শীতে শুষ্ক ত্বক ভালো রাখার টিপস্

kantha ahmed

কান্তা আহমেদ

দেখতে দেখতে চলে এলো শীত। যাদের শুষ্ক ত্বক তাদের জন্য শীত যেন এক দুঃস্বপ্ন। তৈলাক্ত ত্বকের অধিকারীরা অতিরিক্ত তেল থেকে হাঁপ ছেড়ে বাঁচলেও মুখ ধোয়ার পর পরই ত্বকে দেখা যায় শুষ্ক টান টান ভাব। অতিরিক্ত শুষ্কতা ত্বকে খুব দ্রুত বলিরেখা তৈরি করে ও শুষ্ক মৃত কোষ ত্বক কে কালো দেখায়। তাই সব ধরনের ত্বকেই শীতে প্রয়োজন একটু বাড়তি যত্ন। আসুন জেনে নিই কীভাবে নেবেন শীতে ত্বকের যত্ন।

শীতে ত্বক পরিষ্কার করতে বেছে নিন মাইল্ড ও কম ক্ষারযুক্ত ফেসওয়াশ, যা ত্বক কে অতিরিক্ত শুষ্ক করবে না ও আর্দ্রতা ধরে রাখতে সাহায্য করবে। মুখে সাবান ব্যবহার করবেন না একদমই। সারা শরীর পরিষ্কার করতেও সাবানের বদলে বেছে নিন শাওয়ার জেল। দিনে ২-৩ বারের বেশি মুখ ধোবেন না। এতে ত্বক প্রাকৃতিক আর্দ্রতা হারিয়ে ফেলে। শীতের শুষ্ক আবহাওয়া ত্বক থেকে আর্দ্রতা শুষে নেয়। ফলে ত্বক হয়ে পরে শুষ্ক ও খসখসে। ত্বকে জমে মৃতকোষ। বাড়ে ব্ল্যাক হেডস ও হোয়াইট হেডস। এসব থেকে বাঁচতে স্ক্রাবিং খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সপ্তাহে ২-৩ দিন স্ক্রাবিং করুন। বাজারে প্রচলিত স্ক্রাব ব্যবহার করতে না চাইলে বাসায় তৈরি করে ফেলতে পারেন স্ক্রাব। ২ চা চামচ চালের গুঁড়োর সাথে ২ চা চামচ টক দই ও মধু মিশিয়ে স্ক্রাব তৈরি করুন। টোনিং জন্য বেছে নিন অ্যালকোহল ফ্রি টোনার। টোনার ত্বকের PH ব্যালেন্স ঠিক রাখে ও ময়েশ্চারাইজার বা ফাউন্ডেশনকে লোমকূপের মুখ বন্ধ করতে বাঁধা দেয়। শীতে ত্বক সুরক্ষার প্রধান উপায় হলো ত্বকের পর্যাপ্ত ময়েশ্চাইরেশন। শীতের শুষ্কতা ত্বক থেকে আর্দ্রতা শুষে নেয়। ফলে ত্বক হয়ে পরে শুষ্ক ও রুক্ষ। ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখতে গোসল /মুখ ধোয়ার পর ভেজা ভাব থাকতেই ত্বকে লাগান ক্রিম /লোশন। ওয়াটার বেসড ক্রিম /লোশনের বদলে বেছে নিন অয়েল বেসড ক্রিম/লোশন।winter_skin
রাতে ত্বকের বাড়তি সুরক্ষায় করুন ডিপ কন্ডিশনিং। আপনার পছন্দের যেকোনো তেল যেমন আমন্ড অয়েল, অলিভ অয়েলের সাথে মেশান ভিটামিন ই অয়েল (ভিটামিন ই ক্যাপসূল আকারে ওষুধের দোকানে পাওয়া যায়)। একসাথে মিলিয়ে মুখে ম্যাসাজ করুন। আমন্ড অয়েল /অলিভ অয়েল ও ভিটামিন ই ত্বক নরম রাখতে ও ত্বকের আর্দ্রতা বজায় রাখতে সাহায্য করে। গরমের দিনে যেসব অয়েল কন্ট্রলিং ফেসপ্যাক ব্যবহার করেছেন, শীতে সেগুলো ব্যবহার করা যাবেনা একদমই। তাহলে ত্বক অতিরিক্ত শুষ্ক হয়ে ফেটে যাবে। ত্বকে ব্যবহার করুন এমন ফেসপ্যাক যা ত্বকের আর্দ্রতা বজায় রাখতে ও ত্বক নরম ও কোমল রাখতে সাহায্য করবে। শীতে সব ধরনের ত্বকের উপযোগী কিছু ফেসপ্যাকঃ
পাকা কলার পেষ্ট+মধু+আমন্ড অয়েল
পাকা পেঁপে+মধু+টক দই
কোকো পাউডার+টক দই+মধু
শরীরের অন্য যেকোনো অংশের চেয়ে ঠোঁটের ত্বক অত্যন্ত পাতলা ও সংবেদনশীল। শীতে ঠোঁট খুব সহজেই আর্দ্রতা হারিয়ে শুকনো খরখরে হয়ে যায়, ফেটেও যায়। ঠোঁটের আর্দ্রতা বজায় রাখতে ঠোঁটে লাগান চ্যাপস্টিক /লিপবাম। চ্যাপস্টিক বা লিপবাম সাথে রাখুন সবসময়। ভুলেও জিভ দিয়ে ঠোঁট ভেজাবেন না। এতে ঠোঁট আরও শুষ্ক হয়ে ফেটে যাবে। সপ্তাহে ২ দিন ঠোঁটে লাগান বাড়িতে তৈরি লিপস্ক্রাব। এজন্য ১ চা চামচ চিনি, ১/২ চা চামচ লেবুর রস ও ১/২ চা চামচ মধু মিশিয়ে ঠোঁট আলতো ভাবে ঘষুন। মরা চামড়া উঠে গিয়ে ঠোঁট পরিষ্কার হয়ে যাবে।