শুভ জন্মদিন অভিমানী রাজকন্যা

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

লুৎফুল কবির রনি

প্রিন্সেস ডায়ানা কে একবার জিজ্ঞেস করা হয়েছিলো, তুমি কি নিজেকে কখনো এই দেশের রানী হিসেবে দেখতে চাও ?

তখন জবাবে তিনি একটি কথা ই বার বার বলেছেন যে,‘আমি এ দেশের রানী না , আমি মানুষের হৃদয়ের রানী হতে চাই।আমি তাই করি যা মানুষের জন্য মঙ্গল জনক,হতে পারে সেটা দেশের আইনের পরিপন্থী ।আর আমি কাজ করি মাথা দিয়ে নয় হৃদয় দিয়ে।’

নান্দনিক সৌন্দর্য্য, অসাধারণ চাহনি আর এক চিলতে লাজুক হাসি দিয়ে পৃথিবীর সব প্রান্তের মানুষের নজর কেড়েছিলেন প্রিন্সেস ডায়ানা। লেডি ডায়ানা স্পেনসারে থেকে হয়েছিলেন রাজবধু প্রিন্সেস ডায়ানা।

প্রিন্সেস ডায়ানা, স্বাধীনচেতা এক নারী রাজপরিবারে এসে হারালেন তার স্বাতন্ত্র।স্বামীর অবহেলা যাকে কুঁড়ে খেয়েছিলো, নি:ঙ্গতাকে ভুলতে পারেন নি!

প্রিন্স চার্লস ও ডায়ানার বিয়ের এই শুভক্ষণকে বর্ণনা করা হয় Fairytale wedding নামে। বিশ্বের প্রায় ৭৫০ মিলিয়ন দর্শক এটি টেলিভিশনে উপভোগ করেন এবং ৬০০,০০০ দর্শক রাস্তায় নেমে আসেন প্রিন্স এবং প্রিন্সেসকে এক নজর দেখার জন্য।

স্বামীর গোপন প্রেমের খবর ডায়ানা টের পেয়ে যান । চার্লসকে প্রশ্ন করেন, জবাব পাননি। বরং রাজ পরিবারের হাজারো নিয়ম আর প্রটোকলে তাঁর জীবন খুব একাকী আর অতিষ্ট হয়ে ওঠে। তিনিও পাখির মত মুক্ত আকাশে বিচরণের সুযোগ খুঁজতে থাকেন।

বিচ্ছেদের প্যানারোমায় দেওয়া সাক্ষাৎকারে রীতিমত বোমা ফাঁটান ডায়ানা। ১৯৯৫ সালে মার্টিন বশিরের সঙ্গে সেই আলাপচারিতায় ডায়ানা তাঁর সাবেক স্বামীর বিশ্বাসঘাতকতা, ক্যামিলার সঙ্গে গোপন অভিসার, নিজের প্রেমের সম্পর্ক নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করেন। তিনি এটাও জানালেন প্রাসাদে, রাজ পরিবারে তাঁর দম বন্ধ হয়ে আসতো।

ক্যামিলা-চার্লসের সম্পর্ক নিয়ে তিনি যে মন্তব্য করেন, তাতে রীতিমত গোটা বিশ্ব এক মুহূর্তে কেঁপে ওঠে। তিনি বলেন, ‘আমাদের আসলে বিয়েটা ছিলো তিনজনের, একটু বেশিই ভিড়ের, তাই না!’

বাথরুমে দরজা বন্ধ করে তার ভিতরে কাঁদতেন প্রিন্সেস ডায়ানা। তা সহ্য করতে পারতেন না বড়ছেলে প্রিন্স উইলিয়াম। তিনি বাথরুমের দরজার নিচ দিয়ে টিস্যু পেপার এগিয়ে দিতেন মাকে, যাতে তিনি মুখচোখ মুছতে পারেন। প্রিন্সেস ডায়ানার জীবনীকার অ্যানড্রু মর্টন এসব কথা স্বীকার করেছেন। তিনি প্রথমে প্রিন্সেস ডায়ানার ওপর একটি বই লেখেন। এর নাম দেয়া হয় ‘প্রিন্সেস ডায়ানা’। বইটি বেস্ট সেলার হয়। এরপর তাকে আরেকটু নবায়ন করে এবার লিখেছেন ‘ডায়ানা: হার ট্রু স্টোরি’।

দক্ষিণ পশ্চিম আফ্রিকার যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ অ্যাঙ্গোলায় গিয়ে সক্রিয় মাইনক্ষেত্রের মধ্যে দিয়ে হেঁটে অবিস্ফোরিত ভূমি-মাইনের বিপদ সম্পর্কে বিশ্ববাসীকে সচেতন করেছিলেন।

১৯৮৭ সালের কথা। সে সময় চারদিকে এইডস ছড়িয়ে পড়ছে। মানুষের ভুল ধারণা যে, এইডস রোগীর কাছে গেলেই মনে হয় এইডস হযে যাবে। ফলে, এইডস আইডেন্টিফাই হওয়া মানেই নির্বাসিত হওয়া।

সে সময় প্রিন্সেস ডায়ানা একজন এইডস রোগীর বিছানায় গিয়ে বসেন এবং তার সঙ্গে হাত মেলান।

২০০১ সালে এই নিয়ে ক্লিনটনের বলেছিলেন -“In 1987, when so many still believed that AIDS could be contracted through casual contact, Princess Diana sat on the sickbed of a man with AIDS and held his hand. She showed the world that people with AIDS deserve no isolation, but compassion and kindness”

যে ডায়ানা বিশ্বাস করতেন পারিবারিক বন্ধনে তার কখনও সংসার করা হয়ে উঠেনি । অভিমানী রাজকন্যা পৃথিবীর সব রূপ নিয়ে জন্মেছিলেন , কিন্তু সুখ শব্দটা কখনও তার হয়ে উঠে নি স্বামীর অবিশ্বস্ততায় ।

ভালবাসি তোমায় অভিমানী রাজকন্যা

প্রিন্সেস ডায়ানা ও মাদার তেরেসা—একজন ঝলমলে রাজবধূ, আরেকজন সাদামাটা সাধারণের প্রতিনিধি। দু’জনের বন্ধুত্বটা অনেকের কাছে অদ্ভুত ঠেকেছিলো। অথচ দুজন কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে মানবতার জন্য কাজ করেছেন। বন্ধুত্ব গড়ে ওঠার কারণটা অবশ্য মাদার তেরেসা নিজেই বলেছেন, ‘গরিবদের নিয়ে তিনি ভাবতেন। দুস্থের জন্য এই দুর্ভাবনা, তাদের জন্য কিছু করার চেষ্টা—এটা খুব সুন্দর। তাই তিনি হয়ে উঠেছিলেন আমার কাছের মানুষ।’

দু:খিনী রাজকন্যার আজ এই ধরণীতে আসার দিন। বার বার আমার সিনড্রারেলার কথা মনে পড়ে তাঁর কথা মনে হলেই।

‘শুভ জন্মদিন অভিমানী রাজকন্যা’

পৃথিবীতে এমন কেউ সম্ভবত নেই যে ভালবাসে বাসেনি রূপকথার অভিমানী এই রাজকন্যাকে ।

ছবি: গুগল

প্রাণের বাংলায় প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। লেখা সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় প্রাণের বাংলা বহন করবে না। প্রাণের বাংলার কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না তবে সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করতে পারবেন । লেখা সংক্রান্ত কোনো অভিযোগ অথবা নতুন লেখা পাঠাতে যোগাযোগ করুন [email protected]