শুভ জন্মদিন কিংবদন্তী অভিনেতা

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

লুৎফুল কবির রনি

একবার গণমাধ্যমে তাঁকে করা এক প্রশ্নের জবাবে তিনি আমাদের বিভাজিত প্রবঞ্চক সমাজকে স্বল্প বাক্যে ব্যাখ্যায়িত করেছিলেন এভাবে,‘যখন মঞ্চ নাটক করতাম, রিকশায় চড়তাম। যখন টিভি নাটক শুরু করলাম, ট্যাক্সিতে চড়তাম, আর এখন বাঙলা সিনেমায় গালি গালাজ করি, তাই নিজের একটা গাড়ি আছে এখন…আমার যদি অনেক টাকা থাকতো, আমি মঞ্চ ছাড়া অন্য কোথাও অভিনয়ই করতাম না…।’

‘উত্থান পতন’ সিনেমায় তাঁর একটা ডায়লোগ ছিলো – ‘আমারে যারা আইজ চিনো নাই কাইল চিনবা, কাইল না চিনলে পরশু চিনবা চিনতেই হইব নাম আমার রমজান আলী।’

হ্যা, সত্যিই তাই! হূমায়ুন ফরিদী।অভিনয়ের দার্শনিক। অভিনয় দিয়ে কি না করেছেন এই ভদ্রলোক, তার অভিনয়ে মানুষ হেসেছে, কেঁদেছে, বিস্মিত হয়েছে, হতভম্ব হয়ে তাকিয়ে দেখেছে একজন হুমায়ূনের অভিনয় ক্ষমতা কতটা প্রবল, কতটা বিস্ময়কর!!

সেই উত্তাল ১৯৫২ সালের ২৯ মে, তাঁর জন্ম, ঢাকার নারিন্দায়। টেলিভিশনের পর্দায় খল চরিত্র করে দিনের পর দিন হল মাতিয়ে রাখা এই মানুষটি আক্ষরিক অর্থেই বাস্তবের নায়ক। দেশের জন্য মুক্তিযুদ্ধ করেছেন। কখনো সেসব নিয়ে উচ্চবাচ্য করেননি। সনদেরও প্রয়োজন বোধ করেননি কখনো।মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে কোন উচ্চবাচ্য ছিলোনা জীবনভর। তাঁর কাছে এ যেন ছিলো দায়িত্ব পালন শেষে নিজের ঘরে ফেরার মতো বিষয়।

শীতের সময়। হুমায়ুন ফরীদি অনেক রাতে নিজের গাড়িতে করে বাড়ি ফিরছেন। বিজয় সরণি মোড় পার হবেন, তখনই একটি দৃশ্য দেখে গাড়ি থামালেন। দেখলেন, একজন বৃদ্ধ মানুষ শীতে ঠকঠক করে কাঁপছে, তার পড়নে লুঙ্গি ছাড়া আর কিছুই নাই। হুমায়ুন ফরীদি নিজের কোট আর শার্ট খুলে ঐ বৃদ্ধকে পড়িয়ে দিয়ে আসলেন, বৃদ্ধ অবাক হয়ে তাকিয়ে থাকল। ফরীদি বাসায় ফিরলেন খালি গায়ে।

এটা তো শুধু একটা উদাহরণ, সাভারে দুইটি এতিমখানা আছে যার যাবতীয় খরচ ফরীদি বহন করতেন, কেউ জানতো না যে ফরীদি দুইটি এতিমখানা চালাচ্ছেন। নিজের দানের কথা জানাতে বিরক্ত বোধ করতেন তিনি।

আল বিরুনি হল, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়। এই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম দিকে স্থাপিত হওয়া একটি হল। সবকিছুই ঠিকমতই চলছিলো, কিন্তু প্রকৃতি ঠিকমতো হতে দিল না সম্ভবত। হলের উপরে যেই অংশে হলের নাম লেখা থাকে, সেই অংশ থেকে হলের নামটি রোদ-বৃষ্টির কারণে মুছে গেল, ‘আল বিরুনি’ উধাও হয়ে গেলো, রয়ে গেলো শুধু ‘হল’! ছাত্ররা অনেক অভিযোগ করলো, হলের নামটা নতুন করে লেখেন বা ঠিক করেন- যাদের কাছে অভিযোগ করা হলো, তারা তেমন কানে নিলেন না। ‘আরে! সবাই তো জানেই যে এটা আল বিরুনি হল! এত ঠিক করার কি আছে? করবো নে পরে!’-এমন একটা ভাব।

সোজা আঙ্গুলে ঘি না উঠলে আঙ্গুল যে বাঁকা করতে হয়- এই বুদ্ধি আসলো এই হলের একজন ছাত্রের মাথায়। গভীর রাতে গিয়ে তিনি একটি অদ্ভুত কাজ করলেন। পরের দিন সকালে সবাই দেখল, হলের নাম পরিবর্তিত হয়ে হয়েছে ‘হুমায়ুন ফরীদি হল’। উপরের মহল তো রেগেই আগুন! কে করেছে এই কাজ? ফরীদিকে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি নির্লিপ্ত গলায় বললেন- আপনারা তো ঠিক করলেন না, তাই আমিই ঠিক করে দিলাম!

ফলাফল- এরপরেই হলের নাম ঠিক করে আবার ‘আল বিরুনি হল’ রাখা হলো!

নাটক আর থিয়েটার নিয়ে যেই মানুষ বেশিরভাগ সময় ব্যস্ত থাকবেন, তার পড়ালেখার নমুনা যে খুব একটা ভাল হবে সেটা আশা করা একটু বেশিই হয়ে যায়, ফরীদির ক্ষেত্রেও তাই হয়েছিলো। তার সহপাঠীরা যেখানে পাশ করে বেরিয়ে যাচ্ছে, তিনি তখন থার্ড ইয়ার বা ফোর্থ ইয়ারে। তার এক সহপাঠী অর্থনীতি বিভাগের নূরুল ইসলাম পাশ করে বেরিয়ে গিয়ে সেই বিভাগেই শিক্ষক হিসেবে জয়েন করলেন। একদিন নূরুল স্যার ক্লাস নিতে আসলেন, বোর্ডে বেশ কিছু লিখে ছাত্রদের বোঝার সময় দেয়ার জন্য থামলেন। হঠাৎ কে জানি একজন বলে উঠলো- এই নুরুল! তিন নাম্বার লাইনের একদম বাম দিকে ওইটা কি লিখছিস, একটু বুঝিয়ে বল তো! পুরা ক্লাস চুপ, স্যার অবাক! স্যার ভাবছেন- আমাকে ‘নুরুল’ বলে ডাকার ‘দুঃসাহস’ কার এই ক্লাসে?

ক্লাসের একজন বাদে বাকি সব ছাত্ররাও একই কথা ভাবছে! হঠাৎ সেই দুঃসাহসী ব্যক্তিকে দেখা গেল, ‘এই যে নুরুল, আমি এইদিকে, আরে এই দিকে! কীরে? চিনতে পারছিস না আমাকে? আরে আমি ফরীদি! তোর সাথে না পড়তাম? ভুলে গেলি পাশ করেই? হা করে তাকিয়ে না থেকে তিন নাম্বার লাইনের একদম বামে কি লিখেছিস আমাকে দয়া করা বুঝিয়ে দে! পাশ তো করতে হবে নাকি?’এমনই পাগলাটে হুমায়ুন ফরিদী।

‘কোথাও কেউ নেই’ নাটকে উকিল, বাকের ভাইয়ের ভাষায় নাম্বার ওয়ান ‘ধুনকর’, মানে যিনি তুলোধুনো করেন প্রতিপক্ষের উকিলকে; সেই উকিল ইয়াকুব আলী সরকার।

বাকের ভাই এর মামলাটা তিনি হেরে গেলেন বদি’র মিথ্যা সাক্ষীর কারণে। কোর্ট থেকে বদির বেরিয়ে যাবার সময় রাগে গজগজ করে তিনি যখন বদিকে বলেন, ‘বদি, ইচ্ছে করলে এই মামলা আমি ধূলোয় উড়িয়ে দিতে পারতাম, শুধু তোমার কারণে পারি নি… You… You..!’

‘নীতু তোমাকে ভালোবাসি’ নাটকে কাজীর চরিত্র। শমি কায়সার কাজী অফিসে অপেক্ষা করছেন জাহিদ হাসানের জন্য। সেই কাজি অফিসের কাজি তিনি। কিছুক্ষণ পরপর এসে ইচ্ছে করেই শমিকে বিরক্ত করছেন। একবার জিজ্ঞেস করেন, ‘চা খাবেন..?’ আরেকবার জিজ্ঞেস করেন, ‘পত্রিকা এনে দিই..?’
জাহিদ হাসানের আসতে দেরী হওয়াতে শেষমেশ এসে বলেন, ‘ম্যাডাম আপনি চলে যান.. ছেলে আসবে না।’ শমি খুব অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করেন, ‘কেন?’

তখন তিনি বললেন, সেই বিখ্যাত ডায়লগ, ‘এরকম অসংখ্য ঘটনা দেখেছি। ছেলে এসেছে তো মেয়ে আসে নাই, মেয়ে এসেছে তো ছেলে আসে নাই। এমনও হয়েছে যে সাক্ষী দুজন উপস্থিত.. কিন্তু ছেলে-মেয়ে কেউই আসে নাই.. হা! হা! হা!’

‘হুমায়ুন ফরীদির মতো শিল্পী যেকোনো দেশে জন্মাতে যুগ যুগ সময় লাগে, শতাধিক বছর লাগে। ও একজন ভার্সেটাইল শিল্পী। তাকে জিনিয়াসই বলা যায়।’ হুমায়ুন ফরীদিকে নিয়ে কথাগুলো বলেছিলেন প্রয়াত নাট্যজন আতিকুল হক চৌধুরী।

জাত অভিনেতা ছিলেন হুমায়ুন ফরিদী, রক্তে মিশে ছিলো অভিনয়, নাট্য জগতের সবাই বুঝে ফেলেছিলো ধূমকেতুর জন্ম হয়েছে, একদিন শাসন করবে এই যুবক। সেদিনের হিসেব এক চিলতেও ভুল হয়নি, এরপর টানা তিন দশক তার ক্যারিশম্যাটিক, তার ম্যাজিকাল অভিনয়ে বুঁদ করে রেখেছিলেন পুরো বাঙালি অভিনয় প্রিয় জাতিকে।

২০১২ সালের পর থেকে এ দেশের মিডিয়া জগতে একটি স্থায়ী আফসোস তৈরি হয়েছে। এই আফসোসের দীর্ঘশ্বাস শোনা যায় প্রায়ই। পরিচালক- হোক সেটা সিনেমা, নাটক, টেলিফিল্ম অথবা মঞ্চের- সবারই এক আফসোস- এমন শক্তিমান অভিনেতা ছাড়া মনের মতো চরিত্র ফুটিয়ে তোলা মুশকিল। সেই মনের মতো চরিত্রটি ফুটিয়ে তোলার মানুষটি আর নেই! সবার দীর্ঘশ্বাস-‘এ দেশে এ ক্যারেক্টার কেবল ফরিদী ভাই-ই পারতেন।’

ফরিদী নেই, তাই চরিত্রটাও চিত্রায়নের সুযোগ নেই। দীর্ঘশ্বাস বাড়ে। দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হয়। মিডিয়াপাড়া থেকে টেলিভিশন স্ক্রিন, সিনেমার পর্দা, মঞ্চের আলো-আঁধারি- সব জায়গায় তীব্র হয়ে বাজে তাঁর অনুপস্থিতি। শ্রদ্ধাঞ্জলি বা আবেগ নয়, এটা স্পষ্ট অভাব। অপূরণীয় অভাব। এই অভাব পূরণ হওয়ার সম্ভাবনা ক্ষীণই বলতে হয়। ফাল্গুনের প্রথম দিনে চলে যান তিনি। ওল্ড টাউনের জাদুবাস্তবতার গলি, জাহাঙ্গীরনগরের মুক্তমঞ্চের ওয়াইড অ্যাঙ্গেল এরিনা, থিয়েটারের দিনরাত এককরা মহড়া-প্র্যাকটিস-সংলাপ, এফডিসির রংমহল- সবই কেমন ফাঁকা ফাঁকা- শূন্য। ফরিদীর অনুপস্থিতি তীব্র হয়ে দেখা দেয়। প্রথম ফাগুনের আগুন রঙা দিনে চড়া এক বিষাদের সুর।

জীবনকে যাপন করেছেন আপনি, আপনাকে যাপন করার সুযোগ দেননি৷ প্রবলভাবে বেঁচে ছিলেন আমৃত্যু৷ আপনার বেঁচে থাকা ছিলো গোপনে, গহিনে আশাবাদী মানুষের মতো৷

১৯৭৮ সালে মাসিক গণসাহিত্য পত্রিকায় তাঁর রচিত ‘ছায়া’ শিরোনামের কবিতাটি আমাদের জানান দিয়ে যায়, তিনি ছিলেন আপাদমস্তক একজন সৃষ্টিশীল মানুষ।

‘এই মাটি, মৃত্তিকার গান হঠাৎ হারিয়ে যায়
নিরাকার সন্ধ্যা বৃক্ষের ফোঁকরে বাঁধে বাসা
কুলবতী কালোবউ নদীজলে ধুয়ে ফেরে বাসন-কোসন
হাওয়া কাঁপে হাওয়া, ঘাসের সান্নিধ্যে ঘুমোয়
বিন্দুজলে স্বচ্ছন্দ সংসার সুখ নীচে যত টুনীর পায়ের
একা একা কিশোরীর স্নেহ-ডোবা চোখে ভর করে
দুপুরের নির্জন ভীতি নিসহায় উনুনে পড়ে জল

আমার ঘরের পাশে লম্বিত সুপুরীর গাছ
তবুও অপেক্ষা ক’রে মেঘে মেঘে ভিজে যায় বেলা
এই নদী ভেজে কাক ঘাটে বাঁধা নৌকোর
সুশীল পাটাতন; উচ্ছিষ্ট কচুরীর ফুল।’

জীবনভর শুধু অভিনয়ই করে গেছেন। নিজেই বলতেন ‘অভিনয় ছাড়া আর কিছুই পারি না আমি’। ভীষণ কৌতুকপ্রিয় মানুষ ছিলেন। নাটকের সেটে নাকি সদা সবাইকে কৌতুকে মাতিয়ে রাখতেন। এত কৌতুক মনে রাখেন কীভাবে, প্রশ্নের উত্তরে একবার বলেছিলেন, ‘জীবনটাই তো কৌতুক, আমরা কেউ থাকব না, থাকবে শুধু কৌতুক। নিজের জীবনের সঙ্গে কৌতুক করতে করতে অস্তাচলে যাওয়া হুমায়ূন ফরিদীর অভাব কখনোই পূরণ হবার না।

একান্ত ব্যক্তিজীবনে অসম্ভব অভিমানী এই শিল্পী জীবনকে পিষে-ঘষে-পুড়িয়ে জীবন ধরার চেষ্টা করে গেছেন। এখনো চোখ মুদলে তাঁর অট্টহাসিতে কাঁচ ভাঙার শব্দ শুনি। বিস্ময় জাগানিয়া অভিনেতা হুমায়ুন ফরিদী এখনো আমাদের ঘোরের মধ্যে নিয়ে যান।

ফরিদী আছেন পৃথিবীর সব নাট্যমঞ্চের ড্রেসিং রুমে, পাটাতনে আছেন রূপোলি পর্দার আড়ালে, থাকবেন অনন্তকাল।

হুমায়ুন আহমেদ তাঁর ‘রজনী’ উপন্যাসটি উৎসর্গ করেছিলেন হুমায়ুন ফরিদীকে। এ সংক্রান্ত একটা মজার ঘটনা আছে। নিউ বেইলি রোডে হাঁটাহাঁটির সময় একদিন হুমায়ুন আহমেদ খেয়াল করলেন রাস্তার পাশে টং দোকানে বসে এক যুবক চা খাচ্ছে। যুবকটির আশেপাশে প্রচুর ভীড়।
কৌতুহূলী হয়ে তিনি এগিয়ে গিয়ে দেখতে পান যুবকটি আর কেউই নয়, স্বয়ং হুমায়ুন ফরিদী! ভক্তদের সঙ্গে বসে টং দোকানে চা খেতে যাঁর কোনো আপত্তিই ছিলোনা।সম্পূর্ণ সাধারণ নিরহংকার একজন মানুষ।

রজনী উপন্যাসের ‘উৎসর্গ’ অংশে লেখা আছে এ ঘটনাটি।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে থাকা অবস্থায় হুমায়ুন ফরিদী প্রায়ই বাকিতে খাবার খেতেন। এভাবে বেশকিছু টাকা জমে গিয়েছিলো। কেউ অবশ্য তাঁকে কিছু বলতোনা, উল্টো ভালোবাসতো তারঁ ব্যক্তিত্বের জন্য।

একবার বাকির টাকা কবে পরিশোধ করবেন এটা নিয়ে ঠাট্টার ছলে একটা প্রশ্ন করা হয় তাঁকে। ফরিদী জবাবে বলেছিলেন- তিনি পরিশোধ করবেননা।

কারণ জানতে চাইলে ফরিদী বললেন, ‘আমি বাকির টাকা শোধ করতে চাইনা কারণ আমি এই ক্যাম্পাস, ক্যাম্পাসের মানুষ, আলো হাওয়ার কাছে চিরজীবন ঋণী থেকে যেতে চাই।’ :

ঋণী রয়েই গেছেন ফরিদী।
জাবিও ঋণী রয়ে গেছে তাঁর কাছে….
ঋণী রয়েছে এই দেশটাও।

পাকিস্তানের করাচীর ওপর দিয়ে ফ্লাইট বলে তিনি দুবাই সফর বাতিল করে দিয়েছিলেন।
করাচী, একাত্তরের রক্তমাখা পাকিস্তানের প্রাণের শহর…সুতরাং, যাওয়ার প্রশ্নই আসেনা!

পরে দুবাই প্রবাসীরা সম্মান জানিয়ে ফ্লাইটের রুট চেঞ্জ করে তাঁকে নিয়ে যান।

জাবিতে তখন প্রচুর পাখি শিকার হতো। ফরিদী সঙ্গে ক’জন উৎসাহী ছেলেপুলে নিয়ে অতিথি পাখির এই অবৈধ শিকার বন্ধ করতে রাস্তায় নামলেন।

আস্তে আস্তে শিকার বন্ধ হয়ে আসে।

তারপরও হঠাৎ ধরা পড়লেন দু’জন। ছেলেরা তাদের এনে আটকে রাখলো ফরিদীকে দেখাবে বলে। ফরিদী শাস্তি কি দেন সেটাই দেখার বিষয়।

মজার ব্যাপার হলো হুমায়ুন ফরিদী লোকদু’টির অসহায় অবস্থা দেখে বেশ কষ্ট পেলেন। পরে একসঙ্গে ক্যান্টিনে খাওয়াদাওয়া করেছিলেন তাঁদের নিয়ে।

তাঁর ব্যবহারে শিকারী দু’জনও জন্মের মত শুধরে যান।

শোনা যায়, টাকা চাইতে এলে কাউকে ফেরাতেননা। এমনকি ফেরত নেয়ার কথাও মনে রাখতেননা।

হয়তো ইচ্ছা করেই। নিজের ছাত্রজীবনে যে আর্থিক কষ্ট পেয়েছেন, শেষবয়সে এসে চেয়েছেন মানুষের সেই কষ্টটা দূর করে দিতে, মুখে হাসি আনতে….

নিজে অবশ্য জীবনে খুব বেশি সুখ পাননি। কেমন যেন নীরবেই চলে গেলেন এক কুয়াশাভরা ফেব্রুয়ারির দিনে।

বেঁচে থাকলে হয়তো বা রাস্তার মোড়ের কোন চায়ের দোকানে দেখা হয়েই যেতে পারতো।

আমাদের একজন হুমায়ুন ফরীদি ছিলেন, হুমায়ুন ফরীদি আমাদের মাঝে বেঁচে থাকবেন অনন্তকাল হৃদয় গভীরের শ্রদ্ধা ভালবাসায় সিক্ত হয়ে।

শুভ জন্মদিন কিংবদন্তী।

ছবি: গুগল

প্রাণের বাংলায় প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। লেখা সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় প্রাণের বাংলা বহন করবে না। প্রাণের বাংলার কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না তবে সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করতে পারবেন । লেখা সংক্রান্ত কোনো অভিযোগ অথবা নতুন লেখা পাঠাতে যোগাযোগ করুন [email protected]