এই নিঃসঙ্গ পাখিটা প্রায়ই ডাকে আমাদের পাড়ায়। খুঁজে দেখার চেষ্টা করেছি তাকে কোনো বৃক্ষের শাখায়। পাইনি। এই শহরে বিষাদ জাগানিয়া পাখিটির দেখা মেলা কঠিন। ঘুঘুর ডাক আমাকে এই শীতে মোড়া সকালে ফিরিয়ে নিয়ে যায় মাফলার আর বাঁদর টুপি পড়া কোনো এক গ্রামের বাজারে। নদীর ধারে বাজার। শূন্য জেটি বসে আছে লঞ্চ বাঁধবে বলে। কয়েকজন মানুষও শীতে ভবঘুরে হয়ে বসে নদীর কিনারায়। কাঁপছে তাদের আঙুলে ধরা ছোট একঘেয়ে সাদা রঙের চায়ের কাপ, মুখ থেকে উড়ে যাচ্ছে বিড়ির ধোঁয়া উড়ে যাচ্ছে শীতের অজানা উৎসকে চ্যালেঞ্জ জানাতে।

সেসব ঠক ঠকে  একা একা শীত কালের কথা। তখন মোবাইল ফোনে শীতের পরিমাপ জানানো হতো না, কখনো কখনো ব্যারোমিটার ঝুলতে দেখা যেত ওষুধের দোকানে। তবু তখন বৃষ্টি আসতো মাঠ পার হয়ে, তার পকেটে হয়তো থাকতো বৃষ্টি। গ্রামের বাজার থেকে ফিরে আসবার সময় আমি কেঁপে কেঁপে উঠতাম; যেন আজীবনের বিষাদ আমার ভেতরে, শিকড়বাকড়ে লেগে আছে, ক্রমাগত একা করে দিচ্ছে, শীত লাগছে আমার।

মেঘলা দিন বয়ে চলেছে। শহুরে জানালার কাচে বৃষ্টির ফোঁটার ক্ষতচিহ্ন। হয়তো পাতাদের শরীরেও। শীত হয়তো এবার কিছুটা জাঁকিয়ে বসবে। আকাশে আকাশে পূবালী হাওয়া আর নিম্নচাপের লড়াই হচ্ছে শুনতে পেলাম। আর তাতেই মারমুখো শীত আবার। তবে এমন তীব্র শীত কারও জন্য অন্যভাবেও আসে। অর্থকষ্ট থাকে সে শীতের তালিকায়, থাকে বাকির খাতার পৃষ্ঠা, থাকে অসুখ।

এসব দুঃখের কথা অতিক্রম করে শীতের বৃষ্টিমুখর সকালে কিন্তু লেপের কথাও থাকে। থাকে গরম চায়ের আলাপ। শিমুল তুলার গোপন নদীতে সাঁতার কাটতে কাটতে কেউ হয়তো ভাবছেন, কেন যে মানুষের ঘুম ভাঙে, কেন শয্যা ত্যাগ করতে হয় এমন সব ভোরবেলা! কবি ভাস্কর চক্রবর্তী তাঁর কবিতায় সুপর্ণার কাছে জানতে চেয়েছিলেন শীতকাল কবে আসবে। সুপর্ণারা কি সত্যি সত্যি শীতের খবর জানে?

ইরাজ আহমেদ

ছবিঃ প্রাণের বাংলা

প্রাণের বাংলায় প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। লেখা সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় প্রাণের বাংলা বহন করবে না। প্রাণের বাংলার কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না তবে সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করতে পারবেন । লেখা সংক্রান্ত কোনো অভিযোগ অথবা নতুন লেখা পাঠাতে যোগাযোগ করুন [email protected]