শুভ জন্মদিন নেলসন ম্যান্ডেলা

আবদুল্লাহ আল মোহন

ফিরে দেখার মতোই এক জীবন। ২৭ বছর কারাগারের অন্ধকারে কাটিয়েছেন। লড়াই করেছেন গোটা জীবন আফ্রিকার নির্যাতিত কালো মানুষদের অধিকার আদায়ে। আবার সেই অধিকার আদায়ের লড়াইয়ে জয়ী হয়ে দক্ষিণ আফ্রিকার রাষ্ট্রপতির আসনেও বসেছেন। তিনি নেলসন ম্যান্ডেলা। ফিরে দেখার মতোই তো তাঁর জীবন।
নেলসন ম্যান্ডেলা ১৯১৮ সালের ১৮ জুলাই জন্মগ্রহণ করেন। আজ তাঁর শততম জন্মদিনে প্রাণের বাংলার পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা জানাই।
দক্ষিণ আফ্রিকার বর্ণবাদবিরোধী আন্দোলনের মহান নেতা, অনুকরণীয় মানবতাবাদী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব নেলসন ম্যান্ডেলা। মানবতাবাদী নেলসন ম্যান্ডেলা দক্ষিণ আফ্রিকার প্রথম নির্বাচিত রাষ্ট্রপতি এবং এক নোবেল পুরস্কার বিজয়ী নাগরিক। ম্যান্ডেলার জন্ম ১৯১৮ সালের ১৮ জুলাই। উল্লেখ্য যে, তিনি ২০১৩ সালের ৫ ডিসেম্বর ৯৫ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন।
‘অ্যাপার্থাইড’ নামে পরিচিত দক্ষিণ আফ্রিকার বর্ণবৈষম্যের বিরুদ্ধে লড়াই-এর কারণে ২৭ বছর জেল খেটেছেন নেলসন ম্যান্ডেলা। ১৯৯০ সালে কারাগার থেকে মুক্তি লাভ করেন, এর চার বছর পর দক্ষিণ আফ্রিকার রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। মাত্র এক মেয়াদে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেন তিনি, যা আফ্রিকার রাজনীতিতে বিরল এক ঘটনা। দক্ষিণ আফ্রিকাবাসীর মতো বিশ্ববাসীও আজ মনে করবে এই মহানায়ককে।
‘‘এই পৃথিবীকে যে রকম দেখছ, তোমাকে সেটাই মেনে নিতে হবে- এমন কোন কথা নেই। আমাদের কাজ হবে আমরা যে রকম পৃথিবী চাই, যে পৃথিবী আমাদের পছন্দ, তা খুঁজে নেয়া’’। এ উক্তিটি ম্যান্ডেলার। আজকের তরুণ সমাজকে সুন্দর বিশ্ব গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছিলেন তিনি। জীবন্ত কিংবদন্তি নেলসন ম্যান্ডেলা সারাবিশ্বের সকল ধর্ম, বর্ণ, গোষ্ঠী, জাতির কাছে অন্যায়ের প্রতিবাদের এক মূর্ত প্রতীক।
সংগ্রামটা শুরু করেছিলেন সেই ২২ বছর বয়সে রাজনীতিতে যোগ দেওয়ার মাধ্যমে। ১৯৪৮ সালের পর তিনি দক্ষিণ আফ্র্রিকার ক্ষমতাসীন ন্যাশনাল পার্টির বর্ণবাদ নীতির বিরুদ্ধে প্রতিরোধ আন্দোলনে জড়িয়ে পড়েন। তথাকথিত রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে ম্যান্ডেলাকে ১৯৫১ থেকে ১৯৬১ সাল পর্যন্ত বেশ কয়েকবার গ্রেফতার ও বিচার হয়। বিচারে তাকে নির্দোষ বলে রায় দেন আদালত। এরপর তিনি সশস্ত্র সংগ্রামে জড়িয়ে পড়েন। ১৯৬২ সালে আবারও গ্রেপ্তার। তাকে ৫ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। ১৯৬৩ সালে এএনসি ও উমখনতু উইসিজির অনেক নেতা-কর্মীকে গ্রেফতার করা হয়। ১৯৬৪ সালের ১২ জুন আদালত ম্যান্ডেলাসহ তার সহযোগী আটজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন। শ্বেতাঙ্গ শাসনামলে দীর্ঘ ২৭ বছর কারাভোগ করেন তিনি। ১৯৬২ থেকে ১৯৮৪ পর্যন্ত তিনি কেপটাউনের রোবেন দ্বীপে নির্জন কারাবাসে কাটান। ১৯৮৮ সালে তাকে মূল ভূখণ্ডের ভিক্টর ভাস্টার কারাগারে স্থানান্তর করা হয়। এর মধ্যেই ১৯৮০ সালে ম্যান্ডেলার মুক্তির জন্য আন্দোলন শুরু হয়। ১৯৯০ সালের ১১ই ফেব্র“য়ারিতে তিনি কারামুক্ত হন। এর পর তিনি তাঁর দলের হয়ে দক্ষিণ আফ্রিকার শ্বেতাঙ্গ সরকারের সঙ্গে শান্তি আলোচনা শুরু করেন। অবসান ঘটে দক্ষিণ আফ্রিকায় বর্ণবাদের। ১৯৯৪ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ প্রেসিডেন্ট হিসেবে সির্বাচিত হন। তার আগে ১৯৯৩ সালে বিশ্বশান্তিতে অবদানের জন্য নোবেল পুরস্কার পান তিনি।
১৯৬৪ সালে রিভোনিয়া ষড়যন্ত্র মামলার শুনানি চলাকালে এজলাসে দাঁড়িয়েই অগ্নিঝরা এক বক্তৃতা করেন ম্যান্ডেলা। সেখানে তিনি বলেন, ‘‘’আমি সাদাদের আধিপত্যের বিরুদ্ধে লড়াই করেছি এবং আমি কালোদের আধিপত্যের বিরুদ্ধে লড়াই করছি। আমি আদর্শিক গণতন্ত্র এবং মুক্ত সমাজের প্রশংসা করি, যেখানে সকল ব্যক্তি শান্তিপূর্ণভাবে সহাবস্থান করবে এবং সমান সুযোগ লাভ করবে। এটি হচ্ছে একটি আদর্শিক অবস্থান, যার মধ্যে দিয়ে বাঁচা দরকার এবং আমি তা অর্জনের আশা করি, কিন্তু এটি এমন এক আদর্শ, যদি প্রয়োজন পড়ে, তার জন্য আমি জীবন দিতেও প্রস্তুত’’।

ছবিঃ গুগল