শুভ জন্মদিন চে গুয়েভারা

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

কী ঘটতো ১৯২৮ সালের ১৪ জুন তিনি জন্মগ্রহন না করলে? তাঁর বদলে যদি জন্ম নিতো মাথামোটা, লুটেরা স্বৈরশাসক, বেশ্যার দালাল, ঘুষখোর সরকারী আমলা, নির্লজ্জ মিথ্যুক? তাহলে হয়তো পৃথিবীর রাজনৈতিক ইতিহাস অনেকটাই অন্যভাবে লেখা হতো। আমরা শুনতে পেতাম না সেই কথাটা-‘মাই ডিফিট উড নট মিন দ্যাট ভিকটরি ইজ আনএটেইনেবল’।

আমরা জানতে পারতাম না আগুন জ্বালবার সাহস সবার থাকে না। জানতে পাতাম না পৃথিবীজুড়ে সব শোসকের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে, সব মিথ্যার মিতালিকে আঙুলের তুড়িতে ভেঙে দিয়ে কেউ এত অনায়াশে মিশে যেতে পারেন শোষিত মানুষের অধিকার আদায়ের লড়াইয়ে। সেই মানুষটির নাম অর্নেস্টো চে গুয়েভারা। যিনি বিপ্লবের মঞ্চে জীবনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত একরোখা প্রদীপশিখার মতো জ্বলতে জ্বলতে প্রমাণ করেছিলেন কেউ কেউ বেঁচে থাকেন কেবল বিপ্লবের জন্যই।

আজ চে গুয়েভারার ৯১তম জন্মদিনে প্রাণের বাংলার পক্ষ থেকে তাঁর স্মৃতির প্রতি জানাই গভীর ভালোবাসা।

১৯৬৭ সালের ৯ অক্টোবর আর্নেস্টো চে গুয়েভারার মৃত্যু সংবাদ এসে পৌঁছায় আমেরিকায়। চে-র ‘নির্বাচিত রচনা’-এর সম্পাদক ও  চে বিশেষজ্ঞ জন জেরাসি তাঁর স্মৃতিচারণায় লিখেছিলেন, ‘পরের দিন সানফ্রান্সিকো স্টে কলেজে ক্লাস নিতে ঢুকছি-বিষয়বস্তু, তৃতীয় বিশ্বে  জাতীয়তাবাদ ও বিপ্লব। একটি উনিশ বছরের মেয়ে অশ্রুসিক্ত চোখে আমার সামনে এসে দাঁড়ালো।‘খবরটা সত্যি নয় তাই না? চে কিছুতেই মারা যেতে পারে না-পারে কি।’ সেদিনের ক্লাসে আমরা চেকে নিয়েই আলোচনা করেছিলাম। আশ্চর্যের বিষয়, আমরা কেউ সেই মুহূর্তে চে’র মৃত্যুর খবরটা বিশ্বাস করিনি।১৯৬৭ সালের অক্টোবর মাসে কিছু সাম্রাজ্যবাদের দালাল ছাড়া আর কেউ চাননি চে গুয়েভারাকে মৃত দেখতে। কারণ তারা বিশ্বাস করতেন সেই মানুষটি তাদের মুক্তির জন্য নিজেকে উৎসর্গ করেছেন।’

চে গুয়েভারাকে খুন করা হয়েছিলো বলিভিয়ায়। কিন্তু তাকে কি মুছে ফেলা সম্ভব হয়েছে? আর্জেন্টিনার রোসারিও শহরে জন্ম নেয়া এই মানুষটি বিপ্লবের নিয়তির মতো এতগুলো দশকে মানুষকে জানিয়ে দিতে বার বার ফিরে এসেছেন যে, বিপ্লব মৃত্যুহীন। চে একবার বলেছিলেন ‘পৃথিবীতে যে কোনো অন্যায় সংঘটিত হলে তুমি যদি ক্রোধে জ্বলে ওঠো তাহলে জানবে আমরা কমরেড’। তিনি কমরেড হয়েই বেঁচে থাকলেন পৃথিবীজুড়ে মুক্তিকামী মানুষের হৃদয়ে।

ছোটবেলা থেকেই কিছুটা রুগ্ন স্বাস্থ্য ছিলো চে গুয়েভারার। অ্যাজমার রোগি ছিলেন। ছোটবেলায় অ্রাজমায় আক্রান্ত হলে বাড়িতে বসে বই পড়তেন। তাঁর বাবার ছিলো বিশাল বইয়ের সংগ্রহ।মাত্র চৌদ্দ বছর বয়সে তিনি ফ্রয়েড পড়ে ফেলেছিলেন। মায়ের কাছ থেকে ফরাসী ভাষা শিখে পড়তেন ফরাসী কবিতা। কবিতার একনিষ্ঠ প্রেমিক চে কবি হতেও চেয়েছিলেন।

ছিলেন চিকিৎসাবিজ্ঞানের ছাত্র। পেশা হিসেবে বেছে নিয়েছিলেন চিকিৎসকের জীবন। ছাত্র বয়সে মটোর সাইকেলে চড়ে লাতিন আমেরিকা ভ্রমণ করেন। সেই সময়ে সাধারণ মানুষের দুঃখ আর বঞ্চনাকে খুব কাছে থেকে পর্যবেক্ষণ করেন তিনি। বদলে যেতে শুরু করে তাঁর জীবনের পথ।

চে গুয়েভারার বিপ্লবী জীবনের সূচনা হয় কিউবার আনেক অগ্নিপুরুষ ফিদেল কাস্ত্রোর সান্নিধ্যে এসে। কিউবার স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশ নেন চে। জয়ী হয়ে সে দেশের বাণিজ্য মন্ত্রীর আসনে বসেন। কিন্তু বিপ্লবের হাওয়া ছিলো তাঁর চিরসঙ্গী। যুদ্ধের মাঠ তাকে ডেকেছে যেন আগুনের সুরে। আবার বের হয়ে পড়েন তিনি। ল্যাটিন আমেরিকাসহ আফ্রিকায় সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে বিপ্লবের আগুন ছড়িয়ে দিতে শুরু করেন লড়াই। সে লড়াই নিভিয়ে দেয় তাঁর জীবনপ্রদীপ। বিপ্লবের এই অকম্পিত শিখা নিভে যায় দক্ষিণ আমেরিকার বলিভিয়ায়। সিআইএ-এর এজেন্ট এবং বলিভিয়ার সেনাবাহিনীর হাতে ধরা পড়েন আহত চে গুয়েভারা। তাকে নৃশংস ভাবে খুন করা হয় ১৯৬৮ সালের ৯ অক্টোবর।

চে গুয়েভারা জন্ম না নিলে বিপ্লবের আগুনের সুর বারংবার পৃথিবীর মানুষকে জানিয়ে যেতো না বিজয় অসম্ভব নয়।

ইরাজ আহমেদ

ছবিঃ গুগল

প্রাণের বাংলায় প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। লেখা সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় প্রাণের বাংলা বহন করবে না। প্রাণের বাংলার কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না তবে সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করতে পারবেন । লেখা সংক্রান্ত কোনো অভিযোগ অথবা নতুন লেখা পাঠাতে যোগাযোগ করুন [email protected]